Logo

তারেক রহমানের সঙ্গে জাতীয় কবিতা পরিষদের বৈঠক

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
১৮ জানুয়ারি, ২০২৬, ২০:০২
তারেক রহমানের সঙ্গে জাতীয় কবিতা পরিষদের বৈঠক
ছবি: সংগৃহীত

বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে জাতীয় কবিতা পরিষদের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (১৭ জানুয়ারি) রাত ৮টায় বিএনপির গুলশান কার্যালয়ে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে তারেক রহমানের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাউদ্দিন আহমেদ।

বিজ্ঞাপন

মতবিনিময় সভায় জাতীয় কবিতা পরিষদের পক্ষ থেকে অংশ নেন পরিষদের সভাপতি কবি মোহন রায়হান, সাধারণ সম্পাদক কবি রেজাউদ্দিন স্টালিন, উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য বর্ষীয়ান কবি মতিন বৈরাগী, কবি ও সাংবাদিক আবু সাঈদ খানসহ কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির একাধিক সদস্য। তাঁদের মধ্যে ছিলেন কবি এবিএম সোহেল রশিদ, শ্যামল জাকারিয়া, নুরুন্নবী সোহেল, ইউসুফ রেজা, শাহিন চৌধুরী, আসাদ কাজল, জামসেদ ওয়াজেদ, রোকন জহুর, শিমুল পারভীন ও নাহিদ হাসান।

সভায় সূচনা বক্তব্যে কবি মোহন রায়হান বলেন, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে সামনে রেখে সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে জাতীয় কবিতা পরিষদ কাজ করে যাচ্ছে। শোষণ, নিপীড়ন, দুর্নীতি ও বৈষম্যহীন একটি গণতান্ত্রিক ও অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গড়ে তোলাই তাদের মূল লক্ষ্য। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি জনগণের এই আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে অগ্রণী ভূমিকা রাখবে।

বিজ্ঞাপন

তিনি আরও বলেন, দেশের প্রগতিশীল কবিরা ব্যক্তিগত সুবিধার চেয়ে জনগণের অধিকার, বাকস্বাধীনতা ও কলমের স্বাধীনতাকে বেশি গুরুত্ব দেন। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর সাম্প্রদায়িক উগ্র গোষ্ঠীর তৎপরতা বেড়েছে উল্লেখ করে তিনি অভিযোগ করেন, এসব গোষ্ঠী সাংস্কৃতিক সংগঠন ও গণমাধ্যমের ওপর হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের মতো কর্মকাণ্ডে জড়িত। একই সঙ্গে নারীর ক্ষমতায়ন ও অধিকার ক্ষুণ্ন করার অপচেষ্টাও চলছে। এসব অশুভ শক্তির বিরুদ্ধে কবিরা প্রতিবাদ ও প্রতিরোধ গড়ে তুলতে চান বলে জানান তিনি।

এই প্রেক্ষাপটে ‘সংস্কৃতিবিরোধী আস্ফালন রুখে দেবে কবিতা’ স্লোগানে আগামী ১ ও ২ ফেব্রুয়ারি কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে জাতীয় কবিতা উৎসব ২০২৬ আয়োজনের কথাও তুলে ধরেন মোহন রায়হান। তিনি বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতির বিকাশে ‘কবিতা ভবন’ ও ‘কবিতা একাডেমি’ প্রতিষ্ঠার দাবি জানান এবং একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক, অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে বিএনপি রাষ্ট্রক্ষমতায় এলে কবিদের এই স্বপ্ন বাস্তবায়নে সহযোগিতা মিলবে বলে আশা প্রকাশ করেন।

জাতীয় কবিতা পরিষদের সাধারণ সম্পাদক কবি রেজাউদ্দিন স্টালিন বলেন, অতীতে রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে সংগঠনটি কার্যত দলীয় রূপ পেয়েছিল। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর প্রতিষ্ঠাকালীন কবিরা আবার সংগঠনটিকে স্বাধীন ও প্রগতিশীল সাংস্কৃতিক প্ল্যাটফর্ম হিসেবে গড়ে তোলার উদ্যোগ নিয়েছেন। তিনি জানান, শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর সারাদেশে শিল্প–সংস্কৃতির অঙ্গনকে মুক্ত ও স্বচ্ছ করতে কাজ করছেন। এ সময় তিনি কৃষিকার্ড ও পরিবারকার্ডের পাশাপাশি একটি ‘শিল্পী–সাহিত্যিক কার্ড’ চালুর প্রস্তাবও উত্থাপন করেন।

বিজ্ঞাপন

বর্ষীয়ান কবি মতিন বৈরাগী বলেন, কবিদের মূল দাবি একটাই—মতপ্রকাশ ও লেখার স্বাধীনতা নিশ্চিত করা। অন্যদিকে লেখক ও সাংবাদিক আবু সাঈদ খান বলেন, সাংবাদিকতা এখনো মালিকপক্ষ ও সরকারের দ্বিমুখী চাপের মুখে রয়েছে, যা স্বাধীন ও নিরপেক্ষ গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠার পথে বড় বাধা। তিনি দলনিরপেক্ষ ও স্বাধীন সাংবাদিকতার পৃষ্ঠপোষকতা প্রত্যাশা করেন।

সব বক্তব্য শোনার পর তারেক রহমান বলেন, পুরনো চিন্তা ও সীমাবদ্ধতার বাইরে এসে জনগণের স্বপ্নের বাংলাদেশ গড়তে হবে, যেখানে সবার অধিকার নিশ্চিত থাকবে। তিনি জানান, বিএনপির পরিকল্পনায় শিক্ষা ব্যবস্থায় নাচ, গান, কবিতা, আবৃত্তি ও খেলাধুলাসহ শিল্পকলার বিভিন্ন বিষয় অন্তর্ভুক্ত করার চিন্তা রয়েছে। নতুন কুঁড়ি অনুষ্ঠানকে বহুমাত্রিক ও প্রতিযোগিতামূলক আকারে ফিরিয়ে আনার কথাও উল্লেখ করেন তিনি।

বিজ্ঞাপন

তারেক রহমান আরও বলেন, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান বহুদলীয় গণতন্ত্র ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা পুনঃপ্রতিষ্ঠায় ঐতিহাসিক ভূমিকা রেখেছিলেন। তাঁর সময়ে বাংলা একাডেমি, শিল্পকলা একাডেমি, শিশু একাডেমি ও নজরুল ইনস্টিটিউটসহ সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানগুলোর উন্নয়ন ঘটেছিল। একই ধারাবাহিকতায় বেগম খালেদা জিয়া নারীশিক্ষা, নারীকল্যাণ এবং শিল্প–সাহিত্য–সংস্কৃতির বিকাশে উদার পৃষ্ঠপোষকতা দিয়েছেন বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

তিনি বলেন, জনগণের রায়ে রাষ্ট্র পরিচালনার সুযোগ পেলে কবিতা ভবন বা কবিতা একাডেমি প্রতিষ্ঠা কোনো কঠিন বিষয় হবে না। দলমতের ঊর্ধ্বে উঠে শিল্প–সাহিত্য–সংস্কৃতির অগ্রগতিতে সর্বাত্মক সহায়তা দেওয়া হবে এবং লেখক, কবি, শিল্পী, সাংবাদিক ও বুদ্ধিজীবীরা যেন স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারেন—সে পরিবেশ নিশ্চিত করা হবে।

সভায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাউদ্দিন আহমেদ বলেন, দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও শিল্প–সাহিত্য–সংস্কৃতিবিরোধী সাম্প্রদায়িক শক্তির বিরুদ্ধে কবি ও সাংস্কৃতিক কর্মীরাই অগ্রণী ভূমিকা রাখতে পারেন। অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত করতে সক্রিয় ভূমিকা নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, এ ক্ষেত্রে বিএনপি জাতীয় কবিতা পরিষদের পাশে থাকবে।

জেবি/এএস
Logo

সম্পাদক ও প্রকাশকঃ

মোঃ শফিকুল ইসলাম ( শফিক )

বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়ঃ ৫৭, ময়মনসিংহ লেন, ২০ লিংক রোড, বাংলামটর, ঢাকা-১০০০।

ফোনঃ 02-44615293

ই-মেইলঃ dailyjanobaninews@gmail.com; dailyjanobaniad@gmail.com

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD