৯ হাজার মুখোশ ও ককটেল তৈরির সরঞ্জামসহ যুবলীগ নেতা গ্রেপ্তার

রাজধানীর যাত্রাবাড়ী থানার সামনে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় জাহিদ হাসান ইমন (৩০) নামে এক যুবলীগ নেতাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) ভোরে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার বাগাশুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে শ্যামপুর মডেল থানা পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে। ইমন লালবাগের ২৬ নম্বর ওয়ার্ড যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক বলে জানিয়েছে পুলিশ।
বিজ্ঞাপন
এ সময় তার কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ বিস্ফোরক, ককটেল তৈরির সরঞ্জাম ও ৯ হাজার কাগজের মুখোশ উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
শুক্রবার বিকেলে রাজধানীর মিন্টো রোডে ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের যুগ্ম কমিশনার (ক্রাইম প্রিভেনশন-সাউথ) মো. তোফায়েল আহমেদ মিয়া।
মো. তোফায়েল আহমেদ মিয়া বলেন, গত ১৯ সেপ্টেম্বর যাত্রাবাড়ী থানার সামনে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। ঘটনাটি তদন্তে ওয়ারী বিভাগের যাত্রাবাড়ী, শ্যামপুরসহ সংশ্লিষ্ট থানা পুলিশ সমন্বিতভাবে কাজ শুরু করে। তদন্তের একপর্যায়ে জাহিদ হাসান ইমনের সংশ্লিষ্টতার বিষয়ে তথ্য ও সাক্ষ্য-প্রমাণ পাওয়া যায়। এরই ধারাবাহিকতায় শ্যামপুর মডেল থানা পুলিশ শুক্রবার ভোরে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের বাগাশুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে জাহিদ হাসান ইমনকে গ্রেফতার করে। অভিযানে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানা-পুলিশ সহায়তা করে।
বিজ্ঞাপন
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
ডিএমপির যুগ্ম কমিশনার আরও বলেন, ইমনের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তার ভাড়া বাসা থেকে ককটেল তৈরিতে ব্যবহৃত কস্টিক সোডা ১ কেজি ৫০০ গ্রাম, সালফার ১ কেজি ৬০০ গ্রাম, মারবেল ৫ কেজি, ১ ইঞ্চি দৈর্ঘ্যের তারকাঁটা ২ কেজি, ককটেল মোড়ানোর কাজে ব্যবহৃত লাল কস্টেপ ২০টি ও কালো কস্টেপ ১১টি, অসৎ উদ্দেশ্যে প্রস্তুতকৃত কাগজের তৈরি ৩ কার্টুনে মোট ৯ হাজার মুখোশ, মুখোশ পরার ইলাস্টিক ৩০ প্যাকেট, ককটেল তৈরির উপাদান বিচূর্ণ করার কাজে ব্যবহৃত একটি ব্লেন্ডার ও একটি জার উদ্ধার করা হয়।
মো. তোফায়েল আহমেদ মিয়া বলেন, গ্রেফতার ইমনের কাছ থেকে উদ্ধার করা মুখোশগুলো মানুষের মুখের আকৃতির। ধারণা করা হচ্ছে, বিভিন্ন মিছিল অথবা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সময় পরিচয় গোপন রাখার জন্য এসব মুখোশ ব্যবহার করা হতো। জিজ্ঞাসাবাদে ইমন জানিয়েছেন, লালবাগের এক নেতার মাধ্যমে অজ্ঞাতপরিচয় এক ভ্যানচালকের সাহায্যে মুখোশগুলো তার কাছে পাঠানো হয়েছে। পরবর্তীতে বিভিন্ন নেতাকর্মীর মধ্যে বিতরণের উদ্দেশ্যে সেগুলো তার বাসায় সংরক্ষণ করা হয়েছিল।
বিজ্ঞাপন
তিনি আরও বলেন, ইমন জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছেন, বিস্ফোরকগুলো দিয়ে ককটেল তৈরি এবং সেগুলো বিভিন্ন জায়গায় ব্যবহার করার কথা ছিল। ওই বাসায় আরও একজন ব্যক্তি আসতেন। ওই ব্যক্তি বিস্ফোরকগুলো গুঁড়ো করে ককটেল তৈরি করতেন। এক নেতার নির্দেশে ইমন এই কাজে যুক্ত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন।
সম্প্রতি রাজধানীতে যেসব ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে এর সঙ্গে ইমন জড়িত কিনা জানতে চাইলে যুগ্ম কমিশনার বলেন, হ্যাঁ, অবশ্যই জড়িত। এই মুখোশগুলো তিনি নিজে তৈরি করেননি। তার বক্তব্য অনুযায়ী, নিষিদ্ধ দলের কোনো বড় নেতার নির্দেশেই তাকে এসব সামগ্রী পাঠানো হয়েছিল।
ককটেল বিস্ফোরণের জন্য কি তিনি টাকা নিতেন—জানতে চাইলে তোফায়েল আহমেদ মিয়া বলেন, তিনি যেহেতু যুবলীগ নেতা, এর সঙ্গে অর্থের বিষয় থাকতে পারে, আবার তিনি নিজের ইচ্ছায়ও এসব করতে পারেন। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
বিজ্ঞাপন
এদিকে আগামী ডিসেম্বরে ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশে ফিরতে পারেন—সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এমন তথ্য ছড়িয়ে পড়ার প্রসঙ্গও সংবাদ সম্মেলনে উঠে আসে। এ পরিস্থিতিতে সামনে বড় ধরনের নাশকতার আশঙ্কা রয়েছে কি না জানতে চাইলে ডিএমপির যুগ্ম কমিশনার বলেন, ককটেল বিস্ফোরণ ও ছোট ছোট মিছিলের ঘটনায় নিষিদ্ধ দলের কিছু লোকের সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যাচ্ছে। তবে ভবিষ্যতে এর মাত্রা কতটা বাড়তে পারে, তা এখনই বলা সম্ভব নয়।
তোফায়েল আহমেদ মিয়া বলেন, আমরা প্রতিদিনই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করছি। এ বিষয়ে পুলিশ সচেতন রয়েছে।








