ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ওসমান হাদিকে যেভাবে গুলি করা হয়েছিল

ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনে ঢাকা–৮ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী ও ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরীফ ওসমান হাদি নির্বাচনী প্রচারণার সময় গুলিবিদ্ধ হন। ২০২৫ সালের ১২ ডিসেম্বর শুক্রবার রাজধানীর পল্টনের বিজয়নগর এলাকায় প্রচারণা চালানোর সময় তাকে লক্ষ্য করে গুলি চালানো হয়।
বিজ্ঞাপন
ঘটনার পরপরই তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেওয়া হয়। হাসপাতালের পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ মো. ফারুক বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, গুলিবিদ্ধ অবস্থায় ওসমান হাদিকে হাসপাতালে আনা হয়েছে এবং চিকিৎসকরা তাকে জরুরি বিভাগে চিকিৎসা দিচ্ছেন।
প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, সেদিন বিজয়নগর এলাকায় নির্বাচনী প্রচারণার সময় মোটরসাইকেলে করে আসা দুই ব্যক্তি হঠাৎ তাকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। গুলি করার পরপরই হামলাকারীরা দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে পালিয়ে যায়। পরে আশপাশের লোকজন ওসমান হাদিকে উদ্ধার করে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যান।
বিজ্ঞাপন
ঘটনার কয়েক ঘণ্টা আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি পোস্টও দিয়েছিলেন ওসমান হাদি। জুমার নামাজের আগে বেলা ১১টা ৫২ মিনিটে দেওয়া ওই পোস্টে তিনি লিখেছিলেন, যেহেতু ঢাকা–৮ এলাকায় তার পোস্টার বা ফেস্টুন নেই, তাই সেগুলো ছেঁড়া–ছিঁড়ি নিয়েও কোনো চাপ নেই। পোস্টে তিনি উল্লেখ করেছিলেন যে তিনি দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) কার্যালয়ের সামনে থেকে জুমার নামাজের শুভেচ্ছা জানাচ্ছেন।
এর আগে গত নভেম্বর মাসে নিজের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন ওসমান হাদি। তিনি জানিয়েছিলেন, দেশি ও বিদেশি অন্তত ৩০টি নম্বর থেকে তাকে বিভিন্ন ধরনের হুমকি দেওয়া হয়েছে। ১৪ নভেম্বর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তিনি দাবি করেন, তাকে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়েছে এবং তার বাড়িতে আগুন দেওয়া, এমনকি পরিবারের সদস্যদের ক্ষতি করার হুমকিও এসেছে।
বিজ্ঞাপন
ওই পোস্টে তিনি লিখেছিলেন, কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই বিদেশি নম্বর থেকে বহু কল ও বার্তা এসেছে। সেখানে বলা হয়েছে তাকে সার্বক্ষণিক নজরদারিতে রাখা হচ্ছে এবং সুযোগ পেলে তাকে হত্যা করা হবে। একই সঙ্গে তার বাড়িতে আগুন দেওয়া এবং পরিবারের সদস্যদের ওপর হামলার হুমকিও দেওয়া হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।








