নতুন সরকারে তথ্যমন্ত্রীর দায়িত্বে আসছেন রুহুল কবির রিজভী

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দীর্ঘ রাজনৈতিক অস্থিরতার অবসান ঘটিয়ে নতুন সরকার গঠনের পথে এগোচ্ছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। দলীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আসন্ন মন্ত্রিসভায় তথ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব পেতে যাচ্ছেন বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।
বিজ্ঞাপন
শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) দলীয় সূত্রে এমন তথ্য জানা যায়।
নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের পর বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান-এর নেতৃত্বে সরকার গঠনের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই শুরু হচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, ১৬ ফেব্রুয়ারি নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠিত হতে পারে এবং ১৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যেই নতুন মন্ত্রিসভা গঠন সম্পন্ন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। শপথ ও মন্ত্রিসভা গঠনের আনুষ্ঠানিকতা হবে বঙ্গভবন-এ।
বিজ্ঞাপন
নির্বাচনের ফলাফল চূড়ান্ত ঘোষণার পর নির্বাচন কমিশন সংসদ সদস্যদের গেজেট প্রকাশ করে। গেজেট জারির মাধ্যমে নির্বাচিত প্রার্থীরা আইনগতভাবে সংসদ সদস্য হিসেবে স্বীকৃতি পান। এরপর শপথ গ্রহণের মধ্য দিয়ে সংসদের কার্যক্রম শুরু হয়।
সংবিধান অনুযায়ী, কোনো দল ১৫১ বা তার বেশি আসন পেলে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে। সে ক্ষেত্রে সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের নেতাকেই সরকার গঠনের আহ্বান জানান রাষ্ট্রপতি। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এবার দুই-তৃতীয়াংশের বেশি আসন পাওয়ায় তারেক রহমানের প্রধানমন্ত্রী হওয়া প্রায় নিশ্চিত।
বিজ্ঞাপন
আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক উপদেষ্টা আসিফ নজরুল জানিয়েছেন, সর্বোচ্চ ১৪ ফেব্রুয়ারির মধ্যে নির্বাচনের ফলাফল গেজেট আকারে প্রকাশ পেতে পারে। ১৭ থেকে ১৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে নতুন সরকার শপথ নেবে বলেও আশা প্রকাশ করা হয়েছে।
বর্তমানে স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারের পদ শূন্য থাকায় শপথ পাঠ নিয়ে কিছু আইনি প্রশ্ন উঠলেও সংবিধান অনুযায়ী প্রধান নির্বাচন কমিশনার অথবা রাষ্ট্রপতি মনোনীত ব্যক্তি শপথ পড়াতে পারেন।
বিজ্ঞাপন
নতুন সরকার গঠনের পুরো প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবেন রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন। তিনি প্রথমে প্রধানমন্ত্রীকে এবং পরে পর্যায়ক্রমে মন্ত্রিসভার সদস্যদের শপথবাক্য পাঠ করাবেন। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ ইতোমধ্যে সম্ভাব্য মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীদের জন্য প্রশাসনিক প্রস্তুতি শুরু করেছে।
এখন পর্যন্ত ঘোষিত ফলাফলে ২৯৭টি আসনের মধ্যে বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট পেয়েছে ২১২টি আসন। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৭৭টি আসন পেয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টি-সহ ১১ দলীয় জোট। বাকি ৮টি আসন গেছে স্বতন্ত্র ও অন্যান্য দলের প্রার্থীদের দখলে।
নতুন মন্ত্রিসভা শপথ নেওয়ার মধ্য দিয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের দায়িত্বের আনুষ্ঠানিক অবসান ঘটবে। এরপর পূর্ণাঙ্গ মন্ত্রিসভা দায়িত্ব গ্রহণ করে রাষ্ট্র পরিচালনার কাজ শুরু করবে। রাজনৈতিক অঙ্গনে এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু—নতুন সরকারের প্রথম অগ্রাধিকার কী হবে। অর্থনীতি, নির্বাচনোত্তর স্থিতিশীলতা, প্রশাসনিক সংস্কার না কি কূটনৈতিক সম্পর্ক— কোন খাতে আগে জোর দেওয়া হবে, সে দিকেই এখন সবার নজর।








