Logo

চাঁদা দাবির মামলায় যুবদলের বহিষ্কৃত নেতা গ্রেপ্তার

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১৮:০৬
চাঁদা দাবির মামলায় যুবদলের বহিষ্কৃত নেতা গ্রেপ্তার
ছবি: সংগৃহীত

রাজধানীর মোহাম্মদপুরে সেনাবাহিনী ও র‍্যাবের সদস্য পরিচয়ে একটি বাসায় ঢুকে ৫০ লাখ টাকা চাঁদা দাবির মামলায় যুবদলের বহিষ্কৃত নেতা বিএম ইব্রাহিম ওরফে ‘তালা ইব্রাহিমকে’ গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

বিজ্ঞাপন

সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ঢাকা উদ্যান এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। ইব্রাহিম ঢাকা মহানগর উত্তর যুবদলের ৩৩ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক ছিলেন।

পুলিশ জানায়, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর বিভিন্ন অভিযোগ ওঠায় ইব্রাহিমকে যুবদল থেকে বহিষ্কার করা হয়। একই সময়ে বিলুপ্ত করা হয় ৩৩ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের কমিটিও।

তেজগাঁও বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) ইবনে মিজান বলেন, ইব্রাহিমের বিরুদ্ধে থাকা মামলাগুলোর সংখ্যা যাচাই করা হচ্ছে। যাচাই শেষে বিস্তারিত জানানো হবে।

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

মোহাম্মদপুর থানা পুলিশ জানিয়েছে, ইব্রাহিমের বিরুদ্ধে ধর্ষণসহ আরও কয়েকটি মামলা রয়েছে। এছাড়া বিভিন্ন ব্যক্তির বাসায় তালা লাগিয়ে টাকা আদায়ের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এ ধরনের কর্মকাণ্ডের কারণে ঢাকা উদ্যান এলাকায় তিনি ‘তালা ইব্রাহিম’ নামে পরিচিত হয়ে ওঠেন বলে পুলিশ জানিয়েছে।

বিজ্ঞাপন

মামলার নথি অনুযায়ী, গত বছরের ৭ ডিসেম্বর ব্যবসায়ী জাহিদ হাসান মোহাম্মদপুর থানায় ইব্রাহিমসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগে মামলা করেন। মামলায় ইব্রাহিমের পাশাপাশি দীপক নামে একজনকে আসামি করা হয়। আরও ১০ থেকে ১২ জনকে অজ্ঞাতপরিচয় আসামি করা হয়েছে।

এজাহারে বলা হয়, গত বছরের ৫ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় মোহাম্মদপুরের নবীনগর হাউজিংয়ের ৭ নম্বর সড়কে জাহিদ হাসানের বাসায় ১৫ থেকে ২০ জনের একটি দল প্রবেশ করে। তারা নিজেদের সেনাবাহিনী ও র‍্যাবের সদস্য হিসেবে পরিচয় দেয়। সাদা পোশাকে থাকা ওই ব্যক্তিদের কয়েকজনের হাতে ওয়াকিটকিও ছিল।

অভিযোগ অনুযায়ী, বাসায় থাকা লোকজনকে জিম্মি ও মারধর করে তারা ৫০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। একপর্যায়ে জাহিদ হাসানের কাছ থেকে ৪৫ হাজার টাকা নিয়ে যায় তারা। একই সঙ্গে আরও টাকা দেওয়ার জন্য তাকে ভয়ভীতি দেখানো হয়।

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

এ সময় বাসায় থাকা আরেক ব্যক্তির কাছ থেকেও ১২ হাজার টাকা এবং জাহিদ হাসানের হাতঘড়ি নেওয়া হয়। তাদের পরিচয় নিয়ে সন্দেহ তৈরি হলে কৌশলে জাহিদ হাসান মোহাম্মদপুর থানা পুলিশকে ফোন করে বিষয়টি জানান।

বিজ্ঞাপন

পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগের বিষয়টি বুঝতে পেরে ইব্রাহিমসহ অন্যরা বিভিন্ন ধরনের হুমকি দিয়ে বাসা থেকে চলে যায় বলে মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।

পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে বাসার সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে। সাক্ষীদের উপস্থিতিতে আশপাশের লোকজনকে ফুটেজে থাকা ব্যক্তিদের দেখানো হলে তারা ইব্রাহিম ও দীপককে শনাক্ত করেন। পরে তাদের নাম ও মোবাইল নম্বরও সংগ্রহ করা হয়।

মামলাটির তদন্তের ধারাবাহিকতায় সোমবার অভিযান চালিয়ে ইব্রাহিমকে গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশ বলছে, তার বিরুদ্ধে থাকা অন্যান্য মামলার তথ্যও যাচাই করা হচ্ছে।

জেবি/এএস

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD