Logo

কিশোর গ্যাং দমনে শর্টকাট নয়, মূলহোতাদের ধরতে চায় এসআরবি

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১৮:২৮
কিশোর গ্যাং দমনে শর্টকাট নয়, মূলহোতাদের ধরতে চায় এসআরবি
ছবি: সংগৃহীত

কিশোর গ্যাং নির্মূলে শুধু সদস্যদের গ্রেপ্তার নয়, এসব অপরাধী গ্রুপের মূলহোতাদের শনাক্ত করে তাদের কার্যক্রম বন্ধে কাজ করছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। এ ক্ষেত্রে দ্রুত বা শর্টকাট কোনো সমাধান কাঙ্ক্ষিত ফল দেবে না বলে মন্তব্য করেছেন এসআরবি-২-এর অধিনায়ক অতিরিক্ত ডিআইজি নায়মুল হাসান।

বিজ্ঞাপন

সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) বিকেলে রাজধানীর কারওয়ান বাজারে এসআরবির মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, কেরানীগঞ্জ মডেল থানার আরশিনগর এলাকায় পাটালী গ্রুপের সদস্য ফরহাদ হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত তিন নম্বর আসামি এবং আরমান-শাহরুখ গ্রুপের শীর্ষ নেতৃত্বে থাকা সবুজ হোসেন আরমানকে (২১) গ্রেপ্তার করেছে এসআরবি-২। তার কাছ থেকে হত্যায় ব্যবহৃত একটি সামুরাই উদ্ধার করা হয়েছে।

পরে আরমানের ভাড়া বাসায় অভিযান চালিয়ে আরও চারটি সামুরাই উদ্ধার করা হয়। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মোহাম্মদপুরের কাটাসুর এলাকায় শ্রমিকদের অস্থায়ী টিনশেডে অভিযান চালিয়ে একটি বিদেশি পিস্তল ও একটি ম্যাগাজিন উদ্ধার করা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

এসআরবি-২-এর অধিনায়ক নায়মুল হাসান বলেন, গত ১৫ সেপ্টেম্বর কেরানীগঞ্জ মডেল থানার আরশিনগর এলাকার একটি সেলুনে ঢুকে আরমানসহ কয়েকজন সন্ত্রাসী এলোপাতাড়ি গুলি ছোড়ে। পরে চাপাতি দিয়ে পাটালী গ্রুপের ফরহাদকে কুপিয়ে গুরুতর আহত করা হয়। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পর জরুরি বিভাগের চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

বিজ্ঞাপন

এ ঘটনায় নিহত ফরহাদের মা নাছিমা বেগম বাদী হয়ে কেরানীগঞ্জ মডেল থানায় হত্যা মামলা করেন।

হত্যাকাণ্ডের পর আসামিদের গ্রেপ্তারে গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করে এসআরবি-২। এরই ধারাবাহিকতায় ২৮ সেপ্টেম্বর ভোররাতে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে জানা যায়, মামলার তিন নম্বর আসামি আরমান মোহাম্মদপুর থানাধীন বুদ্ধিজীবী ১ নম্বর রোড এলাকায় অবস্থান করছেন। পরে সেখানে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তারের সময় আরমানের কাছ থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত সামুরাই উদ্ধার করা হয়। এরপর তার ভাড়া বাসায় তল্লাশি চালিয়ে চারটি সামুরাই পাওয়া যায়। পরে তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী কাটাসুর এলাকায় রাস্তার কাজে নিয়োজিত শ্রমিকদের অস্থায়ী টিনশেডে অভিযান চালিয়ে বিদেশি পিস্তল ও ম্যাগাজিন উদ্ধার করা হয়।

বিজ্ঞাপন

আরমান-শাহরুখ গ্রুপের আরেক শীর্ষ সদস্য শাহরুখকে গত ১৬ আগস্ট গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। আরমানের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ফরহাদ হত্যাকাণ্ডে জড়িত অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে এসআরবি-২।

এতদিন আরমান কোথায় ছিলেন—সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে নায়মুল হাসান বলেন, বিভিন্ন স্থানে পালিয়ে থাকলেও আরমান ঢাকাতেই অবস্থান করছিলেন। তাকে গ্রেপ্তারের পর হত্যাকাণ্ডের কারণ জানতে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। এ ঘটনায় সাব্বির ও সোহেলসহ অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারেও অভিযান চলছে।

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, আরমানের বিরুদ্ধে মোহাম্মদপুর থানায় দাঙ্গা, চুরি, হত্যাচেষ্টা ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগে পাঁচটি মামলা রয়েছে। এর আগেও তিনি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে একাধিকবার গ্রেপ্তার হয়েছিলেন।

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

আইনের ফাঁক দিয়ে বারবার বেরিয়ে আসার বিষয়ে জানতে চাইলে নায়মুল হাসান বলেন, আমরা প্রত্যাশা করছি, এবার যেন সে আইনের ফাঁক দিয়ে বেরিয়ে আসতে না পারে।

বিজ্ঞাপন

কিশোর গ্যাং নির্মূলের কৌশল নিয়ে তিনি বলেন, এসব গ্রুপের প্রধান বা গুরুত্বপূর্ণ সদস্যদের গ্রেপ্তার করা হলে তাদের কার্যক্রম দুর্বল হয়ে পড়ে। গুরুত্বপূর্ণ সদস্যদের গ্রেপ্তার আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কৌশলের অংশ।

তিনি বলেন, ‘আপনি যদি শর্টকাট সলিউশন চান, এটা ভুল হবে। এ ধরনের গ্রুপ যেন ভবিষ্যতে গড়ে উঠতে না পারে এবং তাদের কার্যক্রম যেন বন্ধ করা যায়, সে বিষয়ে আমাদের পরিকল্পনা আছে।’

এসআরবি-২-এর অধিনায়ক আরও জানান, বিষয়টি নিয়ে তাদের গবেষণা ও উন্নয়ন (আরএনডি) সেল কাজ করছে। খুব শিগগির এসব অপরাধী গ্রুপের কার্যক্রমের পেছনের কারণগুলো চিহ্নিত করে বিস্তৃতভাবে কী ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া যায়, সে বিষয়ে পরিকল্পনা নেওয়া হবে।

জেবি/এএস

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD