পূর্বপরিকল্পনা নয়, এসআই আলতাফ হত্যা বিচ্ছিন্ন ঘটনা: র্যাব

সাভারের আমিনবাজারে পুলিশের বিশেষ শাখার (এসবি) উপপরিদর্শক (এসআই) আলতাফ হোসেন হত্যাকাণ্ডকে বিচ্ছিন্ন ঘটনা হিসেবে দেখছে র্যাব। এ ঘটনায় র্যাব-১০ ও র্যাব-৪-এর পৃথক অভিযানে এজাহারভুক্ত আট আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর কারওয়ান বাজারে র্যাব মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান র্যাব-১০-এর অধিনায়ক অতিরিক্ত ডিআইজি মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান।
র্যাব জানায়, গত ৫ সেপ্টেম্বর রাত সাড়ে ৮টা থেকে ১১টার মধ্যে সাভারের আমিনবাজারের বরদেশী এলাকায় একটি প্রাইভেটকারের চালক ও তার সহযোগীদের হামলায় এসআই আলতাফ হোসেন নিহত হন। একটি অটোরিকশা গ্যারেজের সামনে রাখা নিয়ে গ্যারেজ মালিককে মারধরের প্রতিবাদ করাকে কেন্দ্র করেই ঘটনার সূত্রপাত।
গ্যারেজ মালিককে মারধরের প্রতিবাদ, পরে হামলার শিকার এসআই
বিজ্ঞাপন
প্রাথমিক তদন্তের তথ্য তুলে ধরে র্যাব জানায়, হামলাকারীরা গ্যারেজের মালিককে মারধর করলে এসআই আলতাফ হোসেন এর প্রতিবাদ করেন। এ সময় তার ছেলে আরিফুলের সঙ্গেও হামলাকারীদের বাগ্বিতণ্ডা হয়।
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
পরিস্থিতি উত্তপ্ত হলে আলতাফ হোসেন নিজের পরিচয় পুলিশ সদস্য হিসেবে দেন। এতে হামলাকারীরা আরও ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে বলে জানিয়েছে র্যাব।
পরিস্থিতি বুঝতে পেরে প্রাণ রক্ষায় আলতাফ হোসেন তার ছেলের পোশাক কারখানায় আশ্রয় নেন। কিন্তু হামলাকারীরা সেখানে গিয়েও থামেনি। তারা আরও ১৫ থেকে ২০ জন সহযোগীকে ঘটনাস্থলে ডেকে আনে।
পরে কারখানার গেট ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে দেশীয় অস্ত্র ও লাঠিসোঁটা দিয়ে আলতাফ হোসেন ও তার ছেলে আরিফুলকে মারধর করা হয়। এ সময় কারখানার মেশিন ও আসবাবপত্রেও ভাঙচুর চালানো হয়।
বিজ্ঞাপন
গুরুতর আহত অবস্থায় স্থানীয়রা বাবা-ছেলেকে উদ্ধার করে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসক এসআই আলতাফ হোসেনকে মৃত ঘোষণা করেন। তার ছেলে আরিফুলও হামলায় গুরুতর আহত হন।
মামলায় ১৫ জন আসামি
হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় নিহতের স্ত্রী বাদী হয়ে সাভার মডেল থানায় মামলা করেন। মামলায় ১৫ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
মামলার পর আসামিদের গ্রেপ্তারে গোয়েন্দা তৎপরতা শুরু করে র্যাব। এর ধারাবাহিকতায় ৬ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে মুন্সীগঞ্জ সদর থানার লঞ্চঘাট এলাকায় অভিযান চালিয়ে চার এজাহারনামীয় আসামিকে গ্রেপ্তার করে র্যাব-১০।
গ্রেপ্তাররা হলেন—আলাউদ্দিন (২৬), আপন (৩০), জিহাদ (২০) ও ইমরান (২৬)। র্যাব জানিয়েছে, আপন সাভার থানায় দায়ের করা তিনটি মাদক মামলার আসামি।
অন্যদিকে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তা ও গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সাভারের আমিনবাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে আরও চার আসামিকে গ্রেপ্তার করে র্যাব-৪। তারা হলেন—নূর মোহাম্মদ রুদ্র (২৪), মো. রাকিব মিয়া (২৮), ছাব্বির আহমেদ (২৪) ও মো. ওয়াসিম (৪০)।
বিজ্ঞাপন

গ্রেপ্তারদের সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে বলে জানিয়েছে র্যাব। একই সঙ্গে মামলার বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারেও অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
পুলিশ পরিচয়ের কারণে হত্যার দাবি নাকচ র্যাবের
র্যাব-১০-এর অধিনায়ক মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান বলেন, আলতাফ হোসেনকে পুলিশ সদস্য হিসেবে লক্ষ্য করেই হত্যা করা হয়েছে—এমনটি মনে হচ্ছে না।
বিজ্ঞাপন
তার ভাষ্য, এজাহারভুক্ত ১৫ আসামির অধিকাংশেরই কিশোর গ্যাং ও মাদকের সঙ্গে সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া গেছে। হামলার সময় তাদের অনেকে মাদকাসক্ত ছিল বলেও জানান তিনি।
র্যাবের হাতে গ্রেপ্তার আলাউদ্দিন সরাসরি আলতাফ হোসেনের ওপর হামলা চালায় বলে জানানো হয়। জিহাদ চাকু দিয়ে তাকে আঘাত করে গুরুতর জখম করে। আরেক আসামি আপন ওই এলাকার কিশোর গ্যাংয়ের মূল হোতা বলে দাবি র্যাবের। তার বিরুদ্ধে তিনটি মাদক মামলার তথ্য পাওয়া গেছে।
র্যাবের বক্তব্য অনুযায়ী, আপন এসএস পাইপ দিয়ে আলতাফ হোসেনের মাথায় আঘাত করে। ইমরানও হামলাকারীদের সঙ্গে ছিল। পুরো দলটিতে আনুমানিক ২৫ থেকে ৩০ জন সদস্য ছিল বলে জানানো হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
অটোরিকশা নিয়ে বিরোধ থেকেই ঘটনার সূত্রপাত
র্যাবের কর্মকর্তার বর্ণনা অনুযায়ী, ঘটনাটি কোনো পূর্বপরিকল্পিত বিরোধের ফল বলে প্রাথমিকভাবে মনে হচ্ছে না। একটি অটোরিকশা গ্যারেজের সামনে রাখাকে কেন্দ্র করে ঘটনার শুরু।
প্রথমে একটি প্রাইভেটকারে থাকা পাঁচজনের সঙ্গে গ্যারেজ মালিক আবুল কালাম আজাদের বিরোধ হয়। র্যাবের দাবি, ওই পাঁচজন মাদকাসক্ত অবস্থায় ছিলেন এবং গাড়ি থেকে নেমে গ্যারেজের বৃদ্ধ মালিককে থাপ্পড় ও মারধর করেন।
বিজ্ঞাপন
আরও পড়ুন
বিষয়টি দেখে আলতাফ হোসেন এগিয়ে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ ও সমঝোতার চেষ্টা করেন। কিন্তু হামলাকারীরা তার কথায় কর্ণপাত না করে একপর্যায়ে তার ওপরও আক্রমণ শুরু করে।
বিজ্ঞাপন
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে বুঝতে পেরে আলতাফ হোসেন সেখান থেকে দৌড়ে তার ছেলের পোশাক কারখানায় ঢুকে দরজা বন্ধ করে দেন। এরপর হামলাকারীরা এলাকার কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যদের ফোন করে সেখানে ডেকে আনে।
পরে আরও লোকজন যোগ দিলে কারখানার সামনে প্রায় ২৫ জনের মতো মানুষ জড়ো হয় বলে জানায় র্যাব। তারা কারখানার দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে প্রথমে আলতাফ হোসেনের ওপর হামলা চালায়।
বাবার চিৎকার শুনে ছেলে আরিফুল পেছন দিক থেকে এসে তাকে রক্ষা করার চেষ্টা করলে তাকেও হামলার শিকার হতে হয়। তাকে ফেলে দিয়ে মাথায় হাতুড়ি দিয়ে আঘাত করা হয়।
র্যাব জানিয়েছে, হামলায় এসএস পাইপ, চাকু, লাঠিসোঁটা ও অন্যান্য দেশীয় অস্ত্র ব্যবহার করা হয়। এসব অস্ত্রের আঘাতেই আলতাফ হোসেন নিহত এবং তার ছেলে আরিফুল গুরুতর আহত হন।








