Logo

স্কুলছাত্রী তাজমিন হত্যাকাণ্ডে প্রধান আসামি সুমন গ্রেপ্তার

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
৯ অক্টোবর, ২০২৬, ১৬:১২
স্কুলছাত্রী তাজমিন হত্যাকাণ্ডে প্রধান আসামি সুমন গ্রেপ্তার
ছবি: সংগৃহীত

কুমিল্লার লালমাইয়ে ফসলি জমি থেকে স্কুলছাত্রী জান্নাতুল তাজমিনের (১৫) মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় প্রধান আসামি সুমনকে চট্টগ্রাম নগরী থেকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শুক্রবার (৯ অক্টোবর) সকালে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে তাঁকে আটক করা হয়। হত্যাকাণ্ডে অন্য কেউ জড়িত কি না, তা খতিয়ে দেখছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

বিজ্ঞাপন

কুমিল্লার পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, সুমন ওই স্কুলছাত্রীকে বহনকারী সিএনজিচালিত অটোরিকশার চালক। পুলিশের একাধিক দল অভিযান চালিয়ে তাঁকে চট্টগ্রাম নগরী থেকে গ্রেপ্তার করে। পরে তাঁকে নিয়ে কুমিল্লার উদ্দেশে রওনা হন পুলিশ সদস্যরা। সেখানে পৌঁছানোর পর সংবাদ সম্মেলনে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানানোর কথা রয়েছে। তবে সংবাদ সম্মেলনের নির্দিষ্ট সময় নিশ্চিত করেননি পুলিশ সুপার।

এদিকে তাজমিনের মৃত্যুর আগের রাতের চলাচল নিয়ে তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য খুঁজছে পুলিশ। এরই মধ্যে পদুয়ার বাজার এলাকার একটি সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়েছে। ফুটেজে দেখা যায়, বুধবার (৭ অক্টোবর) রাত পৌনে ১২টার দিকে আইকনিক পরিবহনের একটি বাস থেকে নেমে নূরজাহান হোটেলের পশ্চিম পাশে কয়েকটি স্টেশনারি দোকানের দিকে যান তাজমিন।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

একটি দোকানের সামনে দাঁড়িয়ে দোকানির সঙ্গে তাঁকে কথা বলতে দেখা যায়। এ সময় দোকানিকে তাজমিনকে কিছু দেখাতে কিংবা কোনো বিষয়ে দিকনির্দেশনা দিতে দেখা গেছে। পরে তিনি দোকানটির সামনে থেকে সরে অন্য পাশে চলে যান। রাত সোয়া ১২টার দিকে তাঁকে নূরজাহান হোটেল এলাকা ছাড়তে দেখা যায়।

বিজ্ঞাপন

তবে ওই এলাকা থেকে চলে যাওয়ার পর তাজমিন কোন পথে গিয়েছিলেন, তা নিশ্চিত হওয়ার মতো সিসিটিভি ফুটেজ এখনো পাওয়া যায়নি। তাঁর চলাচলের পথ এবং সম্ভাব্য যাতায়াতের মাধ্যম শনাক্ত করতে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে পুলিশ।

পুলিশের এখন পর্যন্ত পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর তাজমিন প্রথমে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় যান। পরদিন কুমিল্লায় ফিরে তিনি কক্সবাজারের উদ্দেশে রওনা হন। ৭ অক্টোবর দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে কক্সবাজার থেকে কুমিল্লার পথে যাত্রা করেন তিনি। রাতে পদুয়ার বাজার এলাকায় পৌঁছে নূরজাহান হোটেলের সামনে বাস থেকে নামেন। এরপর তাঁর অবস্থান ও চলাচল নিয়ে তৈরি হয়েছে একাধিক প্রশ্ন, যার উত্তর খুঁজছে তদন্তকারী দল।

এর আগে বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) সকাল ৮টার দিকে কুমিল্লার লালমাই উপজেলার পেরুল উত্তর ইউনিয়নের জগতপুর উত্তরপাড়ার মানুমুড়া জঙ্গলসংলগ্ন একটি ফসলি জমি থেকে তাজমিনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তাঁর গলায় গামছা পেঁচানো ছিল বলে পুলিশ জানিয়েছে।

বিজ্ঞাপন

নিহত জান্নাতুল তাজমিন যশোর সদর উপজেলার চুড়ামনকাটি ইউনিয়নের ছাতিয়ানতলা এলাকার আবদুল আলীমের মেয়ে। তিনি পরিবারের সঙ্গে কুমিল্লা নগরের রেসকোর্স এলাকার একটি ভাড়া বাসায় থাকতেন।

বৃহস্পতিবার ময়নাতদন্ত শেষে স্বজনেরা তাজমিনের মরদেহ বাড়িতে নিয়ে যান। এর আগে ওই রাতেই লালমাই থানায় মেয়েকে হত্যার অভিযোগে মামলা করেন তাঁর বাবা আবদুল আলীম।

প্রধান আসামিকে গ্রেপ্তারের পর এখন হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত ঘটনা, তাজমিনের শেষ যাত্রাপথ এবং এতে অন্য কারও সম্পৃক্ততা রয়েছে কি না, তা উদ্‌ঘাটনে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে পুলিশ।

জেবি/জেএইচআর

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD