Logo

অর্থবছর জানুয়ারি-ডিসেম্বর করার প্রস্তাব জামায়াতের

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
৯ জুন, ২০২৬, ১৮:৫৬
অর্থবছর জানুয়ারি-ডিসেম্বর করার প্রস্তাব জামায়াতের
ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশের বিদ্যমান জুলাই-জুন ভিত্তিক অর্থবছর পরিবর্তন করে জানুয়ারি-ডিসেম্বর মেয়াদে নিয়ে আসার প্রস্তাব দিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। দলটির আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, বর্তমান অর্থবছরের শেষাংশ বর্ষা ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময়ের সঙ্গে মিলে যাওয়ায় উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে তাড়াহুড়ো এবং অনিয়মের সুযোগ সৃষ্টি হয়।

বিজ্ঞাপন

মঙ্গলবার (৯ জুন) রাজধানীর মগবাজারের আল-ফালাহ মিলনায়তনে আয়োজিত ‘জনমুখী বাজেট প্রস্তাবনা ২০২৬-২৭’ অনুষ্ঠানে উদ্বোধনী বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, দেশের উন্নয়ন বাজেটের একটি বড় অংশ সাধারণত অর্থবছরের শেষ দুই মাসে দ্রুত ব্যয়ের চেষ্টা করা হয়। তার মতে, অনেক ক্ষেত্রে এটি কার্যকর বাস্তবায়নের পরিবর্তে অপচয় ও অনিয়মের ক্ষেত্র তৈরি করে।

বিজ্ঞাপন

তিনি বলেন, বর্ষাকাল, বন্যা, ঘূর্ণিঝড়সহ নানা প্রাকৃতিক কারণে বছরের এই সময়ে প্রকল্প বাস্তবায়ন বাধাগ্রস্ত হয়। ফলে জনগণ প্রত্যাশিত সুফল পায় না।

তিনি জানান, সংসদে সুযোগ পেলে জামায়াত দেশের অর্থবছরকে আন্তর্জাতিক ক্যালেন্ডার বছরের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করার প্রস্তাব উত্থাপন করবে। এতে সরকারি ব্যয়ের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বাড়বে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

বাজেট ব্যবস্থাপনা নিয়ে কথা বলতে গিয়ে জামায়াত আমির সম্পূরক বাজেট উপস্থাপনের বর্তমান প্রক্রিয়ারও সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, নিয়ম অনুযায়ী মূল বাজেট ঘোষণার তিন মাস আগে সম্পূরক বাজেট সংসদে উপস্থাপন করার কথা থাকলেও বাস্তবে তা প্রায় শেষ মুহূর্তে আনা হয়। এর ফলে প্রকৃত ব্যয়ের হিসাব ও মূল্যায়ন কঠিন হয়ে পড়ে। ভবিষ্যতে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সম্পূরক বাজেট উপস্থাপনের দাবি জানানো হবে বলেও জানান তিনি।

বিজ্ঞাপন

অনুষ্ঠানে ডা. শফিকুর রহমান সাম্প্রতিক নির্বাচন ও গণভোট প্রসঙ্গও তুলে ধরেন। তিনি দাবি করেন, নির্বাচনে জনগণ ব্যাপক অংশগ্রহণ করেছে এবং গণভোটেও বিপুলসংখ্যক ভোটার মতামত দিয়েছেন। তবে গণভোটের ফলাফল বাস্তবায়ন না হওয়ায় তিনি হতাশা প্রকাশ করেন। তার ভাষ্য, নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক দলগুলো গণভোটের রায় মেনে চলার প্রতিশ্রুতি দিলেও পরে সেই অঙ্গীকার বাস্তবায়িত হয়নি।

তিনি আরও বলেন, গণভোটে সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোটার একটি নির্দিষ্ট মতের পক্ষে অবস্থান নিলেও সেই রায়ের প্রতিফলন দেখা যায়নি। এটি গণতান্ত্রিক চর্চার জন্য ইতিবাচক বার্তা নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

বিজ্ঞাপন

অনুষ্ঠানে পরবর্তীতে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য ৮ লাখ ৩৯ হাজার ৫০৫ কোটি টাকার বিকল্প জাতীয় বাজেট প্রস্তাবনা উপস্থাপন করে। দলের পক্ষ থেকে বাজেটের বিস্তারিত তুলে ধরেন সংসদ সদস্য সাইফুল আলম খান (মিলন)।

অনুষ্ঠানে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারাও উপস্থিত ছিলেন। তাদের মধ্যে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, খেলাফত মজলিসের নায়েবে আমির আহমাদ আলী কাসেমী, এবি পার্টির সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান ফুয়াদ এবং জাগপার সভাপতি তাসমিয়া প্রধান উল্লেখযোগ্য।

এ ছাড়া জামায়াতের কেন্দ্রীয় নেতাদের মধ্যে সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার, জ্যেষ্ঠ নায়েবে আমির এটিএম আজহারুল ইসলাম, নায়েবে আমির মজিবুর রহমান এবং সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদসহ অন্যান্য নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

বিজ্ঞাপন

অনুষ্ঠানে দলটির পক্ষ থেকে অর্থনীতি, বাজেট ব্যবস্থাপনা, উন্নয়ন ব্যয় এবং রাষ্ট্রীয় জবাবদিহিতা বাড়ানোর বিভিন্ন প্রস্তাবও তুলে ধরা হয়।

জেবি/এএস

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD