পাঁচটা বছর আপনাদের আমানতের চৌকিদার হতে চাই: জামায়াত আমির

দেশের ক্ষমতায় গিয়ে মালিকানা নয়, বরং জনগণের আমানত রক্ষাকারী হিসেবে দায়িত্ব পালনের প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তার ভাষায়, অতীতের শাসকরা নিজেদের ‘দেশের মালিক’ ভাবলেও জামায়াত জনগণের সেবক হয়ে কাজ করতে চায়।
বিজ্ঞাপন
রবিবার (২৫ জানুয়ারি) রাজধানীর বকশিবাজার আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে আয়োজিত দলের নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সমাবেশে নেতাকর্মী ও সমর্থকদের উপস্থিতিতে তিনি দলের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা, অতীতের অভিজ্ঞতা এবং দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত কথা বলেন।
বক্তৃতার শুরুতেই দলীয় নেতাকর্মীদের ত্যাগের কথা স্মরণ করে আবেগঘন বক্তব্য দেন জামায়াত আমির। তিনি অভিযোগ করেন, বিচারের আড়ালে অবিচারের মাধ্যমে দলের ১১ জন শীর্ষ নেতাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। তাদের মধ্যে পাঁচজনকে ফাঁসি কার্যকর করা হয় এবং বাকিদের কারাগারে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
বিজ্ঞাপন
একজন আন্তর্জাতিকভাবে পরিচিত কোরআন গবেষককেও রহস্যজনকভাবে প্রাণ হারাতে হয়েছে—এমন অভিযোগও তোলেন তিনি।
ডা. শফিকুর রহমান জানান, ২০০৯ সালের পিলখানা হত্যাকাণ্ড থেকে শুরু করে সাম্প্রতিক সময় পর্যন্ত দেশপ্রেমিক সেনাসদস্য ও সাধারণ নাগরিকদের ওপর নানা ধরনের নিপীড়ন-নির্যাতন চালানো হয়েছে। এসব ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে তিনি বলেন, দেশে ন্যায়বিচার ও মানবিক পরিবেশ প্রতিষ্ঠা জরুরি।
আসন্ন নির্বাচন ও সম্ভাব্য গণভোট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়া মানে স্বাধীনতা ও গণতন্ত্রের পক্ষে অবস্থান নেওয়া। তার মতে, দেশে যেন আর কোনো ধরনের স্বৈরশাসন বা ফ্যাসিবাদ ফিরে না আসে, সেজন্য জনগণকে সচেতন সিদ্ধান্ত নিতে হবে। প্রতিহিংসা বা দ্বন্দ্ব নয়—দেশকে সামনে এগিয়ে নেওয়াই তাদের লক্ষ্য।
বিজ্ঞাপন
দুর্নীতির প্রশ্নে কঠোর বার্তা দিয়ে জামায়াত আমির বলেন, ঋণখেলাপি ও দুর্নীতিবাজদের আশ্রয় দিয়ে কোনোদিন সৎ রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে তোলা সম্ভব নয়। লুটপাটের রাজনীতি থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। তাদের লক্ষ্য বিদেশে সম্পদ পাচার বা বিলাসী জীবনযাপন নয়, বরং জনগণের সম্পদ রক্ষা করা।
ক্ষমতায় গেলে কীভাবে কাজ করবেন—এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমরা দেশের মালিক হতে চাই না। আমরা পাঁচটা বছর আপনাদের আমানতের চৌকিদার হয়ে থাকতে চাই। জনগণের সেবক হিসেবেই দায়িত্ব পালন করতে চাই। যেসব দলের কর্মীরা চাঁদাবাজি ও সহিংসতার সঙ্গে জড়িত, তাদের বিষয়ে জনগণকে নতুন করে ভাবতে হবে। জামায়াত রাষ্ট্র পরিচালনার সুযোগ পেলে মানুষের ওপর কর্তৃত্ব ফলানোর বদলে দায়িত্বশীল ও জবাবদিহিমূলক শাসনব্যবস্থা গড়ে তুলবে।








