বিভিন্ন ছেলের সঙ্গে সম্পর্ক রাখায় মেয়েকে হত্যা করলেন বাবা-মা

খুলনা নগরীর প্রান্তিকা আবাসিক এলাকায় বস্তাবন্দী অবস্থায় এক কিশোরীর মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। ঘটনার তদন্তে নিহত কিশোরীর মা আরিফা ইয়াসমিন সিমাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে তিনি মেয়েকে হত্যার কথা স্বীকার করেছেন বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এ ঘটনায় নিহতের বাবা মো. আলিম হোসেন আকাশকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
বিজ্ঞাপন
শনিবার (১১ জুলাই) আয়োজিত এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের পক্ষ থেকে মামলার অগ্রগতি তুলে ধরা হয়।
পুলিশ জানায়, ঘটনার পরপরই প্রযুক্তিগত তথ্য, সিসিটিভি ফুটেজ এবং গোয়েন্দা তথ্য বিশ্লেষণ করে তদন্ত শুরু করা হয়। তদন্তের ধারাবাহিকতায় নিহতের পরিচয় শনাক্ত হওয়ার পর হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটনে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি আসে।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, গত ৮ জুলাই রাত প্রায় ৯টার দিকে প্রান্তিকা আবাসিক এলাকার ৩ নম্বর সড়কে একটি প্লাস্টিকের বস্তার ভেতর অজ্ঞাত পরিচয়ের এক কিশোরীর মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়রা পুলিশকে খবর দেন। পরে ঘটনাস্থলে পৌঁছে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।
বিজ্ঞাপন
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
প্রাথমিকভাবে নিহতের পরিচয় জানা না গেলেও তদন্তকারীরা সিসিটিভি ফুটেজ, তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তা এবং বিভিন্ন সূত্র থেকে পাওয়া তথ্য বিশ্লেষণ করে মরদেহটির পরিচয় নিশ্চিত করেন। পরে নিহতের পরিচয় শনাক্ত হলে গত শুক্রবার (১০ জুলাই) পুলিশ বাদী হয়ে সদর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করে।
তদন্তে জানা যায়, নিহত কিশোরীর নাম আরফানা হোসেন নির্জনা (১৬)। এরপর তার মা আরিফা ইয়াসমিন সিমাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে নেওয়া হয়। শুরুতে তিনি ঘটনাটি সম্পর্কে বিভ্রান্তিকর তথ্য দিলেও পরে জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে হত্যার দায় স্বীকার করেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে আরিফা ইয়াসমিন সিমা জানিয়েছেন, বিভিন্ন ছেলের সঙ্গে মেয়ের সম্পর্ক নিয়ে পরিবারে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। সেই পারিবারিক বিরোধের একপর্যায়ে তিনি মেয়েকে হত্যা করেন। পরে মরদেহ প্লাস্টিকের বস্তায় ভরে প্রান্তিকা আবাসিক এলাকার একটি সড়কে ফেলে রেখে ঘটনাটিকে অন্যদিকে প্রবাহিত করার চেষ্টা করা হয়।
বিজ্ঞাপন
তদন্তে আরও উঠে এসেছে, মরদেহ সরিয়ে নেওয়ার কাজে নিহতের বাবাও জড়িত ছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। হত্যার পর বাবা-মা মিলে মরদেহ বস্তাবন্দী করে নির্জন সড়কে ফেলে রেখে চলে যান বলে পুলিশের তদন্তে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। তবে ঘটনার পর থেকেই নিহতের বাবা মো. আলিম হোসেন আকাশ আত্মগোপনে রয়েছেন।
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্ত মায়ের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি কাঠের লাঠি উদ্ধার করা হয়েছে। মামলার গুরুত্বপূর্ণ আলামত হিসেবে এটি জব্দ করা হয়েছে এবং ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দাবি, ঘটনার মাত্র ৩৬ ঘণ্টার মধ্যেই প্রযুক্তিনির্ভর তদন্ত ও ধারাবাহিক অভিযানের মাধ্যমে হত্যার মূল রহস্য উদঘাটন করা সম্ভব হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত অন্য কোনো ব্যক্তি থাকলে তাদের বিরুদ্ধেও আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
পুলিশ জানিয়েছে, পলাতক আলিম হোসেন আকাশকে গ্রেপ্তারের জন্য বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালানো হচ্ছে। একই সঙ্গে মামলার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে এবং তদন্ত শেষে আদালতে পূর্ণাঙ্গ অভিযোগপত্র দাখিল করা হবে।
বিজ্ঞাপন
চাঞ্চল্যকর এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে পরিবারের ভেতর এমন একটি মর্মান্তিক ঘটনার অভিযোগ প্রকাশ্যে আসায় এলাকাজুড়ে শোক ও বিস্ময়ের পাশাপাশি নানা প্রশ্নও তৈরি হয়েছে। পুলিশ বলছে, মামলার প্রতিটি দিক গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে এবং প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনে প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ অব্যাহত থাকবে।








