Logo

রাজনীতি ছাড়ার গুঞ্জন উড়িয়ে দিলেন শেখ হাসিনা

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
৯ জুন, ২০২৬, ১৫:২৫
রাজনীতি ছাড়ার গুঞ্জন উড়িয়ে দিলেন শেখ হাসিনা
শেখ হাসিনা | ফাইল ছবি

ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর ভারতে অবস্থানকালে রাজনীতি থেকে সরে দাঁড়ানোর চিন্তা একসময় তার মনে এসেছিল বলে জানিয়েছেন আওয়ামী লীগ সভানেত্রী ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে সেই ভাবনা থেকে সরে এসে দলীয় নেতাকর্মী ও দেশের মানুষের পাশে থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে জানিয়েছেন তিনি।

বিজ্ঞাপন

মঙ্গলবার (৯ জুন) নয়াদিল্লি থেকে ‘এই সময়’-কে দেওয়া এক দীর্ঘ সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনা বলেন, ব্যক্তিগতভাবে অবসরের চিন্তা থাকলেও দেশের বিদ্যমান পরিস্থিতি তাকে নতুন করে দায়িত্ববোধের জায়গায় দাঁড় করিয়েছে। তার ভাষ্য, দেশের জনগণ ও দলীয় নেতাকর্মীদের কঠিন সময়ে তিনি নিজেকে দূরে সরিয়ে রাখতে পারেন না।

সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনা বলেন, তার রাজনৈতিক জীবনে বহুবার নতুন নেতৃত্বের প্রয়োজনীয়তার কথা তিনি তুলে ধরেছেন। তিনি মনে করেন, দীর্ঘ সময় একই নেতৃত্বে থাকার পরিবর্তে নতুন প্রজন্মকে দায়িত্ব গ্রহণের সুযোগ দেওয়া উচিত।

তিনি জানান, অতীতে আওয়ামী লীগের বিভিন্ন কাউন্সিলেও তিনি তরুণ নেতৃত্বের উত্থানের পক্ষে মত দিয়েছেন। ব্যক্তিগতভাবে তার কোনো পদ বা ক্ষমতার আকাঙ্ক্ষা নেই বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

বিজ্ঞাপন

তবে বর্তমান বাস্তবতায় সেই চিন্তা আপাতত স্থগিত রাখতে বাধ্য হয়েছেন বলে উল্লেখ করেন আওয়ামী লীগ সভানেত্রী। তার মতে, দেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে রয়েছে যে এখন অবসরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া তার পক্ষে সম্ভব নয়।

শেখ হাসিনা বলেন, তার বাবা শেখ মুজিবুর রহমান তাকে সবসময় মানুষের দুঃসময়ে পাশে থাকার শিক্ষা দিয়েছেন। তিনি স্মরণ করেন, ১৯৮১ সালে দেশে ফিরে রাজনৈতিক সংগ্রামের নতুন অধ্যায় শুরু করার সময় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরাই তার প্রধান শক্তি ছিলেন।

বিজ্ঞাপন

বর্তমানে দলীয় নেতাকর্মীদের একটি অংশ নানা প্রতিকূলতার মধ্যে রয়েছেন বলে দাবি করে তিনি বলেন, এমন পরিস্থিতিতে তাদের ছেড়ে ব্যক্তিগত বিশ্রামের কথা ভাবা তার জন্য কঠিন।

সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনা দেশের বর্তমান রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি দাবি করেন, গণতান্ত্রিক পরিবেশ, আইনের শাসন এবং রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের সুযোগ সংকুচিত হয়েছে।

তার ভাষ্য অনুযায়ী, আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের অনেকে বিভিন্ন ধরনের চাপ ও প্রতিকূলতার মুখে রয়েছেন। পাশাপাশি সংখ্যালঘু সম্প্রদায়, শিশুদের স্বাস্থ্যসেবা এবং মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস সংরক্ষণের বিষয়েও তিনি উদ্বেগের কথা তুলে ধরেন।

বিজ্ঞাপন

তিনি বলেন, এসব পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে তিনি মনে করেন, এখন অবসরের পরিবর্তে জনগণের প্রতি দায়িত্ব পালন করাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

শেখ হাসিনা বলেন, তার লক্ষ্য ক্ষমতায় ফেরা নয়; বরং জনগণের প্রতি দায়িত্ব পালন করা। তিনি উল্লেখ করেন, দেশের মানুষের নিরাপত্তা, অর্থনৈতিক উন্নয়ন, গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা, আইনের শাসন নিশ্চিতকরণ এবং সমঅধিকারের পরিবেশ গড়ে তোলার লক্ষ্য বাস্তবায়িত হওয়ার পরই তিনি অবসরের বিষয়ে ভাবতে চান।

তার মতে, রাজনৈতিক দায়িত্ব শুধু একটি পদে থাকার বিষয় নয়; বরং আদর্শ ও জনগণের প্রতি দায়বদ্ধতার বিষয়।

বিজ্ঞাপন

দলের ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব কার হাতে যাবে—এ প্রশ্নের জবাবে শেখ হাসিনা বলেন, আওয়ামী লীগের নেতৃত্ব কোনো ব্যক্তিগত উত্তরাধিকার নয়। তিনি জোর দিয়ে বলেন, দলটি কোনো পরিবারের সম্পত্তি নয়; বরং একটি গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক সংগঠন।

তার মতে, দলের কাউন্সিল, কর্মীদের মতামত, সাংগঠনিক যোগ্যতা, ত্যাগ, সাহস এবং আদর্শিক অবস্থানের ভিত্তিতে ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব নির্বাচন করা হবে।

তিনি আরও বলেন, নেতৃত্ব একটি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। যারা সংগঠনকে এগিয়ে নিতে সক্ষম হবেন এবং কঠিন সময়ে কর্মীদের পাশে দাঁড়াতে পারবেন, তারাই ভবিষ্যতে নেতৃত্বে আসবেন।

বিজ্ঞাপন

শেখ হাসিনা বলেন, আওয়ামী লীগের অনেক প্রবীণ নেতা দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে দলকে গুরুত্বপূর্ণ অবদান দিয়েছেন। তাদের অভিজ্ঞতা ও ত্যাগকে মূল্যায়ন করা প্রয়োজন।

একই সঙ্গে তিনি তরুণ নেতৃত্বের বিষয়েও আশাবাদ ব্যক্ত করেন। তার মতে, প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও দলের অনেক তরুণ নেতা সংগঠনের কার্যক্রম ধরে রেখেছেন এবং ভবিষ্যতে তারাই দলের গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ হয়ে উঠবেন।

তিনি জানান, নতুন প্রজন্মের মেধাবী, দেশপ্রেমিক এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী তরুণদের সামনে নিয়ে আসার বিষয়ে দল ইতোমধ্যে পরিকল্পনা করছে।

বিজ্ঞাপন

সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনা ইঙ্গিত দেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে তাৎক্ষণিক বড় ধরনের পরিবর্তনের সম্ভাবনা নেই। তার মতে, প্রথমে দেশে একটি স্বাভাবিক ও গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনা প্রয়োজন।

পরবর্তীতে দলীয় কাউন্সিলের মাধ্যমে সাংগঠনিক পুনর্গঠন এবং নতুন নেতৃত্ব নির্বাচনের প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া হবে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

বিজ্ঞাপন

সাক্ষাৎকারে তাকে দেশে ফেরার সম্ভাবনা নিয়েও প্রশ্ন করা হয়। জবাবে শেখ হাসিনা বলেন, আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক ইতিহাস বিভিন্ন প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে গড়ে উঠেছে এবং অতীতেও নানা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করেছে দলটি।

তিনি দাবি করেন, জনগণের সমর্থন ও আস্থার ভিত্তিতেই তিনি এবং তার দল ভবিষ্যতে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাবে।

দেশে প্রত্যাবর্তনের বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করে শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশের জনগণের শক্তিই তার সবচেয়ে বড় ভরসা। তিনি বিশ্বাস করেন, একসময় গণতান্ত্রিক পরিবেশ পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হবে এবং সেই বাস্তবতার মধ্য দিয়েই তিনি দেশে ফিরবেন।

বিজ্ঞাপন

সাক্ষাৎকারের শেষাংশে তিনি পুনর্ব্যক্ত করেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে রাজনীতি থেকে সরে দাঁড়ানোর কোনো পরিকল্পনা তার নেই। বরং দেশের মানুষ ও দলীয় কর্মীদের পাশে থেকেই ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করতে চান তিনি।

জেবি/এএস

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD