জনগণের সঙ্গে চাতুরি করলে বিএনপিকেও ফল ভোগ করতে হবে: আখতার

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্য সচিব আখতার হোসেন বিএনপির সংসদ সদস্যদের সতর্ক করেছেন, ভোটের আগে-পরের কথার মধ্যে জনগণের সঙ্গে চাতুরি করলে তাদেরও আওয়ামী লীগের মতো পরিণতি ভোগ করতে হতে পারে।
বিজ্ঞাপন
তিনি অভিযোগ করেছেন, ‘জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশ-২০২৫’ লঙ্ঘন করে বিএনপি এমপিরা আইনকে উপেক্ষা করেছেন।
রোববার (৮ মার্চ) রাজধানীর তোপখানার সিরডাপ মিলনায়তনে আয়োজিত নাগরিক সমাবেশে আখতার হোসেন বলেন, সংসদ সদস্যরা ভোটের আগে এক কথা বলেন, পরে আরেক কথা। জনগণের সঙ্গে এই চাতুরি কোনো ভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। যারা আইনি ব্যত্যয় ঘটাবে, তাদেরও জনগণকে প্রত্যাখ্যান করতে হবে।
বিজ্ঞাপন
তিনি বিএনপি সংসদ সদস্যদের সতর্ক করে আরও বলেন, আপনাদের এখনও সুযোগ রয়েছে। ১২ মার্চ সংসদ অধিবেশন শুরুর দিন সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নিন এবং সংস্কার কাজে যুক্ত হোন। আইনি মারপ্যাঁচে অভ্যুত্থানের অর্জন ধূলিসাৎ করার চেষ্টা সফল হতে দেওয়া হবে না।
এনসিপির নেতা উল্লেখ করেন, জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশের ৮ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সংসদ সদস্যদের শপথ নেওয়ার পরই সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব নেওয়া আবশ্যক ছিল। কিন্তু বিএনপির এমপিরা এ প্রক্রিয়া অনুসরণ করেননি।
তিনি প্রশ্ন তোলেন, সংসদ সদস্য হয়ে কীভাবে আইন লঙ্ঘন করা সম্ভব হলো, সেটিই বড় প্রশ্ন।
বিজ্ঞাপন
গণভোট প্রসঙ্গে বিএনপির অবস্থানকেও আক্রমণ করেন আখতার হোসেন। তিনি বলেন, ভোটের আগে জনমনে বিরূপ প্রভাব পড়ার ভয়ে ‘হ্যাঁ’ বললেও, ভোট শেষ হতেই ‘না’ নির্বাচন করেছেন। এটি জনগণের সঙ্গে স্পষ্ট চাতুরি। শুধু নির্বাচনের নাটক করেই গণভোটে রাজি হয়েছেন।
তিনি আরও যোগ করেন, জনগণ সব দেখছে। আওয়ামী লীগ শক্তিশালী মনে করেছিল, কিন্তু ভোটে ক্ষমতাচ্যুত হয়নি। বরং জনগণ রাস্তায় নেমে তাদের বিতাড়িত করেছে। বিএনপি যদি মনে করে ভোটের আগে জনমনে সন্তুষ্টি দেখিয়ে পরে রায় প্রত্যাখ্যান করবে, জনগণ তাদেরও প্রত্যাখ্যান করবে।
বিজ্ঞাপন
এ সমাবেশে দেশের বর্তমান রাজনৈতিক অবস্থা ও সংবিধান সংস্কারের প্রক্রিয়া নিয়ে নাগরিকদের সচেতনতা বৃদ্ধির উপর গুরুত্বারোপ করা হয়। আখতার হোসেন বলেন, আইনের শাসন ও জনগণের আস্থা বজায় রাখতে সকল রাজনৈতিক দলকে সততার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে হবে।








