পূর্বে জামায়াত নেতাদের মন্ত্রিত্ব নিয়ে যা বললেন জামায়াত আমির

বিএনপি নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোট সরকারের সময় জামায়াতে ইসলামীর দুই শীর্ষ নেতা মন্ত্রিত্বে থাকার বিষয়টি নিয়ে সম্প্রতি প্রশ্ন তোলেন বিএনপি চেয়ারপারসন তারেক রহমান। তাঁর সেই প্রশ্নের সরাসরি জবাব দিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর বর্তমান আমির ডা. শফিকুর রহমান।
বিজ্ঞাপন
চারদলীয় জোট সরকারকে দুর্নীতিগ্রস্ত আখ্যা দিয়ে তারেক রহমান বলেন, ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত সময়কালে যদি সরকার খারাপ হয়ে থাকে, তাহলে ওই সরকারের অংশ হয়ে থাকা জামায়াতের দুই নেতা কেন মন্ত্রিত্ব থেকে পদত্যাগ করেননি—এ প্রশ্নের উত্তর জাতির সামনে আসা উচিত।
তারেক রহমানের বক্তব্য ছিল, একটি রাজনৈতিক দল বর্তমানে এমন ভাষা ব্যবহার করছে, যা স্বৈরাচারী শাসকের বক্তব্যের সঙ্গে মিলে যায় এবং সেই ভাষা বিএনপির বিরুদ্ধেই প্রয়োগ করা হচ্ছে। অথচ ওই সময় বিএনপি সরকারে থাকাকালীন জামায়াতের দুই প্রতিনিধি মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। বিএনপি যদি খারাপ হয়ে থাকে, তাহলে তাঁরা তখন কেন পদ ছেড়ে দেননি—এই প্রশ্ন তোলেন তিনি।
বিজ্ঞাপন
এই বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেন, জামায়াতে ইসলামীর সাবেক আমির মাওলানা মতিউর রহমান নিজামী এবং সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মুহাম্মদ মুজাহিদ পর্যায়ক্রমে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করেছেন। দায়িত্ব পালনকালে তাঁদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি, অসততা কিংবা স্বজনপ্রীতির অভিযোগ তুলতে পারেনি রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ কিংবা সমালোচকরাও।
বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) রাজধানীর কারওয়ান বাজারে এক নির্বাচনী জনসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আজ কেউ কেউ প্রশ্ন করছেন—যদি আপনারা এত সৎ ছিলেন, তাহলে তখন সরকার ছেড়ে চলে গেলেন না কেন? এর জবাবে তিনি বলেন, তাঁদের মন্ত্রিত্বে থাকার উদ্দেশ্য ছিল অন্তত কয়েকটি মন্ত্রণালয়কে দুর্নীতির হাত থেকে রক্ষা করা।
বিজ্ঞাপন
তিনি আরও বলেন, ওই তিনটি মন্ত্রণালয়ে দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে জনগণের কাছে একটি উদাহরণ তুলে ধরতে চেয়েছিল জামায়াত—ভালো মানুষ রাষ্ট্রক্ষমতায় থাকলে সততার সঙ্গে দেশ পরিচালনা সম্ভব এবং দুর্নীতি প্রতিরোধ করা যায়। জনগণের মনে আস্থা তৈরি করাই ছিল তাঁদের মূল লক্ষ্য।
ডা. শফিকুর রহমানের বক্তব্য অনুযায়ী, জামায়াতের সেই অবস্থান ছিল একটি নৈতিক দায়িত্ববোধ থেকে নেওয়া সিদ্ধান্ত, কোনো ব্যক্তিগত বা রাজনৈতিক সুবিধার জন্য নয়।








