জামায়াত আমিরের যে কথায় আত্মসম্মানে আঘাত লাগে চরমোনাই পীরের

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমিরের ‘একটি কথা’ ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির ও চরমোনাই পীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করীমের আত্মসম্মানে আঘাত করেছে—এমন অভিযোগ তুলেছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। বিষয়টিকে কেন্দ্র করে দুই দলের রাজনৈতিক দূরত্ব আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
বিজ্ঞাপন
শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) রাজধানীর পল্টনে ইসলামী আন্দোলনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে দলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব ও মুখপাত্র গাজী আতাউর রহমান এ অভিযোগ তুলে ধরেন।
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, শুরু থেকেই জামায়াতের আমির চরমোনাই পীরকে অসম্মানজনকভাবে উপস্থাপন করেছেন। একটি জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত জরিপের প্রসঙ্গ তুলে ধরে তিনি যে মন্তব্য করেছেন, তা ইসলামী আন্দোলনের আমিরের প্রতি অবজ্ঞার শামিল বলে দাবি করেন গাজী আতাউর রহমান।
তার ভাষায়, জরিপ দেখিয়ে বলা হয়েছে— ইসলামী আন্দোলন যত আসন পেয়েছে, জরিপে নাকি তার সমর্থন ততটা নেই। এই বক্তব্য তাদের রাজনৈতিক মর্যাদা ও আত্মসম্মানে আঘাত করেছে।
বিজ্ঞাপন
তিনি আরও বলেন, জামায়াতের সঙ্গে জোটবদ্ধ হয়ে নির্বাচনে গেলে ইসলামী আন্দোলনের রাজনৈতিক লক্ষ্য অর্জন সম্ভব নয়। শুধু একটি নয়, একাধিক রাজনৈতিক কারণে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। একই জোটে থাকতে হলে পারস্পরিক সম্মান, আস্থা ও বিশ্বাস থাকা জরুরি, যা বর্তমানে অনুপস্থিত বলে মন্তব্য করেন তিনি।
গাজী আতাউর রহমান অভিযোগ করেন, জামায়াত নেতারা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে জাতীয় সরকার গঠনের কথা বলেছেন। অথচ তারা যে একটি জোটের অংশ, সেই জোটের শরিকদের সঙ্গে এ ধরনের গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে কোনো আলোচনা করা হয়নি।
বিজ্ঞাপন
তার মতে, নির্বাচনের আগেই যদি প্রতিদ্বন্দ্বী দলের সঙ্গে সমঝোতার ইঙ্গিত আসে, তাহলে সেই নির্বাচন কতটা প্রতিযোগিতামূলক ও গ্রহণযোগ্য হবে—তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।
তিনি বলেন, এসব ঘটনায় সুষ্ঠু ও বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন নিয়ে তাদের মধ্যে গভীর আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। আস্থা, বিশ্বাস ও পারস্পরিক শ্রদ্ধার জায়গা ভেঙে গেলে রাজনৈতিক জোট টিকে থাকতে পারে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
বিজ্ঞাপন
জামায়াত ক্ষমতায় গেলে প্রচলিত আইনে রাষ্ট্র পরিচালনার ঘোষণার সমালোচনা করে ইসলামী আন্দোলনের মুখপাত্র বলেন, এতে তাদের আদর্শিক লক্ষ্য পূরণ হবে না। ইসলামের আদর্শ থেকে সরে এসে প্রচলিত আইনে রাষ্ট্র পরিচালনার অবস্থান গ্রহণ করায় জামায়াত আদর্শিক বিচ্যুতির পথে হাঁটছে বলে দাবি করেন তিনি।
তার মতে, জামায়াত নেতৃত্ব ক্ষমতাকে মুখ্য করে দেখছে, যা ইসলামী আন্দোলনের রাজনীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
শেষে তিনি বলেন, জামায়াতের ক্ষমতায় যাওয়ার পথে বাধা সৃষ্টি করা ইসলামী আন্দোলনের লক্ষ্য নয়। তবে আদর্শ ও নীতিগত অবস্থান থেকে ভিন্ন পথে চলতে তারা বাধ্য হয়েছে।








