Logo

১৫ বছরে পুঁজিবাজার থেকে লুট ‘১ লাখ কোটি টাকা’: রুমিন ফারহানা

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
৩০ এপ্রিল, ২০২৬, ১৩:৫০
১৫ বছরে পুঁজিবাজার থেকে লুট ‘১ লাখ কোটি টাকা’: রুমিন ফারহানা
ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশের পুঁজিবাজারে গত দেড় দশকে এক লাখ কোটি টাকারও বেশি অর্থ লুটপাট হয়েছে—এমন অভিযোগ তুলে জাতীয় সংসদে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা। তিনি বলেন, এই বিপুল অর্থ সাধারণ বিনিয়োগকারীদের সঞ্চয়, যা একটি প্রভাবশালী গোষ্ঠীর হাতে চলে গেছে।

বিজ্ঞাপন

বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে ‘বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (সংশোধন) বিল’ পাসের আগে জনমত যাচাইয়ের প্রস্তাব উত্থাপনকালে তিনি এসব কথা বলেন। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।

রুমিন ফারহানা তার বক্তব্যে বলেন, দেশের পুঁজিবাজার অতীতে একাধিকবার বড় ধরনের ধসের মুখে পড়েছে, বিশেষ করে ১৯৯৬ ও ২০১০ সালের ঘটনাগুলো ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের জন্য ছিল ভয়াবহ।

বিজ্ঞাপন

তিনি উল্লেখ করেন, শ্বেতপত্র অনুযায়ী গত ১৫ বছরে এই খাত থেকে এক লাখ কোটি টাকার বেশি অর্থ বেরিয়ে গেছে। তবে দুঃখজনকভাবে, এই ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রভাবশালী ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানগুলোকে এখনো আইনের আওতায় আনা হয়নি।

বর্তমান পরিস্থিতিতে পুঁজিবাজারের ওপর বিনিয়োগকারীদের আস্থা তলানিতে নেমেছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। আমদানি-রপ্তানি খাতে চ্যালেঞ্জের মধ্যে এই আস্থা সংকট আরও প্রকট হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, বাজারকে স্থিতিশীল করতে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনে দক্ষ ও যোগ্য নেতৃত্ব প্রয়োজন।

একই আলোচনায় অংশ নিয়ে সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরী বলেন, ২০১০ সালের বাজার কেলেঙ্কারির মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ অর্থ বিদেশে পাচার হয়েছে। এতে অসংখ্য বিনিয়োগকারী সর্বস্ব হারিয়ে নিঃস্ব হয়েছেন। প্রস্তাবিত আইনে লুটপাটের জন্য মাত্র পাঁচ বছর কারাদণ্ড ও পাঁচ লাখ টাকা জরিমানার বিধান রাখায় তিনি আপত্তি জানান।

বিজ্ঞাপন

তিনি আরও বলেন, কমিশনের সদস্যদের অবসরের বয়সসীমা ৬৫ বছর তুলে দেওয়ার প্রস্তাবটিও পুনর্বিবেচনার প্রয়োজন রয়েছে। এ কারণে তিনি বিলটি জনমত যাচাইয়ের জন্য পাঠানোর প্রস্তাব দেন। তবে লিখিত প্রস্তাব না থাকায় ডেপুটি স্পিকার তা গ্রহণ করেননি।

সংসদ সদস্যদের বক্তব্যের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, পুঁজিবাজারে অতীতে যে অনিয়ম ও দুর্নীতি হয়েছে, তা অত্যন্ত দুঃখজনক। তিনি রুমিন ফারহানার বক্তব্যের সঙ্গে একমত পোষণ করে জানান, এসব সমস্যা সমাধানে নিয়ন্ত্রক সংস্থাকে পুনর্গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

অর্থমন্ত্রী বলেন, আইনটি প্রণয়নের সময় দেশের মানুষের গড় আয়ু ছিল তুলনামূলক কম, যা এখন উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। সেই বিবেচনায় অভিজ্ঞ ও দক্ষ ব্যক্তিদের কাজে লাগাতে সংশোধন প্রয়োজন বলে তিনি উল্লেখ করেন।

তিনি আরও বলেন, সরকার পুঁজিবাজারে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফিরিয়ে আনা এবং আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। অতীতে যারা অনিয়ম করেছে, তাদের আইনের আওতায় আনা হবে বলেও আশ্বাস দেন তিনি।

দীর্ঘ আলোচনা শেষে ‘বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (সংশোধন) বিল’ কণ্ঠভোটে পাস হয়। এর আগে বিলটি সংসদে উত্থাপন করেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

জেবি/এএস

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD