‘সামনে রাম রাম পিছনে শয়তানের কাম আর কত’

ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী ও বিএনপি থেকে সদ্য বহিষ্কৃত আলোচিত নারী নেত্রী ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী ও সম্ভাব্য অনিয়মকারীদের উদ্দেশে কড়া হুঁশিয়ারি করেছেন।
বিজ্ঞাপন
রবিবার (২৫ জানুয়ারি) রাতে সরাইল সদর ইউনিয়নের স্বল্প নোয়াগাঁও গ্রামে আয়োজিত এক নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, “আপনার ভোট ঘরে ভাইয়ের মেয়েকে দেবেন, নাকি বিদেশি প্রার্থীকে দেবেন? তারা দেখাইয়া চাম্পা ফুল, হোইয়াই দেবে বান্দরের রোল। সামনে রাম রাম, পিছনে শয়তানের কাম—আর কত নজিরা দিমু?”
তিনি বলেন, ‘মার্কা যাই হোক ঘরের মাইয়া, ঘরের মাইয়া। সুতরাং আপনাদের কাছে আমার অনুরোধ থাকবে বিশেষ করে আমার মা বোনদের বলি, আপনারা ফজরের নামাজের পরপর কেন্দ্রে চলে যাবেন। ভোটকেন্দ্রে হাঁস মার্কায় একটা ভোট দিয়ে তারপর ইনশাল্লাহ ১২ ফেব্রুয়ারি আপনার দিনটা শুরু করবেন।’
বিজ্ঞাপন
রুমিন বলেন, ‘আমার যুবক ভাইদের প্রতি আমার অনুরোধ আগামী ১১ ফেব্রুয়ারি বিকেল থেকে রাত পর্যন্ত আপনারা সেন্টার পাহারায় থাকবেন। আমার হাঁসের একটা ডিমও যেন কেউ চুরি করতে না পারে।’
তিনি বলেন, ‘আমার যে ভাইরা ফুটবল খেলো তোমরা তো জানো একদল যখন গোল দেয়, আরেকদল যখন পারে না তখন ফাউল করে। খবরদার ১৯৭৩ সালে আমার বাপের সঙ্গে ফাউল করা হইছিল আমার বাপ ভদ্রলোক ছাইড়া দিছিল। ২০২৬ সালে কইলাম রুমিন ফারহানার সঙ্গে ফাউল কইরো না, করলে আমার নেতাকর্মীরা কিন্তু ছাইরা দেবে না।’
মিডিয়া নিয়ে রুমিন ফারহানা বলেন, ‘আমার মিডিয়ার ভাইদের প্রতি আমার অনুরোধ থাকবে, আপনারা আমার সঙ্গে ছিলেন গত ১৫ বছর। আমার সংগ্রাম, আমার আন্দোলন,আমার প্রতিবাদ সে সব কিছু আপনাদের মাধ্যমেই বাংলাদেশের ১৮ কোটি মানুষের ঘরে ঘরে পৌঁছে গেছে। আপনারা নির্বাচনের দিন সশস্ত্র বাহিনীর মতো ভোটকেন্দ্রগুলো পাহারা দেবেন।আপনাদের ক্যামেরাই আপনাদের অস্ত্র।
বিজ্ঞাপন
মিডিয়া কর্মী ও এলাকাবাসীর প্রতি অনুরোধ জানিয়ে তিনি বলেন, ‘যেইখানে এতটুকু অনিয়ম দেখবেন, আপনাদের হাতে থাকা মোবাইল দিয়ে ভিডিও করবেন। একটা কেন্দ্রে গণ্ডগোল দেখলে আপনারা আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করবেন। ভোট কেমনে কারচুপি করে আমরাও দেখবো।’
রুমিন আরও বলেন, ‘আপনাদের আরেকটা কথা বলে রাখি, বিদেশি কুটনৈতিকদের সঙ্গে পর্যবেক্ষকদের আমার যোগাযোগ আছে। এই আসনে তাদেরও আলাদা একটা নজর থাকবে।
যেহেতু তাদের সঙ্গে আমি দীর্ঘদিন কাজ করেছি। সুতরাং এই আসন নিয়ে যদি কোনো ধরনের খেলাধুলা করার চিন্তাও করে মাগুরার যে পরিণতি হয়েছিলো তার চেয়ে হাজারগুণ খারাপ পরিণতি হবে ইনশাল্লাহ।’
বিজ্ঞাপন
তিনি বলেন, ‘আমার এলাকার রাস্তাঘাট, ব্রিজ কালভার্টের দুর্দশা আমি যতদিন থেকে এলাকায় আসতেছি, দেখছি। আমি যখন চুন্টা, পাকশিমুল, তেলিকান্দি গিয়েছি, সরাইল আশুগঞ্জের এমন কোনো জায়গা নাই, আমি যাই নাই। আমি দেখেছি, আমাদের দুর্দশা এবং একইসঙ্গে খুলনা, সিলেট, রাজশাহী, রংপুরে, চট্টগ্রামে, কুমিল্লায় গিয়েছি আমি দেখেছি সেই এলাকাগুলো কি রকম উন্নত হয়েছে। তাহলে আমাদের এই দুর্দশার কারণটা কি?’
ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের এই স্বতন্ত্র প্রার্থী বলেন, ‘আমরা তো ভোট দিতে কোনো ভুল করি নাই। আমরা তো সারা জীবন একি মার্কায় ভোট দিয়েছি। তাহলে সমস্যাটা কি, সমস্যাটা হলো, সঠিক প্রার্থী বাছাই করতে না পারা। যদি সঠিক প্রার্থী বাছাই না করতে পারেন, যতই মার্কায় ভোট দেন, কাম হবে না। এর লাইগাই এলাকায় কোনো কাম হইছে না। আমার হাঁস মার্কা নির্বাচিত হলে, আমি সব সমস্যার সমাধান করবো।’
বিজ্ঞাপন








