Logo

চাকরিজীবীদের জন্য সুখবর, নবম পে-স্কেলের প্রথম ধাপেই বড় চমক

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
৩০ এপ্রিল, ২০২৬, ১৪:২৬
চাকরিজীবীদের জন্য সুখবর, নবম পে-স্কেলের প্রথম ধাপেই বড় চমক
ছবি: সংগৃহীত

সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য বহুল আলোচিত নবম পে-স্কেল বাস্তবায়নে ধাপে ধাপে অগ্রসর হওয়ার সুপারিশ করেছে বেতন কাঠামো পর্যালোচনায় গঠিত পুনর্গঠিত কমিটি। প্রস্তাব অনুযায়ী, আসন্ন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে এ জন্য বিশেষ বরাদ্দ রাখার নীতিগত সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।

বিজ্ঞাপন

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, পে-স্কেল বাস্তবায়নের শুরুতেই মূল বেতন বৃদ্ধির পরিকল্পনা রাখা হয়েছে, যা এ প্রস্তাবের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

এর আগে ২১ এপ্রিল সরকার জাতীয় বেতন কমিশন, জুডিশিয়াল সার্ভিস পে কমিশন এবং সশস্ত্র বাহিনী বেতন কমিশন সম্পর্কিত সুপারিশ প্রণয়নের জন্য একটি সমন্বিত কমিটি পুনর্গঠন করে। অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, ওই কমিটি ইতোমধ্যে বেতন কাঠামো পুনর্বিন্যাস সংক্রান্ত সুপারিশ জমা দিয়েছে।

বিজ্ঞাপন

বর্তমানে সেই সুপারিশ বিশ্লেষণ করে বাজেটে বরাদ্দ নির্ধারণের বিষয়ে প্রাথমিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের কাজ চলছে। অর্থনৈতিক সক্ষমতা বিবেচনায় নবম পে-স্কেল একাধিক ধাপে বাস্তবায়নের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। তবে চূড়ান্ত অনুমোদন এখনো হয়নি বলে জানা গেছে। সরকারের উচ্চপর্যায়ের অনুমোদন পেলে ধাপে ধাপে তা কার্যকর করা হবে।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র জানায়, প্রথম ধাপে মূল বেতন বৃদ্ধি করা হবে। এরপর পর্যায়ক্রমে চিকিৎসা ভাতা, যাতায়াত ভাতা এবং অন্যান্য সুবিধা পুনর্নির্ধারণ করা হতে পারে। তবে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত সরকারের নীতিনির্ধারক পর্যায় থেকে আসবে।

দীর্ঘদিন ধরে নতুন পে-স্কেলের দাবি থাকলেও সর্বশেষ অষ্টম পে-স্কেল ঘোষণা হয়েছিল ২০১৫ সালে। এরপর প্রায় ১১ বছর পেরিয়ে গেলেও নতুন কাঠামো বাস্তবায়ন হয়নি।

বিজ্ঞাপন

পরবর্তীতে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর অন্তর্বর্তী সরকার নতুন করে পে-কমিশন গঠন করে। ওই কমিশন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে তাদের সুপারিশ জমা দেয়।

প্রস্তাবিত কাঠামো অনুযায়ী, নবম পে-স্কেলে সর্বনিম্ন বেতন ২০ হাজার টাকা এবং সর্বোচ্চ ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা নির্ধারণের সুপারিশ করা হয়েছে। এতে বেতন অনুপাত দাঁড়াবে ১:৮, যা পূর্ববর্তী কাঠামোগুলোর তুলনায় আরও সংকুচিত।

তুলনামূলকভাবে দেখা যায়, ১৯৭৩ সালের প্রথম পে-স্কেলে এই অনুপাত ছিল ১:১৫.৪, যা ২০১৫ সালের অষ্টম পে-স্কেলে কমে দাঁড়ায় ১:৯.৪। নতুন প্রস্তাবে এই ব্যবধান আরও কমিয়ে আনার সুপারিশ করা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

প্রস্তাবে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, বর্তমানে ২০তম গ্রেডের একজন সরকারি কর্মচারীর মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা হলেও ভাতাসহ মোট আয় প্রায় ১৬ হাজার ৯৫০ টাকা। নতুন কাঠামো কার্যকর হলে একই গ্রেডে মোট আয় বেড়ে প্রায় ৪১ হাজার ৯০০ টাকার বেশি হতে পারে।

এছাড়া ১ম থেকে ১৯তম গ্রেড পর্যন্ত বিভিন্ন স্তরে ভাতা বৃদ্ধির প্রস্তাব থাকলেও আর্থিক ভারসাম্য রক্ষার স্বার্থে বৃদ্ধির হার তুলনামূলকভাবে সীমিত রাখার সুপারিশ করা হয়েছে। যাতায়াত ভাতা, টিফিন ভাতা, ধোলাই ভাতা ও ঝুঁকি ভাতার মতো সুবিধাগুলো পুনর্বিবেচনার কথাও বলা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

তবে গাড়ি সুবিধা নগদায়নের বিষয়টি এই হিসাবের বাইরে রাখা হয়েছে। পাশাপাশি বর্তমানে চালু থাকা ১০ ও ১৫ শতাংশ বিশেষ ভাতা নতুন কাঠামোর সঙ্গে সমন্বয় করার সুপারিশও রয়েছে।

জেবি/এএস

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD