Logo

ইসলামী আন্দোলনেও শিক্ষার্থীদের নিয়ে গঠিত হচ্ছে ‘ছাত্রী উইং’

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
১৩ মে, ২০২৬, ১৪:২৩
ইসলামী আন্দোলনেও শিক্ষার্থীদের নিয়ে গঠিত হচ্ছে ‘ছাত্রী উইং’
ছবি: সংগৃহীত

রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক বিস্তারের লক্ষ্য নিয়ে নতুন কৌশল হাতে নিয়েছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। নারী ভোটার ও তরুণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রভাব বাড়াতে এবার আলাদা ‘ছাত্রী উইং’ গঠনের উদ্যোগ নিয়েছে দলটি। দলীয় সূত্র বলছে, ঈদুল আজহার পর নতুন এই সংগঠনের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসতে পারে।

বিজ্ঞাপন

দলটির নেতাদের মতে, নারী শিক্ষার্থীদের মধ্যে সাংগঠনিক ভিত্তি শক্তিশালী করা, ইসলামী মূল্যবোধভিত্তিক রাজনীতির বার্তা ছড়িয়ে দেওয়া এবং ভবিষ্যৎ নারী নেতৃত্ব তৈরি করাই এ উদ্যোগের প্রধান উদ্দেশ্য।

ইসলামী আন্দোলনের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব ও মুখপাত্র গাজী আতাউর রহমান জানিয়েছেন, এতদিন নারীদের নিয়ে সাংগঠনিক কার্যক্রম থাকলেও পৃথক ছাত্রী সংগঠন গঠনের পরিকল্পনা ছিল না। তবে বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতা বিবেচনায় নারী শিক্ষার্থীদের জন্য আলাদা প্ল্যাটফর্ম তৈরির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

নির্বাচনের অভিজ্ঞতা থেকে নতুন ভাবনা

বিজ্ঞাপন

দলীয় সূত্রগুলো বলছে, সাম্প্রতিক জাতীয় সংসদ নির্বাচন পর্যালোচনার সময় নারী ভোটার ও শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণের বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব পায়। বিশেষ করে ইসলামপন্থী দলগুলোর মধ্যে নারী সংগঠন ও ছাত্রী সংগঠন সক্রিয়ভাবে কাজে লাগানোর বিষয়টি ইসলামী আন্দোলনের অভ্যন্তরীণ আলোচনায় উঠে আসে।

রাজনীতি বিশ্লেষকদের মতে, নারী ভোটার ও তরুণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে সাংগঠনিক উপস্থিতি বাড়াতে নারীভিত্তিক ইউনিট কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। সেই অভিজ্ঞতা থেকেই ইসলামী আন্দোলন নতুন সাংগঠনিক পরিকল্পনার দিকে এগোচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে হাতপাখা প্রতীক নিয়ে এককভাবে অংশ নেয় দলটি। নির্বাচনে তারা মোট ভোটের প্রায় ২ দশমিক ৭০ শতাংশ পায় এবং একটি আসনে জয় লাভ করে।

কেন প্রয়োজন আলাদা ছাত্রী সংগঠন

১৯৮৭ সালে চরমোনাই পীরের হাত ধরে প্রতিষ্ঠিত ইসলামী আন্দোলন দীর্ঘ সময় কোনো নারী ইউনিট ছাড়াই কার্যক্রম পরিচালনা করেছে। পরে গত বছরের ৮ মার্চ আন্তর্জাতিক নারী দিবসে দলটি ৩৪ সদস্যবিশিষ্ট কেন্দ্রীয় মহিলা ইউনিট গঠন করে।

বিজ্ঞাপন

তবে দলীয় মূল্যায়নে দেখা যায়, প্রচলিত মহিলা ইউনিটের মাধ্যমে নারী শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রত্যাশিত মাত্রায় সাংগঠনিক বিস্তার সম্ভব হচ্ছে না। প্রজন্মগত ব্যবধান ও কাঠামোগত সীমাবদ্ধতাকেও এর কারণ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

এ কারণেই তরুণী শিক্ষার্থীদের জন্য পৃথক সাংগঠনিক কাঠামোর প্রয়োজনীয়তা সামনে আসে। দলীয় সূত্র জানায়, সংগঠনটির কাঠামো, নেতৃত্ব ও কার্যক্রম নিয়ে ইতোমধ্যে আলোচনা শুরু হয়েছে। আগামী ১৮ মে দলের সভায় এ বিষয়ে আরও বিস্তারিত সিদ্ধান্ত হতে পারে।

মাঠের রাজনীতি নাকি দাওয়াহভিত্তিক কার্যক্রম?

বিজ্ঞাপন

ছাত্রী উইংয়ের ভূমিকা কী হবে, তা নিয়েও দলের ভেতরে আলোচনা চলছে। সূত্রগুলো জানায়, সংগঠনটি সরাসরি মাঠের রাজনৈতিক কর্মসূচিতে সক্রিয় থাকবে নাকি মূলত দাওয়াহ, সামাজিক ও সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে সীমাবদ্ধ থাকবে—এ নিয়ে মতবিনিময় হয়েছে।

শেষ পর্যন্ত দলের আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করিমের অনুমোদনের পর সংগঠন গঠনের বিষয়ে শীর্ষ নেতারা নীতিগতভাবে একমত হয়েছেন।

দলটির নেতারা মনে করছেন, ইসলামপন্থী দলগুলোকে ঘিরে নারীদের বিষয়ে যে নেতিবাচক ধারণা প্রচলিত রয়েছে, নতুন এই উদ্যোগের মাধ্যমে সেই ভাবমূর্তি পরিবর্তনের চেষ্টা করা হবে।

বিজ্ঞাপন

নেতৃত্বে আসতে পারেন আলেমা ও পেশাজীবীরা

দলীয় পরিকল্পনা অনুযায়ী, ইসলামী ছাত্র আন্দোলনের মতোই নতুন ছাত্রী উইংও মূল দলের নিয়ন্ত্রণে একটি স্বতন্ত্র ইউনিট হিসেবে পরিচালিত হবে। আহ্বায়ক, সদস্যসচিব এবং বিভাগীয় পর্যায়ের সদস্যদের নিয়ে প্রাথমিক কাঠামো গঠন করা হতে পারে।

সূত্র জানায়, আলেমা, চিকিৎসক, শিক্ষক ও বিভিন্ন পেশাজীবী নারীদের নেতৃত্বে আনার বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি সাধারণ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদেরও সম্পৃক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।

বিজ্ঞাপন

ডিজিটাল নেটওয়ার্ক ও সাংগঠনিক বিস্তারে জোর

ইসলামী আন্দোলনের নেতাদের ভাষ্য, নারী শিক্ষার্থীদের কেবল রাজনৈতিক কর্মী হিসেবে নয়, বরং জ্ঞান, দক্ষতা, সমাজকল্যাণ ও দাওয়াহভিত্তিক কার্যক্রমে সম্পৃক্ত করার লক্ষ্য নিয়েই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও থানা শহরভিত্তিক সাংগঠনিক কাঠামো গড়ে তোলার পাশাপাশি ডিজিটাল নেটওয়ার্কিংয়েও গুরুত্ব দেওয়া হবে। ভবিষ্যতে নির্বাচনকেন্দ্রিক কার্যক্রমেও এই সংগঠনের সম্পৃক্ততা থাকবে বলে জানিয়েছেন দলটির নেতারা।

দলের মুখপাত্র গাজী আতাউর রহমান বলেন, নতুন ছাত্রী উইংয়ের নিজস্ব গঠনতন্ত্র, নীতিমালা ও সাংগঠনিক কার্যক্রম থাকবে। তবে এটি ইসলামী আন্দোলনের অধীনেই পরিচালিত হবে।

তিনি বলেন, এই উদ্যোগ শুধু নির্বাচনকেন্দ্রিক নয়। নারীদের নৈতিক, সামাজিক ও সাংগঠনিকভাবে দক্ষ করে তোলাও আমাদের অন্যতম লক্ষ্য।

বিজ্ঞাপন

রাজনীতি–সংশ্লিষ্ট বিশ্লেষকদের মতে, নারী ভোটার ও তরুণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে সাংগঠনিক প্রভাব বাড়ানোর কৌশল হিসেবেই ইসলামী আন্দোলন এ উদ্যোগ নিয়েছে। তবে নতুন এই সংগঠন দেশের ক্যাম্পাস রাজনীতিতে কতটা প্রভাব ফেলতে পারবে, তা নির্ভর করবে মাঠপর্যায়ের কার্যক্রম ও সাংগঠনিক সক্ষমতার ওপর।

জেবি/এএস

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD