Logo

জুলাই সনদকে দলীয় স্বার্থে ব্যবহার করছে বিএনপি: নাহিদ ইসলাম

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
৩০ এপ্রিল, ২০২৬, ১৫:৫৩
জুলাই সনদকে দলীয় স্বার্থে ব্যবহার করছে বিএনপি: নাহিদ ইসলাম
ছবি: সংগৃহীত

জুলাই জাতীয় সনদ নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক আরও তীব্র হয়েছে জাতীয় সংসদে। বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম অভিযোগ করেছেন, বিএনপি এই সনদের মূল উদ্দেশ্যকে বিকৃত করে একে দলীয় ইশতেহারে রূপ দিয়েছে এবং এর গুরুত্বকে ক্ষুণ্ন করেছে।

বিজ্ঞাপন

বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) জাতীয় সংসদে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব মন্তব্য করেন। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।

নাহিদ ইসলাম বলেন, জুলাই গণআন্দোলনের মাধ্যমে যে জাতীয় সনদ তৈরি হয়েছে, তা দেশের বৃহত্তর ঐক্যের প্রতীক হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু বিএনপি এতে ‘নোট অব ডিসেন্ট’ যুক্ত করে এর ঐক্যবদ্ধ চরিত্র নষ্ট করেছে। তার ভাষায়, সনদে এমন ধারা সংযোজন করা হয়েছে, যেখানে বলা হয়েছে—নির্বাচনে জয়ী দল নিজেদের ইশতেহার অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে পারবে। এতে জাতীয় ঐকমত্যের প্রয়োজনীয়তা প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

তিনি আরও বলেন, অতীতে যেমন একটি বড় রাজনৈতিক দল সংবিধানকে দলীয় ইশতেহারের মতো ব্যবহার করেছিল, বর্তমানে বিএনপিও একই পথে হাঁটছে। জুলাই গণভোটকে তিনি জনগণের স্পষ্ট রাজনৈতিক রায় হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, সেই রায়ের ভিত্তিতে দ্রুত সাংবিধানিক সংস্কার পরিষদ গঠন করা প্রয়োজন ছিল। কিন্তু বিএনপি সংস্কারের বদলে নির্বাচনকেন্দ্রিক রাজনীতিতে বেশি মনোযোগ দিচ্ছে।

দেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতির সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘সাথে থাকলে সঙ্গী, না থাকলে জঙ্গি’—এই মনোভাব এখনও বিদ্যমান, যা গণতন্ত্রের জন্য ক্ষতিকর। স্বাধীনতার পাঁচ দশকের বেশি সময় পার হলেও মুক্তিযুদ্ধের পক্ষ-বিপক্ষ নিয়ে বিভাজন কাটেনি—এটিকে তিনি হতাশাজনক হিসেবে উল্লেখ করেন।

তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে বড় রাজনৈতিক দলগুলো এই বিভাজন নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারেনি। অতীতে বিভিন্ন রাজনৈতিক জোট ও সম্পর্কের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, এসব বিষয়ে সুস্পষ্ট অবস্থান না থাকায় বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

নাহিদ ইসলাম আরও বলেন, জুলাই গণআন্দোলনের পর নতুন প্রজন্মের প্রত্যাশা ছিল জাতীয় সংসদে বিভাজনের রাজনীতি কমে আসবে। কিন্তু বাস্তবে সেই প্রত্যাশা পূরণ হয়নি। তিনি মনে করেন, দেশের অগ্রগতির স্বার্থে অতীতের বিতর্ক পেছনে ফেলে দায়িত্বশীল রাজনৈতিক আচরণ জরুরি।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যের সঙ্গে একমত পোষণ করে তিনি বলেন, সামনে এগিয়ে যেতে হলে ইতিহাসভিত্তিক বিরোধ নিষ্পত্তি করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে তিনি সতর্ক করেন, মুক্তিযুদ্ধ যেমন কোনো ষড়যন্ত্র নয়, তেমনি এর নাম ব্যবহার করে অনিয়ম বা কর্তৃত্ববাদী প্রবণতা প্রতিষ্ঠাও গ্রহণযোগ্য নয়।

মুক্তিযুদ্ধকে জাতির ভিত্তি হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এটি নিয়ে বিতর্কের সুযোগ নেই। একইসঙ্গে জুলাই গণআন্দোলনকে তিনি সেই চেতনার ধারাবাহিকতা হিসেবে অভিহিত করেন। জনগণকে বিভক্ত করার রাজনীতি থেকে বেরিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।

বিজ্ঞাপন

অর্থনৈতিক খাত নিয়েও কড়া সমালোচনা করেন বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ। তার দাবি, বর্তমান সংসদ সদস্যদের মধ্যে বড় একটি অংশ ঋণগ্রস্ত এবং তাদের মোট ঋণের পরিমাণ ১১ হাজার কোটি টাকার বেশি। এর অধিকাংশই সরকারি দলের সদস্যদের বলে তিনি উল্লেখ করেন।

তিনি অভিযোগ করেন, এই বিপুল ঋণ পুনঃতফসিলের সুবিধা দিতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নেতৃত্বে এমন ব্যক্তিকে বসানো হয়েছে, যিনি এ বিষয়ে বিশেষভাবে দক্ষ। এতে আর্থিক খাতে সাধারণ মানুষের আস্থা কমে যাচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

বিজ্ঞাপন

ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের তথ্য উদ্ধৃত করে তিনি বলেন, সরকারি দলের প্রার্থীদের একটি বড় অংশই ঋণগ্রস্ত ছিলেন এবং নির্বাচনের আগে আংশিক পরিশোধের মাধ্যমে তারা ঋণ পুনঃতফসিল করে নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন।

নাহিদ ইসলাম আরও বলেন, নির্বাচনী বিধান অনুযায়ী ঋণখেলাপিরা প্রার্থী হতে পারেন না। তবে বাস্তবে দেখা গেছে, নির্বাচনের আগে কিছু অর্থ পরিশোধ করে অনেকেই সেই বাধা অতিক্রম করেছেন। তিনি কয়েকজন সংসদ সদস্যের বিপুল ঋণের উদাহরণও তুলে ধরেন, যা শত শত কোটি টাকায় পৌঁছেছে।

জেবি/এএস

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD