বিএনপির রাজনীতিতে বড় রদবদল, নতুনদের দখলে সংরক্ষিত নারী আসন

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের জন্য ৩৬ জনের চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করেছে ক্ষমতাসীন দল বিএনপি। ঘোষিত তালিকায় নতুন মুখের আধিক্য স্পষ্টভাবে লক্ষ্য করা গেছে, যেখানে প্রথমবারের মতো মনোনয়ন পেয়েছেন ২৮ জন নারী। অপরদিকে, আগের সংসদে দায়িত্ব পালন করা ৮ জনও পুনরায় সুযোগ পেয়েছেন।
বিজ্ঞাপন
সোমবার (২০ এপ্রিল) রাজধানীর নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী এ তালিকা ঘোষণা করেন।
দলীয় সূত্র বিশ্লেষণে দেখা যায়, অভিজ্ঞতা ও নতুন নেতৃত্বের সমন্বয় ঘটানোর চেষ্টা করেছে বিএনপি। পুনরায় মনোনয়ন পাওয়া ৮ জনের মধ্যে রয়েছেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য সেলিমা রহমানসহ রেহান আক্তার রানু, রাশেদা বেগম হীরা, বিলকিস ইসলাম, হেলেন জেরিন খান, নিলুফার চৌধুরী মনি, সুলতানা আহমেদ ও নেওয়াজ হালিমা আর্লি।
বিজ্ঞাপন
এবারের তালিকায় এমন কিছু প্রার্থীও রয়েছেন, যাদের পরিবারে রাজনীতির শক্ত অবস্থান রয়েছে। তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য নিপুন রায় চৌধুরী, যিনি নিজেও বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য এবং ঢাকা জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক। তার পরিবারে একাধিক রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব রয়েছেন। এছাড়া শিরিন সুলতানাও তালিকায় স্থান পেয়েছেন, যার স্বামী দলটির যুগ্ম মহাসচিব।
দলটির সাবেক নেতা প্রয়াত শফিউল বারী বাবুর স্ত্রী বিথিকা বিনতে হোসাইনও মনোনয়ন পেয়েছেন। পাশাপাশি সরাসরি নির্বাচনে অংশ নিয়ে পরাজিত তিন নারী প্রার্থী—সানজিদা ইসলাম তুলি, সাবিরা সুলতানা ও সানসিলা জেবরিন—সংরক্ষিত কোটার মাধ্যমে সংসদে আসছেন।
বিএনপির অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠন থেকেও বেশ কয়েকজন মনোনয়ন পেয়েছেন। মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক সুলতানা আহমেদ এবং সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হেলেন জেরিন খান এ তালিকায় রয়েছেন। মিডিয়া সেল থেকে মাহমুদা হাবিবা ও শাম্মী আক্তার মনোনয়ন পেয়েছেন। এছাড়া ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ফেরদৌস আহমেদ, আরিফা সুলতানা ও নাদিয়া পাঠানও অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন।
বিজ্ঞাপন
তরুণ প্রজন্মের প্রতিনিধিত্ব হিসেবে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মানসুরা আক্তারও মনোনয়ন পেয়েছেন। তিনি এই তালিকার সবচেয়ে কম বয়সী সদস্য বলে জানা গেছে।
তালিকায় এমন কয়েকজনের নামও রয়েছে, যারা সরাসরি দলীয় রাজনীতির সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত নন। তাদের মধ্যে জহরত আবিদ চৌধুরী উল্লেখযোগ্য, যিনি একটি বেসরকারি মোবাইল অপারেটর প্রতিষ্ঠানের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত।
বিজ্ঞাপন
বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান জানিয়েছেন, দলটি এমন প্রার্থীদের মূল্যায়ন করেছে, যারা দীর্ঘদিন রাজপথে আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় ছিলেন এবং নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। তিনি বলেন, দলের চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে এবং শীর্ষ নেতাদের পরামর্শে এই তালিকা চূড়ান্ত করা হয়েছে।








