গুম-হত্যার শিকার পরিবারগুলোর আর্তনাদ শুনে কাঁদলেন তারেক রহমান

আওয়ামী লীগ সরকারের সময় গুম ও বিচারবহির্ভূত হত্যার শিকার ব্যক্তি ও তাদের স্বজনদের হৃদয়বিদারক বক্তব্যে ভারাক্রান্ত হয়ে ওঠে রাজধানীর চীন মৈত্রী আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্র। স্বজন হারানোর বেদনা ও দীর্ঘ অপেক্ষার আর্তনাদ শুনে আবেগ সংবরণ করতে না পেরে কান্নায় ভেঙে পড়েন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
বিজ্ঞাপন
শনিবার (১৭ জানুয়ারি) দুপুরে ‘মায়ের ডাক’ ও ‘আমরা বিএনপি পরিবার’-এর উদ্যোগে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় গুম-খুনের শিকার পরিবারের সদস্যরা তাদের না-বলা কষ্টের কথা তুলে ধরেন। একের পর এক বর্ণনায় সম্মেলন কক্ষে নেমে আসে শোকের নীরবতা।
২০১৩ সালের ২ ডিসেম্বর শাহবাগ এলাকা থেকে নিখোঁজ হওয়া পারভেজের মেয়ে ঋদি কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, বছর পেরোয়, নতুন বছর আসে, কিন্তু বাবার আর ফেরা হয় না। পাঁচ আগস্টের পর দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও তারা প্রিয়জনকে ফিরে পাননি। ছোটবেলা থেকেই বাবার হাত ধরে স্কুলে যাওয়ার স্বপ্ন দেখলেও তা আজও অপূর্ণ রয়ে গেছে বলে জানান তিনি।
বিজ্ঞাপন
একই সভায় মাত্র দুই মাস বয়সে বাবাকে হারানো সাফা তার দীর্ঘ অপেক্ষার কথা তুলে ধরেন। আবেগে ভেঙে পড়ে তিনি বলেন, বাবার কোনো স্মৃতিই নেই তার। এক দশকের বেশি সময় ধরে পরিবারটি বাবার ফেরার আশায় দিন গুনছে, কিন্তু আজও কোনো খোঁজ মেলেনি।
তিন বছর বয়সে বাবাকে হারানো মিম বলেন, সমবয়সীরা যখন বাবার হাত ধরে হাঁটা শেখে, তখন তিনি বাবাকে খুঁজে বেড়িয়েছেন। এসব বর্ণনায় উপস্থিত সবার চোখ ভিজে ওঠে।
সভায় বক্তারা জানান, গত প্রায় ১৭ বছরে গুম ও বিচারবহির্ভূত হত্যার ঘটনায় অসংখ্য পরিবার প্রিয়জন হারিয়েছে। কেউ হারিয়েছেন বাবা, কেউ সন্তান, কেউ ভাই বা স্বামী। তাদের একমাত্র দাবি—ন্যায়বিচার এবং ভবিষ্যতে যেন এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি না হয়।
বিজ্ঞাপন
দীর্ঘ নির্বাসিত জীবন কাটানো বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান শোকাহত পরিবারগুলোর প্রতি গভীর সহমর্মিতা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, গুম ও খুনের বিভীষিকাময় অধ্যায় পেছনে ফেলে দেশ ধীরে ধীরে গণতন্ত্রের পথে এগোচ্ছে। এখনও অনেক সন্তান বাবার ফেরার অপেক্ষায়, অনেক মা সন্তানের ফিরে আসার স্বপ্ন দেখেন—এই বেদনা রাষ্ট্রকে ভুলে গেলে চলবে না।
এক ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্য বলেন, গুম প্রতিরোধে কঠোর আইন প্রণয়ন জরুরি, যাতে ভবিষ্যতে কেউ এমন মানবতাবিরোধী অপরাধ করার সাহস না পায়। সভা জুড়ে ন্যায়বিচার ও দায়ীদের জবাবদিহির দাবি বারবার উঠে আসে।








