১০ দলীয় জোট: ৪৭ আসন বণ্টনে কতগুলো পাচ্ছে জামায়াত-এনসিপি?

খালি থাকা ৪৭টি আসনে প্রার্থী চূড়ান্ত করতে দুই-এক দিনের মধ্যেই সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে যাচ্ছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১০ দলীয় জোট। রবিবার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও প্রচার-মিডিয়া বিভাগের প্রধান এহসানুল মাহবুব জুবায়ের।
বিজ্ঞাপন
তিনি জানান, ইসলামী আন্দোলন জোটে না আসায় তাদের জন্য সংরক্ষিত থাকা ৪৭টি আসন নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। এ আসনগুলো কীভাবে বণ্টন হবে, সে বিষয়ে খুব শিগগিরই সিদ্ধান্ত নেবে ১০ দলীয় জোট। পাশাপাশি জোটভিত্তিক একটি সমন্বিত নির্বাচনী ইশতেহার প্রকাশের বিষয়টিও বিবেচনায় রয়েছে।
এর আগে ‘১০-দলীয় নির্বাচনী ঐক্য’ ইসলামী আন্দোলনের জন্য ৪৭টি আসন ফাঁকা রেখে ২৫৩টি আসনে নিজেদের মধ্যে সমঝোতা চূড়ান্ত করেছিল। কিন্তু ইসলামী আন্দোলন আলাদা হয়ে যাওয়ায় এখন ওই আসনগুলোতে জোটভুক্ত অন্য দলগুলো প্রার্থী দিতে আগ্রহ দেখাচ্ছে। এ নিয়ে সংশ্লিষ্ট দলগুলোর মধ্যে নতুন করে আলোচনা ও সমন্বয় চলছে।
বিজ্ঞাপন
এহসানুল মাহবুব জুবায়ের জানান, ফাঁকা থাকা আসনগুলোর বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে জোটের লিয়াজোঁ কমিটিকে। কমিটির বৈঠক শেষে দলগুলোর শীর্ষ নেতৃত্ব চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে।
জোট সূত্রে জানা গেছে, অবশিষ্ট ৪৭টি আসনের মধ্যে ৩৫ থেকে ৪০টি আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী দেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সব মিলিয়ে দলটি প্রায় ২০০ থেকে ২১০টি আসনে নির্বাচন করতে পারে। পাশাপাশি জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আসন সংখ্যাও বাড়তে পারে বলে আলোচনা চলছে।
প্রাথমিকভাবে ১১ দলীয় জোটের সম্ভাবনা বিবেচনায় রেখে এনসিপিকে ৩০টি আসন দেওয়া হয়েছিল। বর্তমান পরিস্থিতিতে সেটি বেড়ে ৩৫টি আসন পর্যন্ত হতে পারে বলে ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। এ ছাড়া বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন, এবি পার্টিসহ জোটের অন্য শরিক দলগুলোকেও অতিরিক্ত আসন দেওয়ার বিষয়ে আলোচনা হচ্ছে।
বিজ্ঞাপন
এর আগে গত বৃহস্পতিবার রাতে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে ১০ দলীয় জোট ২৫৩টি আসনে সমঝোতার ঘোষণা দেয়। ঘোষিত তালিকা অনুযায়ী, জামায়াতে ইসলামীর জন্য নির্ধারিত হয় ১৭৯টি আসন, এনসিপি পায় ৩০টি, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ২০টি, খেলাফত মজলিস ১০টি, এলডিপি ৭টি এবং এবি পার্টি ৩টি আসন। এ ছাড়া বিডিপি ও বাংলাদেশ নেজামে ইসলামী পার্টি দুটি করে আসনে প্রার্থী দেওয়ার কথা জানানো হয়।
জোটের অপর দুই শরিক দল—জাগপা ও বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন—কোনো আসনে প্রার্থী না দিলেও নির্বাচনী ঐক্যে অংশীদার হিসেবে থাকবে। নির্বাচনের পর তাদের ভূমিকা ও অবদানের ভিত্তিতে মূল্যায়নের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
বিজ্ঞাপন
সব মিলিয়ে ৪৭টি আসনের বণ্টন চূড়ান্ত হলে ১০ দলীয় জোটের নির্বাচনী প্রস্তুতি আরও সুসংহত হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।








