Logo

মাইক্রোওভেন পার্থর কাছে কে চেয়েছে: সংসদে জামায়াত আমির

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
১৮ জুন, ২০২৬, ১৮:২৮
মাইক্রোওভেন পার্থর কাছে কে চেয়েছে: সংসদে জামায়াত আমির
ছবি: সংগৃহীত

জাতীয় সংসদে সংসদ সদস্যদের ব্যক্তিগত সুবিধা ও সংসদ ভবনে বসবাসকারী সদস্যদের জন্য প্রয়োজনীয় আসবাবপত্র সংক্রান্ত আলোচনায় ‘মাইক্রোওভেন’ প্রসঙ্গ ঘিরে তৈরি হয়েছে বিতর্ক ও পাল্টাপাল্টি বক্তব্য। বিষয়টি নিয়ে কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান।

বিজ্ঞাপন

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) জাতীয় সংসদ অধিবেশনে এ ঘটনা ঘটে। এসময় বিজিপির চেয়ারম্যান ও সংসদ সদস্য আন্দালিব রহমান পার্থকে উদ্দেশ্য করে বলেন, ‘মাইক্রোওভেন উনার কাছে কে চেয়েছে।’

বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেন, মাননীয় সদস্য (পার্থ) পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে যে কথাগুলো বলেছেন, আপনি (স্পিকার) তো প্রথমেই নাকজ করেছেন যে, এটা পয়েন্ট অব অর্ডারের বিষয় না। দুই নম্বর একজন সদস্য (জামায়াত নেতা মজিবুর রহমান) তিনি সবার জন্য একটা বিষয় চেয়েছে। আপনি (স্পিকার) রাইটলি বলেছেন যে এটা হাউজে না হলে এটার জন্য কমিটি আছে ওখানে বললেই হতো। কিন্তু তিনি এটাকে সূত্র ধরে আবার আরেকটা যে গাড়ি বাড়ি সব নিয়ে আসলেন। উনি তো আমি মনে করি একজন বিজ্ঞ পার্লামেন্টারিয়ান। আমার নিজের থেকে অফারও দিয়ে দিলেন যে আমি সব দিয়ে দেব। উনার কাছে চাইছে নাকি কেউ যে উনি দেবেন? আমার মনে হয় যে আমাদের মানসিকতাগুলা এমন হওয়া উচিত যেটা এখানে দাঁড়িয়ে অন্তত কেউ কারো সম্মানে আমরা আঘাত করব না।

বিজ্ঞাপন

বিরোধীদলীয় নেতা আশা প্রকাশ করে বলেন, আমরা আশা করব যে আমিসহ আমরা সবাই আগামীতে এগুলোর প্রতি আরো যত্নশীল হব। ধন্যবাদ স্পিকার।

এ সময় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বিষয়টি নিয়ে আলোচনা সীমিত রাখার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, মাননীয় বিরোধী দলের নেতা এটা নিয়ে কোনো বিতর্ক হোক এটা আমি চাই না। আপনি অন্য কোনও বিষয়ে বললে বলেন। এটা সম্পর্কে আর শুনতে চাই না। এটা আরেকটি কথা আমি বলি আপনাদের কথা। আর আর যেভাবে আপনি একজন সদস্যকে অফার করেছেন তাকে দেবেন। এটাও তার জন্য একটি ডিসরেসপেক্টফুল মনে হতে পারে। উনি নিজের জন্য চাননি। সকল সংসদ সদস্য যারা বসবাস করে সংসদের সরকারি বাড়িতে তাদের জন্য বলেছেন। সুতরাং এটা নিয়ে এই বিষয়টা নিয়ে আর বিতর্ক না হোক এটা আমি চাই। মাননীয় নেতা এরপরে আর বাড়াবাড়ি তো কোনো দরকার নেই। বিরোধী দলের নেতা আপনি তো এই সম্পর্কেই বলবেন তো।

বিজ্ঞাপন

আন্দালিব রহমান পার্থের বক্তব্যের পর এবং বিরোধীদলীয় নেতার বক্তব্যের আগে স্পিকার রুলিং দিয়ে বিষয়টি নিয়ে বিতর্ক না বাড়ানোর নির্দেশ দেন।

এ সময় তিনি বলেন, বাজেট সেশনের ওপরে বক্তব্য রাখতে গিয়ে বলেছেন। বাজেট সেশন এমন একটি সেশন বাজেট বক্তব্য এমন একটি বক্তব্য সেখানে অনেক বিষয়ে বক্তব্য রাখা যায়। এবং তাছাড়া একজন সদস্য তার সুবিধা অসুবিধার কথা বলেছেন। আমি মনে করি এটা সংসদে না বললেও ভালো হতো। কিন্তু এটা বলে এমন কোনো গৃহীত অপরাধও তিনি করেননি। আমাদের হাউস কমিটি আছে সেখানে আমরা সংসদ সদস্যদেরকে আসবাব পত্র ইত্যাদি আমরা দিয়ে থাকি। সেই হিসেবে তিনি যদি সব সদস্য তিনি তার নিজের জন্য চাননি। সব সংসদ সদস্যদের জন্যই যারা হাউজে সংসদের দেওয়া ভবনে যারা বসবাস করে তাদের সম্পর্কে বলেছে। সুতরাং এটা এমন কোনো গৃহীত অপরাধ হয়নি। তবে আমি মনে করি না বললেই ভালো হতো। এতে জনমনে অন্য ধরনের ধারণা হতে পারে। তবে এটি তো তাদের প্রাপ্য হতে পারে। এটা এমন কিছু বড় জিনিস নেই। এই সামান্য জিনিস নিয়ে একে আর তর্ক বিতর্ক করতে চাই না। কারণ এটি নিয়ে বিতর্ক করলে আবার খারাপ মেসেজ যাবে বাইরে। ভবিষ্যতে বক্তব্য রাখার সময় আমরা সবাই কেয়ারফুল থাকব। যেসব জিনিস পার্সোনালি আপনি যদি হাউস কমিটির চেয়ারম্যান আছেন সদস্যরা যদি তাকে জানান তারাই এটার সমাধান করতে পারবেন।

জেবি/এএস

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD