Logo

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে জোট নাকি একলা চলো নীতিতে এনসিপি?

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
২১ জুন, ২০২৬, ২০:৫৮
স্থানীয় সরকার নির্বাচনে জোট নাকি একলা চলো নীতিতে এনসিপি?
ছবি: সংগৃহীত

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জোটগতভাবে অংশ নিয়ে আলোচনায় আসা জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) এবার স্থানীয় সরকার নির্বাচনে নিজস্ব পরিচয়ে মাঠে নামার প্রস্তুতি নিচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

দলটির শীর্ষ নেতারা জানিয়েছেন, আসন্ন সিটি কর্পোরেশন, উপজেলা, পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে এককভাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার কৌশল নিয়েই এগোচ্ছে এনসিপি।

দলের নেতাদের মতে, স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুধু জনপ্রতিনিধি নির্বাচনের ক্ষেত্র নয়, বরং নতুন রাজনৈতিক দল হিসেবে তৃণমূল পর্যায়ে সাংগঠনিক ভিত্তি শক্তিশালী করার বড় সুযোগ। সেই লক্ষ্যকে সামনে রেখে ইতোমধ্যে দেশজুড়ে সম্ভাব্য প্রার্থী খোঁজার কার্যক্রম শুরু হয়েছে।

ইউনিয়ন পরিষদ থেকে সিটি কর্পোরেশন—সব স্তরে প্রার্থী

বিজ্ঞাপন

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, স্থানীয় সরকারের প্রায় সব পর্যায়ে প্রার্থী দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে এনসিপির। শুধু চেয়ারম্যান বা মেয়র পদ নয়, ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য পদেও দলীয় সমর্থিত প্রার্থী দেওয়ার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে।

ইতোমধ্যে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সম্ভাব্য প্রার্থীদের নাম চূড়ান্ত করার কাজ শুরু হয়েছে। কিছু এলাকায় দলীয় মনোনয়নও ঘোষণা করা হয়েছে। নেতারা আশা করছেন, জাতীয় নির্বাচনের মতো স্থানীয় সরকার নির্বাচনেও উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন সম্ভব হবে।

বিজ্ঞাপন

নির্বাচন পরিচালনায় উচ্চপর্যায়ের কমিটি

স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সাংগঠনিক প্রস্তুতি জোরদার করতে বিশেষ নির্বাচন পরিচালনা কমিটি গঠন করেছে এনসিপি।

দলীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, এই কমিটির চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন উত্তরাঞ্চলীয় মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম। সদস্য সচিবের দায়িত্ব পেয়েছেন যুগ্ম সমন্বয়ক ও সংসদ সদস্য আব্দুল হান্নান মাসউদ।

বিজ্ঞাপন

কমিটির অন্যান্য সদস্যদের মধ্যে রয়েছেন আরিফুল ইসলাম আদীব, আলাউদ্দিন মোহাম্মদ, তাহসীন রিয়াজ এবং মঞ্জিলা ঝুমা।

যোগ্যতা ও জনপ্রিয়তাকে গুরুত্ব

দলের নেতারা জানিয়েছেন, প্রার্থী নির্বাচনের ক্ষেত্রে স্থানীয় জনপ্রিয়তা, সাংগঠনিক দক্ষতা এবং জনসম্পৃক্ততাকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। বিভিন্ন এলাকা থেকে সম্ভাব্য প্রার্থীদের জীবনবৃত্তান্ত সংগ্রহ করে যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

এনসিপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদীবের ভাষ্য, যারা স্থানীয়ভাবে সংগঠনকে শক্তিশালী করেছেন এবং জনগণের কাছে গ্রহণযোগ্যতা তৈরি করতে পেরেছেন, তাদের অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি কিছু এলাকায় দলীয়ভাবে শক্তিশালী প্রার্থী না থাকলে জনসমর্থন রয়েছে এমন ব্যক্তি বা স্বতন্ত্র প্রার্থীদেরও সমর্থনের বিষয়টি বিবেচনা করা হতে পারে।

ইতোমধ্যে ঘোষণা হয়েছে শতাধিক প্রার্থী

দলীয় সূত্র জানায়, কয়েক ধাপে দেশের বিভিন্ন উপজেলা ও পৌরসভায় প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করা হয়েছে। প্রথম পর্যায়ে ১০০টি উপজেলা ও পৌরসভায় প্রার্থী দেওয়া হয়। এরপর দ্বিতীয় ধাপেও আরও ১০০টি স্থানীয় সরকার ইউনিটে প্রার্থী ঘোষণা করা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনকে সামনে রেখেও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় সম্ভাব্য মেয়র প্রার্থীর নাম প্রকাশ করা হয়েছে। রাজধানীর দুই সিটি কর্পোরেশনসহ বিভিন্ন বড় শহরে দলের পরিচিত নেতাদের প্রার্থী হিসেবে সামনে আনা হচ্ছে।

নতুন মুখের পাশাপাশি অভিজ্ঞ নেতাদের টার্গেট

দলের একটি সূত্র জানায়, স্থানীয় সরকার নির্বাচনে শক্তিশালী অবস্থান তৈরি করতে শুধু নিজেদের নেতাদের নয়, বিভিন্ন অঞ্চলের পরিচিত ও জনপ্রিয় রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদেরও দলে অন্তর্ভুক্ত করার চেষ্টা চলছে।

বিজ্ঞাপন

এনসিপির একাধিক নেতা মনে করেন, অভিজ্ঞ রাজনৈতিক ব্যক্তিদের সম্পৃক্ত করা গেলে স্থানীয় পর্যায়ে দল দ্রুত শক্তিশালী অবস্থানে যেতে পারবে।

জোট নয়, নিজস্ব শক্তিতেই নির্বাচনী পরীক্ষা

জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ১১ দলীয় জোটের অংশ হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও স্থানীয় সরকার নির্বাচনে এককভাবে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্তকে কৌশলগত পদক্ষেপ হিসেবে দেখছে দলটি।

বিজ্ঞাপন

সারজিস আলম বলেন, এককভাবে নির্বাচন করলে কিছু ক্ষেত্রে জয়ের সম্ভাবনা কমে যেতে পারে। তবে এতে দলীয় সাংগঠনিক সক্ষমতা যাচাইয়ের সুযোগ তৈরি হবে এবং প্রত্যন্ত অঞ্চলেও সংগঠন বিস্তৃত করা সহজ হবে।

তার মতে, স্থানীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে যেসব এলাকায় এখনও সাংগঠনিক কমিটি গঠন করা হয়নি সেখানে দ্রুত কমিটি গঠনের কাজ চলছে। পাশাপাশি বিদ্যমান কমিটিগুলোর কার্যক্রমও মূল্যায়ন করা হচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

আসিফ মাহমুদেরও একই অবস্থান

দলের মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া জানিয়েছেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচনে এনসিপি নিজস্ব রাজনৈতিক পরিচয়ে অংশ নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। তার মতে, বিরোধী জোটের অন্যান্য দলও একইভাবে নিজেদের সাংগঠনিক শক্তি নিয়ে নির্বাচনী প্রস্তুতি চালিয়ে যাচ্ছে।

তিনি বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচন দলভিত্তিক শক্তি যাচাইয়ের ক্ষেত্র। তবে জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু ও গণদাবি আদায়ে ১১ দলীয় ঐক্যের কার্যক্রম চলমান থাকবে।

বিজ্ঞাপন

জাতীয় নির্বাচনে সাফল্যের ধারাবাহিকতা চায় দল

নতুন রাজনৈতিক দল হিসেবে প্রথম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিয়েই আলোচনায় আসে এনসিপি। ১১ দলীয় জোটের ব্যানারে কয়েকটি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে দলটি উল্লেখযোগ্য সংখ্যক আসনে জয় পায় এবং সংসদে প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করে।

দলটির নেতারা মনে করছেন, সেই অভিজ্ঞতা ও জনসমর্থনকে কাজে লাগিয়ে স্থানীয় সরকার নির্বাচনেও শক্ত অবস্থান তৈরি করা সম্ভব হবে। তাদের লক্ষ্য শুধু নির্বাচনে অংশ নেওয়া নয়, বরং স্থানীয় পর্যায়ে একটি দীর্ঘমেয়াদি সাংগঠনিক কাঠামো গড়ে তোলা, যা ভবিষ্যতের জাতীয় রাজনীতিতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

জেবি/এএস

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD