যে কারণে কোনো আসনে প্রার্থী হননি ইসলামী আন্দোলনের আমির

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ অংশগ্রহণ করলেও দলটির আমির মুফতি সৈয়দ রেজাউল করীম (পীর সাহেব চরমোনাই) নিজে কোনো আসনে প্রার্থী হননি। দলীয় সূত্র জানায়, সাংগঠনিক কৌশল এবং বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতা বিবেচনা করে তিনি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
বিজ্ঞাপন
দলটির একাধিক শীর্ষ নেতা জানিয়েছেন, আমির দীর্ঘদিন ধরেই ব্যক্তিকেন্দ্রিক রাজনীতির পরিবর্তে নীতিনির্ভর ও আদর্শভিত্তিক রাজনীতিকে প্রাধান্য দিয়েছেন। সে ধারাবাহিকতায় নির্বাচনে অংশগ্রহণের পরিবর্তে তিনি নেতৃত্বের আসনে থেকে সার্বিক নির্বাচন পরিচালনা এবং প্রার্থীদের সমন্বয় নিশ্চিত করতে আগ্রহী ছিলেন।
কেন্দ্রীয় প্রচার ও দাওয়াহ সম্পাদক শেখ ফজলুল করীম বলেন, আমিরের মূল লক্ষ্য ইসলামী শাসনব্যবস্থা ও ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্রব্যবস্থার ধারণাকে জনগণের মাঝে পৌঁছে দেওয়া। তাই দলের সিদ্ধান্তে নির্বাচনে প্রার্থী না হয়ে তিনি নেতৃত্বের দায়িত্বে থেকে দলের সার্বিক তত্ত্বাবধান করছেন। এই মুহূর্তে নেতৃত্বের ভূমিকাই সংগঠনকে শক্তিশালী করার জন্য বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
বিজ্ঞাপন
দলটির শীর্ষ নেতৃত্বের মধ্যে সিনিয়র নায়েবে আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ ফয়জুল করীম বরিশাল-৫ ও ৬, নায়েবে আমির মাওলানা আব্দুল আউয়াল খুলনা-৩, প্রেসিডিয়াম সদস্য সৈয়দ মোসাদ্দেক বিল্লাহ আল মাদানী ঢাকা-৪, মহাসচিব মাওলানা ইউনুস আহমদ খুলনা-৪, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা গাজী আতাউর রহমান গাজীপুর-৫, ইঞ্জিনিয়ার আশরাফুল আলম কুমিল্লা-২, অধ্যক্ষ মাওলানা শেখ ফজলে বারী মাসউদ ঢাকা-১১, সহকারী মহাসচিব কে এম আতিকুর রহমান মুন্সীগঞ্জ-১, মাওলানা আহমদ আব্দুল কাইয়ুম কুমিল্লা-৩, সৈয়দ এসহাক মুহাম্মাদ আবুল খায়ের বরিশাল-৪ এবং সাংগঠনিক সম্পাদক শাহ ইফতেখার তারিক ঢাকা-৯ এ মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন।
বিশ্লেষকের মতে, ইসলামী আন্দোলন নির্বাচনে মাঠে থাকলেও দলের আমিরের প্রার্থী না হওয়া একটি কৌশলগত সিদ্ধান্ত, যা নেতৃত্বকে শক্তিশালী করার পাশাপাশি দলের আদর্শ ও নীতিমালা ধরে রাখার দিকে কেন্দ্রিত।
বিজ্ঞাপন
দল জানিয়েছে, নির্বাচনের মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ দিনে ইসলামী আন্দোলন মোট ২৭২টি আসনে প্রার্থী জমা দিয়েছে, যা দলের প্রস্তুতি ও সংগঠনের কার্যক্রমের গুরুত্বের প্রতিফলন।








