‘হাদির খুনিদের হস্তান্তর না হলে আন্দোলন থামবে না’

ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদির হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের বাংলাদেশের কাছে হস্তান্তর না করা হলে আন্দোলন আরও তীব্র হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন সাবেক যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া।
বিজ্ঞাপন
বৃহস্পতিবার গভীর রাতে রাজধানীর শাহবাগে ওসমান হাদির মৃত্যুর প্রতিবাদে আয়োজিত এক সমাবেশে তিনি এ মন্তব্য করেন। এ সময় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ সমাবেশে অংশগ্রহণ করে বিক্ষোভে যোগ দেন।
সমাবেশে আসিফ মাহমুদ বলেন, হাদিকে যারা হত্যা করেছে, তাদের অবিলম্বে বাংলাদেশের কাছে হস্তান্তর করতে হবে। তা না হলে স্বাধীনতাকামী জনগণের লড়াই কোনোভাবেই থামবে না। এই আন্দোলন সময়ের সঙ্গে আরও কঠোর ও সংগঠিত রূপ নেবে।
বিজ্ঞাপন
তিনি অভিযোগ করেন, শরিফ ওসমান হাদিকে হত্যার মাধ্যমে জনগণের বিরুদ্ধে প্রকাশ্য যুদ্ধ ঘোষণা করেছে নিষিদ্ধ ও পলাতক রাজনৈতিক শক্তি এবং তাদের সহযোগীরা। আসিফ মাহমুদের ভাষায়, “তারা ভুলে গেছে, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে এই দেশের মানুষ রক্ত দিয়ে রাজপথ দখল করেছিল, কিন্তু মাথা নত করেনি।”
সাবেক এই উপদেষ্টা আরও বলেন, ওসমান হাদি যে সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক সংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছিলেন, তা ছিল নিয়মতান্ত্রিক ও গঠনমূলক। সেই লড়াইয়ে সন্ত্রাস, বিশৃঙ্খলা কিংবা সুবিধাভোগী গোষ্ঠীর কোনো জায়গা নেই। হাদির আদর্শ অনুসরণ করেই আন্দোলনকে সামনে এগিয়ে নিতে হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
ছাত্র-জনতার প্রতি আহ্বান জানিয়ে আসিফ মাহমুদ বলেন, সবাইকে ঐক্যবদ্ধ, শান্তিপূর্ণ ও সংগঠিতভাবে আন্দোলন চালিয়ে যেতে হবে। তাঁর কথায়, “হাদির খুনিদের হস্তান্তর না হওয়া পর্যন্ত এই প্রতিবাদ চলবে।”
বিজ্ঞাপন
উল্লেখ্য, ঢাকা-৮ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনী কার্যক্রমে যুক্ত ছিলেন শরিফ ওসমান হাদি। গত ১২ ডিসেম্বর জুমার নামাজের পর পুরানা পল্টনের বক্স কালভার্ট রোড এলাকায় সন্ত্রাসীদের গুলিতে গুরুতর আহত হন। প্রথমে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং পরে এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হলে ১৫ ডিসেম্বর এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে তাকে সিঙ্গাপুরে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৮ ডিসেম্বর তিনি মৃত্যুবরণ করেন।








