বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ের পথে কি হাসনাত আব্দুল্লাহ?

কুমিল্লা-৪ (দেবীদ্বার) আসনে নির্বাচনী সমীকরণে নতুন মোড় এসেছে। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) প্রার্থী মঞ্জুরুল আহসান মুন্সীর মনোনয়নপত্র বাতিল ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। শনিবার (১৭ জানুয়ারি) বিকেলে কমিশনের শুনানি শেষে তার প্রার্থিতা বাতিলের সিদ্ধান্ত জানানো হয়।
বিজ্ঞাপন
এই আসনে ১০ দলীয় নির্বাচনী জোটের প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন এনসিপির আলোচিত নেতা হাসনাত আব্দুল্লাহ। উল্লেখ্য, বিএনপি প্রার্থী মঞ্জুরুল আহসান মুন্সী নিজেও হাসনাত আব্দুল্লাহর মনোনয়নপত্র বৈধতা নিয়ে নির্বাচন কমিশনে আপিল করেছিলেন। তবে কমিশন সেই আপিল নামঞ্জুর করে হাসনাত আব্দুল্লাহর প্রার্থিতা বহাল রাখে।
শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে বিবেচিত বিএনপি প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল হওয়ায় নির্বাচনের আগেই হাসনাত আব্দুল্লাহ সুবিধাজনক অবস্থানে চলে গেছেন বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও স্থানীয় ভোটারদের একটি অংশ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। কেউ কেউ ফেসবুকে পোস্ট দিয়ে বিএনপি প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিলের খবর শেয়ার করে হাসনাত আব্দুল্লাহকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন।
বিজ্ঞাপন
তবে এখানেই চূড়ান্ত পরিণতি নয়। বিএনপি প্রার্থী মঞ্জুরুল আহসান মুন্সীর সামনে এখনও আইনি পথ খোলা রয়েছে। তিনি চাইলে হাইকোর্টে রিট করে মনোনয়ন ফিরে পাওয়ার চেষ্টা করতে পারেন। আদালতের রায়ে তার প্রার্থিতা পুনর্বহাল হওয়ার সম্ভাবনাও পুরোপুরি উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
এ ছাড়া বিএনপি প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল হলেও হাসনাত আব্দুল্লাহ বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হচ্ছেন—এমনটি নিশ্চিত নয়। নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, এই আসনে আরও কয়েকজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছেন। তারা হলেন— ইরফানুল হক সরকার (ইনসানিয়াত বিপ্লব বাংলাদেশ), মোহাম্মদ মজিবুর রহমান (খেলাফত মজলিস), মো. আবু জসিম উদ্দিন (গণঅধিকার পরিষদ–জিওপি) এবং মোফাজ্জল হোসেন (বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস)।
বিজ্ঞাপন
এদিকে জামায়াতে ইসলামীর একজন প্রার্থী প্রথমে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করলেও এনসিপির সঙ্গে নির্বাচনী সমঝোতার কারণে শেষ পর্যন্ত তিনি মনোনয়নপত্র জমা দেননি। হাসনাত আব্দুল্লাহর মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার সময় তার সঙ্গে ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর নেতা সাইফুল ইসলাম শহীদ, যিনি জোটের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ান।
অন্যদিকে খেলাফত মজলিস ও বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশ জোটের শরিক হওয়ায় ভবিষ্যতে তাদের প্রার্থীদের মনোনয়ন প্রত্যাহারের সম্ভাবনাও আলোচনায় রয়েছে। সব মিলিয়ে কুমিল্লা-৪ আসনে শেষ পর্যন্ত কারা মাঠে থাকছেন এবং নির্বাচনী লড়াই কোন দিকে গড়ায়—সেদিকে এখন নজর রাজনৈতিক অঙ্গনের।








