Logo

ধানমন্ডিতে দিনে-দুপুরে ডাকাতি, সাবেক সেনাসদস্যসহ গ্রেপ্তার ৯

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১৭:৫২
ধানমন্ডিতে দিনে-দুপুরে ডাকাতি, সাবেক সেনাসদস্যসহ গ্রেপ্তার ৯
ছবি: সংগৃহীত

রাজধানীর ধানমন্ডিতে অস্ত্রের মুখে ৩৮ লাখ টাকা ডাকাতির ঘটনায় নয়জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে তিনজন অবসরপ্রাপ্ত সেনাসদস্য। তাদের কয়েকজন অতীতে র‍্যাবেও কর্মরত ছিলেন বলে জানিয়েছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)।

বিজ্ঞাপন

রবিবার (৬ সেপ্টেম্বর) সকালে রাজধানীর মিন্টো রোডে ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান যুগ্ম কমিশনার (ক্রাইম) মো. ফারুক হোসেন।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন তানভীর আবেদীন (৪১), মো. মজিবুর রহমান (৬০), মো. জাকির হোসেন ওরফে ক্যাপ্টেন জাকির (৬০), মো. সোলায়মান মৃধা (৫৫), মোহাম্মদ কবির হোসেন (৫০), আবুল কালাম আজাদ (৫০), মো. জাকারিয়া হোসেন ওরফে লেলিন (৪০), সজল চৌধুরী (৩১) ও সায়মুন চৌধুরী (৩৩)।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

ডিএমপির যুগ্ম কমিশনার জানান, গত ৩০ আগস্ট দুপুর আনুমানিক ২টা ১০ মিনিটে ধানমন্ডি মডেল থানার ১২ নম্বর সড়কে ডিঙ্গি রেস্টুরেন্টের সামনে খোরশেদ আলম নামের এক ব্যক্তির কাছ থেকে অস্ত্রের মুখে ৩৮ লাখ টাকা নিয়ে যায় ৮ থেকে ১০ জনের একটি দল।

টাকা নিয়ে পালানোর সময় ধানমন্ডি মডেল থানা পুলিশ ও স্থানীয়দের সহায়তায় তানভীর আহমেদ জুয়েল ও মো. মুজিবুর রহমানকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তাদের কাছ থেকে চার রাউন্ড গুলিসহ একটি দেশীয় রিভলভার উদ্ধার করা হয়।

বিজ্ঞাপন

পরে মুজিবুর রহমান ও তানভীরের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে দক্ষিণখান এলাকায় অভিযান চালিয়ে মো. জাকির হোসেন ওরফে ক্যাপ্টেন জাকিরকে গ্রেপ্তার করা হয়।

এরপর গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্য এবং তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় পটুয়াখালী, কুয়াকাটা বাসস্ট্যান্ড, মোহাম্মদপুর, বায়তুল মোকাররমসহ বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালানো হয়। এসব অভিযানে ডাকাত চক্রের আরও ছয় সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তার মো. জাকারিয়া হোসেন ওরফে লেলিনের কাছ থেকে লুট হওয়া ৩ লাখ ৪৫ হাজার ৩৫০ টাকা উদ্ধার করা হয়েছে। সজল চৌধুরীর কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে আরও ২ লাখ টাকা।

বিজ্ঞাপন

সব মিলিয়ে ৫ লাখ ৭৫ হাজার ৩৫০ টাকা উদ্ধার করে জব্দ করেছে পুলিশ। পলাতক ও ডাকাত দলের অজ্ঞাতনামা অন্য সদস্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছেন মো. ফারুক হোসেন।

এ ঘটনায় ধানমন্ডি মডেল থানায় একটি ডাকাতি মামলা ও একটি অস্ত্র মামলা করা হয়েছে। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের কয়েকজনের বিরুদ্ধে আগে থেকেই একাধিক মামলা থাকার তথ্যও জানিয়েছে পুলিশ।

ডিএমপির তথ্য অনুযায়ী, তানভীর আহমেদ জুয়েলের বিরুদ্ধে ডাকাতি ও ছিনতাইয়ের ঘটনায় চারটি মামলা রয়েছে। সজল চৌধুরীর বিরুদ্ধে একই ধরনের ঘটনায় ছয়টি মামলা পাওয়া গেছে।

বিজ্ঞাপন

জাকারিয়া হোসেনের বিরুদ্ধে মাদক, হত্যা ও হত্যাচেষ্টার ঘটনায় দুটি মামলা রয়েছে। আবুল কালাম আজাদের বিরুদ্ধেও তিনটি মামলা রয়েছে।

গ্রেপ্তার নয়জনের মধ্যে তিনজন অবসরপ্রাপ্ত সেনাসদস্য বলে জানিয়েছেন যুগ্ম কমিশনার। তাদের কয়েকজন আগে র‍্যাবেও কর্মরত ছিলেন।

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, মো. মুজিবুর রহমান বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সার্জেন্ট পদ থেকে অবসর নিয়েছেন। মোহাম্মদ জাকির হোসেন ওরফে ক্যাপ্টেন জাকির অনারারি ক্যাপ্টেন পদ থেকে অবসর নেন। আর মো. সোলায়মান বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সিনিয়র ওয়ারেন্ট অফিসার পদ থেকে অবসর গ্রহণ করেছেন।

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

ব্রিফিংয়ে মো. ফারুক হোসেন জানান, ভুক্তভোগী খোরশেদ আলম স্বর্ণ কেনার উদ্দেশ্যে টাকা নিয়ে চক্রটির সদস্যদের সঙ্গে ধানমন্ডির একটি স্থানে দেখা করতে যান।

বিজ্ঞাপন

স্বর্ণের লেনদেনের সময় পরিকল্পনা অনুযায়ী তাকে রিকশায় করে ধানমন্ডির ডিঙ্গি রেস্টুরেন্টের সামনে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে আগে থেকেই লেলিনের নেতৃত্বে চার-পাঁচজনের একটি দল অবস্থান করছিল।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, লেলিনের দলের দেওয়া সংকেত পেয়ে অন্য সদস্যরা রিকশাটির পথ আটকে দেন। পরে ভুক্তভোগীর কাছ থেকে টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি তাকে মারধর করা হয়। একপর্যায়ে কয়েকজন মোটরসাইকেলে করে লুটের টাকা নিয়ে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।

পুলিশ বলছে, চক্রটির কয়েকজন স্বর্ণ কেনাবেচার সঙ্গে জড়িত। তারা স্বর্ণ কিনতে আগ্রহী ক্রেতা সংগ্রহ করে তাদের জানায়, তাদের কাছে স্বর্ণ রয়েছে। এরপর ক্রেতাকে টাকা নিয়ে আসতে বলা হয়।

বিজ্ঞাপন

ক্রেতার সঙ্গে একটি স্থানে বসে আলোচনা করার পর স্বর্ণ ও টাকার বিনিময়ের জন্য অন্য জায়গায় যাওয়ার পরিকল্পনা করা হয়। সেই সুযোগেই পূর্বপরিকল্পিতভাবে ডাকাতি করা হতো বলে জানিয়েছেন ডিএমপির এই কর্মকর্তা।

জেবি/এএস

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD