জ্বালানি তেল ও এলপিজির মূল্যবৃদ্ধি প্রত্যাহার চায় ছাত্রশিবির

জ্বালানি তেল ও ভোক্তা পর্যায়ে এলপিজি গ্যাসের সাম্প্রতিক মূল্যবৃদ্ধিকে ‘অযৌক্তিক’ উল্লেখ করে তা অবিলম্বে প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির। সংগঠনটির শীর্ষ নেতারা বলেছেন, এই সিদ্ধান্ত সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায় বাড়তি চাপ সৃষ্টি করছে এবং তা দ্রুত পুনর্বিবেচনা করা জরুরি।
বিজ্ঞাপন
এক যৌথ বিবৃতিতে ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নূরুল ইসলাম ও সেক্রেটারি জেনারেল সিবগাতুল্লাহ বলেন, সরকার হঠাৎ করেই ডিজেল, কেরোসিন, অকটেন ও পেট্রোলের দাম লিটারপ্রতি ১৫ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত বাড়িয়েছে। পাশাপাশি অল্প সময়ের ব্যবধানে দুই দফায় এলপিজি সিলিন্ডারের দাম বাড়ানো হয়েছে, যা সাধারণ মানুষের জন্য পরিস্থিতিকে আরও কঠিন করে তুলেছে।
নেতৃবৃন্দের ভাষ্য, জ্বালানি খাতে এই মূল্যবৃদ্ধি জনস্বার্থ উপেক্ষা করে নেওয়া হয়েছে। তারা অভিযোগ করেন, একদিকে সরকার পর্যাপ্ত জ্বালানি মজুত থাকার কথা বলছে, অন্যদিকে মাঠপর্যায়ে ভোক্তা ও পরিবহন সংশ্লিষ্টরা তেলের সংকটে ভুগছেন। এতে ব্যবস্থাপনায় অসঙ্গতি ও দুর্বলতার ইঙ্গিত পাওয়া যায় বলেও তারা মন্তব্য করেন।
বিজ্ঞাপন
ছাত্রশিবিরের নেতারা আরও বলেন, জ্বালানি খাতে দীর্ঘদিন ধরে পরিকল্পনার ঘাটতি ও ব্যবস্থাপনার দুর্বলতা বিদ্যমান, যার প্রভাব এখন সরাসরি জনগণের ওপর পড়ছে। মূল্যবৃদ্ধির ফলে পরিবহন ব্যয় বেড়ে যাবে, কৃষিখাতে সেচ ও উৎপাদন খরচ বাড়বে এবং এর প্রভাব খাদ্য সরবরাহ ব্যবস্থায় পড়বে। ফলে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম আরও বেড়ে সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে যেতে পারে।
এছাড়া শিল্পখাতে উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধির আশঙ্কা তুলে ধরে তারা বলেন, এতে সামগ্রিক বাজার ব্যবস্থায় অস্থিরতা তৈরি হতে পারে। এলপিজির দাম বাড়ায় নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের গৃহস্থালি ব্যয়ও বাড়বে, যা তাদের জন্য নতুন করে চাপ সৃষ্টি করবে।
বিজ্ঞাপন
বিবৃতিতে বলা হয়, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে ইতোমধ্যেই সাধারণ মানুষ চাপে রয়েছে। এর মধ্যে জ্বালানির দাম বাড়ানো পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলবে। তাই জনগণের ক্রয়ক্ষমতার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে সরকারকে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।
একই সঙ্গে জ্বালানি খাতে সুশাসন নিশ্চিত করার দাবি জানিয়ে নেতারা বলেন, সরকারের উচিত কার্যকর পরিকল্পনা ও স্বচ্ছ ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে সংকট মোকাবিলা করা। তারা সতর্ক করে দেন, জনগণের ওপর অতিরিক্ত আর্থিক চাপ অব্যাহত থাকলে তা সামাজিক অস্থিরতা তৈরি করতে পারে।
সবশেষে, ছাত্রশিবির নেতারা জ্বালানি তেল ও এলপিজির বাড়তি মূল্য প্রত্যাহার করে তা সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে আনার জন্য সরকারের প্রতি জোর দাবি জানান।







