Logo

বিশেষ কাউকে সুবিধা দিতেই কি আইনের বয়সসীমা বাতিল?

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
৩০ এপ্রিল, ২০২৬, ১৫:৪৬
বিশেষ কাউকে সুবিধা দিতেই কি আইনের বয়সসীমা বাতিল?
ছবি: সংগৃহীত

সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন এবং বীমা খাতসংক্রান্ত আইনের সাম্প্রতিক সংশোধন নিয়ে জাতীয় সংসদে তীব্র উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন রংপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতা আখতার হোসেন। তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর শীর্ষ পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে বয়সসীমা তুলে দেওয়ার পেছনে কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তিকে সুবিধা দেওয়ার উদ্দেশ্য রয়েছে কি না।

বিজ্ঞাপন

বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) সংসদের অনির্ধারিত আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি বলেন, সংখ্যাগরিষ্ঠতার কারণে সরকারি দল সহজেই আইন পাস করতে পারছে, যা সংসদের বাস্তবতা। তবে সংশোধিত আইনগুলোর গভীরে গেলে দেখা যায়, আপাতদৃষ্টিতে ছোট পরিবর্তন হলেও এর প্রভাব অত্যন্ত সুদূরপ্রসারী হতে পারে।

তিনি উল্লেখ করেন, আগে সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের চেয়ারম্যান ও সদস্যদের জন্য সর্বোচ্চ বয়সসীমা ছিল ৬৫ বছর। অন্যদিকে বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের ক্ষেত্রে এই সীমা নির্ধারিত ছিল ৬৭ বছর। নতুন সংশোধনের মাধ্যমে এসব সীমাবদ্ধতা তুলে দেওয়া হয়েছে, যা সরকার দক্ষ ও যোগ্য ব্যক্তিদের নিয়োগের যুক্তিতে ব্যাখ্যা করছে।

বিজ্ঞাপন

তবে এ যুক্তির সমালোচনা করে আখতার হোসেন বলেন, এটি কোনো দীর্ঘমেয়াদি নীতিগত সিদ্ধান্ত, নাকি নির্দিষ্ট কাউকে নিয়োগের পথ সুগম করার কৌশল—তা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।

তিনি সতর্ক করে বলেন, যদি পূর্বের মতো কোনো বিশেষ ব্যক্তিকে গুরুত্বপূর্ণ পদে বসানোর উদ্দেশ্যে আইন পরিবর্তন করা হয়ে থাকে, তবে তা সরকারের ঘোষিত ‘যোগ্যতার ভিত্তিতে নিয়োগ’ নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক হবে।

অতীতের উদাহরণ তুলে ধরে তিনি বলেন, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে আইন পরিবর্তনের নজির দেশে নতুন নয়। এ ধরনের পদক্ষেপের দীর্ঘমেয়াদি নেতিবাচক প্রভাব রয়েছে এবং তা ভবিষ্যতে দেশের অর্থনৈতিক খাতে অনিশ্চয়তা তৈরি করতে পারে।

বিজ্ঞাপন

বিশেষ করে শেয়ারবাজার ও বীমা খাতের মতো সংবেদনশীল আর্থিক প্রতিষ্ঠানে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত না হলে তা দুর্নীতির ঝুঁকি বাড়াতে পারে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তিনি বলেন, এসব প্রতিষ্ঠানে অনিয়মের সুযোগ তৈরি হলে দেশের অর্থনীতির ওপর তার গুরুতর প্রভাব পড়বে।

সরকারের উদ্দেশে তিনি বলেন, যদি সত্যিই সৎ ও যোগ্য ব্যক্তিদের নিয়োগ দেওয়া হয়, তবে তা প্রমাণের দায়িত্ব সরকারের ওপরই বর্তাবে। ভবিষ্যতে এসব প্রতিষ্ঠানে কাদের নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে, তা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করবে দেশবাসী। একই সঙ্গে পুরো নিয়োগ প্রক্রিয়ায় আরও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করারও দাবি জানান তিনি।

জেবি/এএস

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD