হর্ষবর্ধন শ্রিংলার মন্তব্য ঘিরে তীব্র প্রতিবাদ জানাল জামায়াত

বাংলাদেশের নির্বাচন ও একটি নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলকে ঘিরে ভারতের সাবেক হাইকমিশনার হর্ষবর্ধন শ্রিংলার সাম্প্রতিক মন্তব্যকে ‘অযাচিত, পক্ষপাতদুষ্ট ও কূটনৈতিক রীতিনীতির পরিপন্থী’ আখ্যা দিয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। দলটির দাবি, একটি স্বাধীন দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক প্রক্রিয়া নিয়ে বিদেশি রাজনীতিবিদের এমন মন্তব্য মোটেও গ্রহণযোগ্য নয়।
বিজ্ঞাপন
রবিবার (২৫ জানুয়ারি) বিকেলে গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে জামায়াত নেতৃবৃন্দ বলেন, বাংলাদেশের নির্বাচন, রাজনৈতিক দল এবং জনসমর্থন নিয়ে শ্রিংলার বক্তব্য সরাসরি দেশের সার্বভৌমত্ব ও গণতান্ত্রিক অধিকারকে খাটো করার শামিল। বিশেষ করে একজন সাবেক কূটনীতিক এবং বর্তমানে ভারতের রাজ্যসভার সদস্য হিসেবে তার কাছ থেকে এমন মন্তব্য অপ্রত্যাশিত।
বিবৃতিতে বলা হয়, দেশের জনগণ কাকে ভোট দেবেন বা কোন দলকে ক্ষমতায় আনবেন, সেই সিদ্ধান্ত একান্তই জনগণের। কোনো বিদেশি ব্যক্তি বা রাজনৈতিক নেতৃত্বের এ বিষয়ে মন্তব্য করার নৈতিক বা কূটনৈতিক অধিকার নেই। ভোটাধিকার প্রয়োগের মাধ্যমে জনগণই তাদের প্রতিনিধি নির্ধারণ করবেন—এটাই গণতন্ত্রের মৌলিক ভিত্তি।
বিজ্ঞাপন
জামায়াত আরও অভিযোগ করে, শ্রিংলার বক্তব্য উদ্দেশ্যমূলক এবং বাস্তবতা বিবর্জিত। এতে রাজনৈতিক পক্ষপাতের ছাপ স্পষ্ট। তার এমন মন্তব্য বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক পরিবেশকে প্রশ্নবিদ্ধ করার পাশাপাশি দুই প্রতিবেশী দেশের পারস্পরিক সম্মান ও সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্কেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
দলটির ভাষ্য, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী একটি বৈধ ও নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল, যারা দীর্ঘদিন ধরে জনগণের অধিকার, ন্যায়বিচার, সুশাসন এবং গণতন্ত্রের পক্ষে কাজ করে আসছে। একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলে জনগণই তাদের প্রকৃত মতামত প্রকাশ করবে—এ ব্যাপারে তাদের কোনো সন্দেহ নেই।
বিজ্ঞাপন
বিবৃতির শেষাংশে ভারতের দায়িত্বশীল মহলের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলা হয়, বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে মন্তব্য বা হস্তক্ষেপ থেকে বিরত থেকে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও কূটনৈতিক সৌজন্য বজায় রাখা উচিত।
উল্লেখ্য, পশ্চিমবঙ্গের দার্জিলিংয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে হর্ষবর্ধন শ্রিংলা বলেন, জামায়াতে ইসলামী অতীতে কখনও অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনে জয়ী হতে পারেনি এবং ভবিষ্যতেও পারবে না। দলটির জনসমর্থন পাঁচ থেকে সাত শতাংশের বেশি নয়। নির্বাচনে অনিয়ম হলে তবেই তারা ক্ষমতায় আসতে পারে—অন্যথায় তা সম্ভব নয়।








