Logo

সংবিধান মানলে আমার এখন জেলখানায় থাকার কথা: এমপি মাসুদ

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
৩০ মার্চ, ২০২৬, ২০:২৬
সংবিধান মানলে আমার এখন জেলখানায় থাকার কথা: এমপি মাসুদ
ছবি: সংগৃহীত

সংবিধান বাস্তবায়ন নিয়ে প্রশ্ন তুলে জাতীয় সংসদে বক্তব্য দিয়েছেন পটুয়াখালী-২ আসনের সংসদ সদস্য ও জামায়াতে ইসলামীর ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সেক্রেটারি ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ।

বিজ্ঞাপন

তিনি বলেছেন, আমরা সংবিধান নিয়ে ঘাঁটাঘাঁটি করে যদি সংবিধানই আমাদের রক্ষা করতে পারতো, তাহলে সংবিধান আমাদেরকে বলে দিত যে সেদিন (খালেদা জিয়ার বাসভবনের সামনে) বালুর ট্রাক সরানোর ক্ষেত্রে সংবিধানের পৃষ্ঠা আমাদেরকে খুঁজতে হতো। সংবিধান যদি আমাদেরকে রক্ষা করতে পারতো তাহলে ৭২-এর সংবিধানের আলোকে আজকে আমাদের এখানে থাকার কথা না। আমি শফিকুল ইসলাম মাসুদ। আমার এখন জেলখানায় থাকার কথা।

সোমবার (৩০ মার্চ) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের অধিবেশনে নির্ধারিত বক্তব্যে অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

বিজ্ঞাপন

বক্তব্যে ড. মাসুদ সংবিধানের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে বলেন, সংবিধান যদি মানতে হতো তাহলে আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশে থাকার কথা না। অন্য দেশের থাকার কথা। সংবিধান মানতে হলে বর্তমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এখন দেশের বাইরে থাকার কথা ছিল। আমরা খুব লজ্জিত হই মাননীয় স্পিকার।

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের বর্তমান এই প্রেক্ষাপটটা নতুন করে এখন যে গণভোটের ন্যায্যতা ও অন্যায্যতা, সাংবিধানিক পৃষ্ঠা, লাইন, অক্ষর, দাড়ি-কমা আমাদেরকে শেখানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। যদি সেটা হতো তাহলে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের সম্মানিত মহাসচিব তিনি কয়েক হাজার পুলিশের বেষ্টনীর মাঝখানে একা একটা মোবাইল নিয়ে তাকে আমরা দাঁড়িয়ে থাকতে দেখেছি। তখন সংবিধান আমাদেরকে রক্ষা করতে পারে নাই। মাননীয় স্পিকার আমি ৩৫০টি মামলা জামিন করতে সাত মাস সময় লেগেছে। আর আমার বের হতে সময় লেগেছে সাড়ে বছর। আমি সেই সাড়ে বছরে তিনবার রি-অ্যারেস্ট হয়ে দুইবার গুম হয়েছি।

নিজের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে তিনি জানান, আমি তখন ডিজিএফআই-এনএসআই-ডিবি-এসবির কাছে জানতে চেয়েছিলাম, আমার সামনে দিয়ে বড় বড় নেতারা বের হয়ে যাচ্ছে আমার অপরাধটা কী? তখন বলেছিল তারা হুমকি না, হুমকি হচ্ছেন আপনারা। আমাদেরকে যখন শেখ হাসিনার শেষ সরকার নিষিদ্ধ করেছিল তখন তারা ১৪ দল মিটিং করে বলেছিল, এই জামায়াত-শিবিরে হচ্ছে সবচেয়ে বড় সমস্যা। তাদেরকে নিষিদ্ধ করলে এই আন্দোলন (জুলাই আন্দোলন) থেমে যাবে।

বিজ্ঞাপন

তিনি আরও বলেন, আজ একটা কথা পরিষ্কার বলতে চাই, এই গণভোট নিয়ে আমাদের মাথা ব্যথার মূল কারণ হচ্ছে এখানেই। শেখ হাসিনা আমাদেরকে যথার্থ টার্গেটটা করেছিল। সেই টার্গেটের মূল লক্ষ্য ছিলাম আমরা। আমাদেরকে বলা হয়েছিল, একটা গুলি করলে একটা সরে, বাকিগুলো লড়ে না। সেই লড়ে না লোকগুলো ছিলাম আমরা, মাননীয় স্পিকার। যার কারণ আমাদেরকে তারা ভয় পেত।

গণভোট ও ‘জুলাই সনদ’ প্রসঙ্গে ড. মাসুদ বলেন, আবার যদি গণভোট ও জুলাই সনদ নিয়ে এই জাতির সাথে প্রতারণা করা হয়। তাহলে মূল্য দিতে হবে। শুধু তাই নয় আবার আমাদেরকে ১৭ বছরের সেই জেল-জুলুম, নিপীড়ন ও গুম-খুনের জায়গায় আমাদেরকে যেতে হবে।

বিজ্ঞাপন

তিনি আরও বলেন, গণভোটের প্রতি সমর্থন না জানিয়ে জুলাই সনদকে যদি আজকে ইগনোর করা হয়। তাহলে আমাদেরকে কিন্তু আবার সেই গুম-খুনের ও আয়না ঘরের দিকে আমাদেরকে ধাবিত করা হবে। আমি মনে করি, গণভোটের বিরোধিতা করার অর্থ হচ্ছে আমরা আয়নাঘরকে সমর্থন করতে চাই। গণভোটের বিরোধিতা করা মানে হচ্ছে ৭০ শতাংশ মানুষকে আমরা অন্যায্যভাবে তাদেরকে আবার ধিক্কার জানাতে চাই।

তার বক্তব্যকে কেন্দ্র করে সংসদের ভেতরে ও বাইরে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা তৈরি হতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

জেবি/এএস

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD