Logo

ধর্মকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করতে চাই না: প্রধানমন্ত্রী

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
৩০ এপ্রিল, ২০২৬, ১৩:২৫
ধর্মকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করতে চাই না: প্রধানমন্ত্রী
ছবি: সংগৃহীত

ধর্মকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার না করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, বিশ্বের প্রতিটি ধর্মই মানবকল্যাণের বার্তা দেয় এবং সেই শিক্ষাগুলো যথাযথভাবে অনুসরণ করলে একটি মানবিক ও ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব।

বিজ্ঞাপন

বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) বাংলাদেশ সচিবালয়ে বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী নেতাদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় শেষে দেওয়া লিখিত বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রীর ডেপুটি প্রেস সচিব সুজাউদ্দৌলা সুজন মাহমুদ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, পৃথিবীতে নানা ধর্মের মানুষ বসবাস করলেও প্রতিটি ধর্মের মূল শিক্ষা একই—মানবকল্যাণ। বৌদ্ধ ধর্মের প্রবর্তক গৌতম বুদ্ধ তার অনুসারীদের জন্য যে পঞ্চশীল নীতি দিয়েছেন, সেখানে প্রাণী হত্যা, চুরি, ব্যভিচার, মিথ্যা বলা এবং মাদক থেকে বিরত থাকার কথা বলা হয়েছে। পাশাপাশি প্রেম, অহিংসা ও সর্বজীবে দয়ার শিক্ষা বৌদ্ধ ধর্মের গুরুত্বপূর্ণ দিক।

বিজ্ঞাপন

তিনি আরও বলেন, এসব নৈতিক নির্দেশনা শুধু কোনো একটি ধর্মের জন্য নয়, বরং সব মানুষের জন্যই প্রযোজ্য। রাষ্ট্রীয় আইন-কানুনের পাশাপাশি নাগরিকরা যদি নিজ নিজ ধর্মীয় মূল্যবোধ মেনে চলে, তাহলে সম্মিলিতভাবে একটি মানবিক রাষ্ট্র গঠন করা সম্ভব।

প্রধানমন্ত্রী জোর দিয়ে বলেন, প্রতিটি নাগরিক যেন নির্বিঘ্নে নিজ নিজ ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান পালন করতে পারে—এমন একটি পরিবেশ নিশ্চিত করাই সরকারের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব। ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবার জন্য শান্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

ধর্মভিত্তিক রাজনীতির বিষয়ে স্পষ্ট অবস্থান তুলে ধরে তিনি বলেন, ধর্মকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করার কোনো ইচ্ছা সরকারের নেই এবং অতীতেও তা করা হয়নি।

বিজ্ঞাপন

তিনি বলেন, “ধর্ম যার যার, নিরাপত্তা পাওয়ার অধিকার সবার”—এই নীতিতেই সরকার পরিচালিত হচ্ছে। বাঙালি-অবাঙালি, বিশ্বাসী-অবিশ্বাসী—সবাই সমান অধিকার ভোগ করবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জিত হয়েছে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবার সম্মিলিত ত্যাগের মাধ্যমে। মুক্তিযুদ্ধের সময় কারো ধর্মীয় পরিচয় মুখ্য ছিল না; বরং সবাই একসঙ্গে দেশের জন্য লড়াই করেছে। তাই স্বাধীন বাংলাদেশ সকল নাগরিকের সমান অধিকারভিত্তিক রাষ্ট্র।

বিজ্ঞাপন

তিনি জানান, বর্তমান সরকারের রাজনৈতিক দর্শন ‘বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ’, যা দেশের সব ধর্ম, বর্ণ ও নৃগোষ্ঠীর সহাবস্থান নিশ্চিত করতে সক্ষম। এ কারণে কোনো নাগরিককে নিজেকে সংখ্যালঘু ভাবার প্রয়োজন নেই বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

শেষে প্রধানমন্ত্রী বলেন, রাষ্ট্র আমার আপনার আমাদের সবার পরিচয়। আমরা প্রত্যেকে, প্রত্যেক নাগরিক, সবাই ‘আমরা বাংলাদেশি’।

জেবি/এএস

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD