জামায়াতের অবস্থান জনগণের সঙ্গে ধোঁকাবাজি: চরমোনাই পীর

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে দেশের রাজনীতি এখন নতুন সমীকরণে। বিশেষ করে ইসলামপন্থি দলগুলোর সম্ভাব্য জোট ও ভাঙন নিয়ে চলছে নানা আলোচনা। শুরুতে একাধিক ধর্মভিত্তিক দল নিয়ে বড় ধরনের নির্বাচনী ঐক্যের উদ্যোগ থাকলেও শেষ পর্যন্ত সেই সমঝোতা থেকে সরে এসে ২৫৯ আসনে এককভাবে লড়াইয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ।
বিজ্ঞাপন
দলটির নেতাদের দাবি, আদর্শগত প্রশ্নেই তারা জোট ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন। শরিয়াহ আইন ও ইসলামী হুকুমত প্রতিষ্ঠার বিষয়ে আপস করতে না পারায় আলাদা পথ বেছে নেওয়া হয়েছে।
সম্প্রতি গণমাধ্যমকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সিনিয়র নায়েবে আমির মুফতি ফয়জুল করীম (চরমোনাই পীর) বলেন, ইসলামভিত্তিক রাষ্ট্র পরিচালনার প্রতিশ্রুতি থেকে সরে আসা মানে ভোটারদের সঙ্গে প্রতারণা। শরিয়াহ আইন বাস্তবায়নের অঙ্গীকার না থাকলে ইসলামের নামে রাজনীতি করা অর্থহীন।
মুফতি ফয়জুল করীমের ভাষ্য, নির্বাচনী ঐক্যের ডাক তারাই দিয়েছিলেন। লক্ষ্য ছিল ইসলামপন্থিদের এক প্ল্যাটফর্মে আনা। কিন্তু পরে দেখা যায়, অনেক শরিক দল ইসলামী শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠায় অনাগ্রহী। কেউ কেউ ক্ষমতায় গেলেও শরিয়াহভিত্তিক আইন প্রণয়ন করবে না—এমন অবস্থান নেয়।
বিজ্ঞাপন
এই অবস্থানকে তিনি ‘জনগণের সঙ্গে ধোঁকাবাজি’ বলে মন্তব্য করেন। তার ভাষায়, ইসলামের পক্ষে ভোট চেয়ে পরে অন্য পথে হাঁটা বিশ্বাসঘাতকতার শামিল।
জামায়াতে ইসলামী প্রচলিত আইনে রাষ্ট্র পরিচালনার কথা বলায় তীব্র আপত্তি জানিয়েছেন ইসলামী আন্দোলনের এই নেতা। তিনি সরাসরি বলেন, এটি জনগণের সঙ্গে প্রতারণার সমান।
বিজ্ঞাপন
এমনকি তিনি দাবি করেন, এ ধরনের অবস্থান ইসলামপন্থি রাজনীতির মৌলিক দর্শনের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
জোটে না যাওয়ার পেছনে আসন বণ্টন বা তৃতীয় পক্ষের প্রভাব—এমন অভিযোগও নাকচ করেছেন তিনি। তার দাবি, বিষয়টি পুরোপুরি নীতিগত। ইসলামী আন্দোলন কোনো বাইরের চাপ বা পরামর্শে সিদ্ধান্ত নেয় না।
তার মতে, জোটে না গেলেও ইসলামপন্থিরা দুর্বল হবে না; বরং আদর্শিকভাবে আরও শক্তিশালী হবে।
বিজ্ঞাপন
দলটি ক্ষমতায় এলে কোরআন-সুন্নাহভিত্তিক রাষ্ট্র পরিচালনার অঙ্গীকার করেছে। ভিন্ন ধর্মাবলম্বীদের বিষয়ে তিনি বলেন, শরিয়াহ আইন মানেই কারও অধিকার খর্ব করা নয়। বরং সকল নাগরিকের নিরাপত্তা, জান-মাল-ইজ্জত রক্ষার নিশ্চয়তা থাকবে। আইনের প্রয়োগে ধর্মভেদে কোনো পার্থক্য হবে না বলেও দাবি করেন তিনি।
নারীদের কর্মঘণ্টা কমানোর প্রস্তাব প্রসঙ্গে তিনি বলেন, তারাও আরও ‘উচ্চতর’ সামাজিক নিরাপত্তা চান। অসহায়, বিধবা বা বেকার নারীদের যেন কাজ করতে না হয়, রাষ্ট্রই তাদের আর্থিক সহায়তা দেবে—এমন ব্যবস্থার কথা বলেন তিনি।
বিজ্ঞাপন
পর্দা প্রসঙ্গে জানান, এটি শুধু নারীর জন্য নয়, পুরুষের জন্যও সমানভাবে প্রযোজ্য।
আসন্ন নির্বাচন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হবে কি না—এ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে দলটি। প্রশাসনিক পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, কিছু দলকে আগাম সুবিধা দেওয়া হচ্ছে বলে তাদের আশঙ্কা।
তবে নির্বাচন স্বচ্ছ হলে ফল যাই হোক মেনে নেবেন বলেও জানান। আর কারচুপি হলে বর্জনের পথেও হাঁটতে পারেন।
বিজ্ঞাপন
বিএনপিকে সাংগঠনিকভাবে শক্তিশালী হলেও আদর্শিকভাবে দুর্বল বলে মন্তব্য করেন তিনি। ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক প্রসঙ্গে বলেন, প্রতিবেশীর সঙ্গে সুসম্পর্ক থাকবে, তবে কোনো ধরনের আধিপত্য বা হস্তক্ষেপ মেনে নেওয়া হবে না।
২৫৯ আসনে প্রার্থী দেওয়ার বিষয়ে দলটি আত্মবিশ্বাসী। সব আসনেই জয়ের চেষ্টা থাকবে বলে জানান ফয়জুল করীম। যেখানে প্রার্থী দেবে না, সেখানে সমমনা প্রার্থীদের সমর্থনের কথাও বলেন।
ইসলামী আন্দোলনের এই নেতা স্পষ্ট করে জানিয়েছেন— জোট, আসন বা রাজনৈতিক সমঝোতার চেয়ে তাদের কাছে আদর্শই প্রধান। শরিয়াহভিত্তিক শাসন প্রতিষ্ঠাই তাদের মূল লক্ষ্য।








