‘হেভিওয়েট’ রাজনীতিবিদদের দাপট এবার আর টিকবে না: সারজিস আলম

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে দেশের রাজনীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তনের আভাস দেখছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতা ও পঞ্চগড়-১ আসনের প্রার্থী সারজিস আলম। তার দাবি, বহু বছর ধরে নির্বাচনে প্রভাব বিস্তার করে আসা তথাকথিত ‘হেভিওয়েট’ রাজনীতিবিদদের দাপট এবার আর টিকবে না; বরং অনেক পরিচিত মুখ বড় পরাজয়ের মুখোমুখি হবেন।
বিজ্ঞাপন
রবিবার (২৫ জানুয়ারি) বিকেলে পঞ্চগড় সদর উপজেলার অমরখানা ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামে গণসংযোগ ও উঠান বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
সারজিস আলম বলেন, গত বছরের আগস্টে যে আন্দোলন ও পরিবর্তনের ধারা শুরু হয়েছে, তা এখন সাধারণ মানুষের জীবনে স্পষ্টভাবে প্রভাব ফেলছে। মানুষের মধ্যে নতুন প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে এবং তারা ভোটের মাধ্যমে সেই পরিবর্তন আনতে প্রস্তুত। মানুষ আর অন্যায়-অত্যাচার মেনে নিতে রাজি না। ভোটের দিনেই তারা এর জবাব দেবে।
বিজ্ঞাপন
তিনি অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিন ধরে চাঁদাবাজি, দখলদারিত্ব, হুমকি-ধামকি, ক্ষমতার অপব্যবহার ও মামলাবাণিজ্যের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিরাই আবার নির্বাচন সামনে রেখে নিজেদের ভাবমূর্তি পাল্টানোর চেষ্টা করছেন।
সারজিসের বলেন, যারা এতদিন মানুষকে কষ্ট দিয়েছে, তারাই এখন ভালো মানুষের মুখোশ পরে ভোট চাইছে। কিন্তু জনগণ তাদের প্রকৃত চরিত্র বুঝে গেছে। ভোটাররা এবার সচেতন সিদ্ধান্ত নেবে এবং অন্যায়ের সঙ্গে যুক্তদের প্রত্যাখ্যান করবে।
পঞ্চগড়-১ আসনের এই প্রার্থী দাবি করেন, শুধু তার আসনেই নয়, সারাদেশেই সাধারণ মানুষের পক্ষে অবস্থান নেওয়া ১১ দলীয় ঐক্যবদ্ধ জোট ভালো ফল করবে। তার ভাষ্য, ইনসাফ ও সাধারণ মানুষের স্বার্থের রাজনীতি এবার জয়ী হবে। আমরা সরকার গঠনের ব্যাপারে আশাবাদী।
বিজ্ঞাপন
এ সময় বিএনপির কিছু স্থানীয় নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে ভোটারদের ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগও তোলেন তিনি। এ ধরনের কৌশল থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়ে সারজিস বলেন, ভয় দেখিয়ে রাজনৈতিক সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা করলে তার ফল ভালো হবে না।
নির্বাচন সামনে রেখে সারজিস আলম নিয়মিত মাঠে প্রচারণা চালাচ্ছেন। উঠান বৈঠক, গণসংযোগ ও সরাসরি ভোটারদের সঙ্গে মতবিনিময়ের মাধ্যমে সমর্থন বাড়ানোর চেষ্টা করছেন তিনি। স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে বিভিন্ন সমস্যা ও প্রত্যাশার কথাও শুনছেন বলে জানান।
বিজ্ঞাপন
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, উত্তরাঞ্চলের এ আসনে এবার প্রতিদ্বন্দ্বিতা জমজমাট হওয়ার ইঙ্গিত মিলছে। নতুন প্রার্থী ও জোট রাজনীতির কারণে ভোটের সমীকরণে পরিবর্তন আসতে পারে।








