মাননীয় প্রধানমন্ত্রী একটু হলেও শ্বশুর বাড়ির দিকে তাকান

২৪ এর জুলাই আন্দোলনের সম্মুখ সারির নেতা ও জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) এর মূখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন,‘আমাদের প্রধানমন্ত্রীর শ্বশুর বাড়ী কিন্তু সিলেটে, তাহলে শ্বশুর বাড়ির এমন অবস্থা কেন? অন্তত শ্বশুর বাড়ির সম্মানার্থে একটু উন্নয়ন করবেন।’
বিজ্ঞাপন
‘আসার সময় দেখেছি রাস্তাঘাট খুবই ভাঙাচোরা। আমার শ্বশুরবাড়ী হলে আমরা ভাল রাস্তা বানিয়ে দিতাম। এগুলোর জন্য আপনাদের মাঠে নামতে হবে। সবাই একটু বলবেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী যেহেতু সিলেটে বিয়ে করেছেন, একটু হলেও শ্বশুর বাড়ির দিকে তাকান, শ্বশুর বাড়িতে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করেন।’
বৃহত্তর সিলেটের উন্নয়ন ও রাস্তাঘাটের বেহাল দশা প্রসঙ্গে বক্তব্য রাখতে গিয়ে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, এবং সিলেট যে বিমানবন্দর এটাকে আর্ন্তজাতিক বিমানবন্দরে উন্নীত করতে হবে এবং শমশেরনগর বিমানবন্দর চালু করতে হবে। এই যে কক্সবাজার বিমানবন্দর আর্ন্তজাতিক বিমানবন্দর করছে, সবচেয়ে বেশি বিদেশ যাওয়া-আসা করেন সিলেটের মানুষ, টাকা আসে বেশি সিলেটে এখানে সবচেয়ে বড় বিমানবন্দর করতে হবে। এখানে আর্ন্তজাতিক আছে কাজে নাই। লক্করজক্কর অবস্থায় আছে। রাস্তাও যেমন লক্করজক্কর বিমানবন্দরও তেমন লক্করজক্কর।
বিজ্ঞাপন
শুক্রবার (২৬ জুন) বিকালে কুলাউড়া উপজেলার শরীফপুর ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী চাতলাঘাট বাজারে মৌলভীবাজার জেলা এনসিপি আয়োজিত সম্প্রতি দত্তগ্রাম সীমান্তে বিএসএফ কর্তৃক বাংলাদেশী যুবক মুজিব সহ সীমান্ত হত্যার প্রতিবাদে অনুষ্ঠিত সমাবেশে আমন্ত্রিত অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন দলটির আলোচিত অন্যতম নেতা নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ।
জেলা এনসিপির সভাপতি খালেদ হাসান এর সভাপতিত্বে ও সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক এহসান জাকারিয়া এর সঞ্চালনায় সমাবেশে বক্তব্য রাখেন জাতীয় নাগরিক পার্টি(এনসিপি) এর কেন্দ্রীয় যুগ্ম আহবায়ক আশরাফ মাহদী, যুগ্ম সদস্য সচিব প্রীতম দাস সহ কেন্দ্রীয় ও জেলা নেতৃবৃন্দ।
সমাবেশে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, এখানে সীমান্ত হত্যা হয়েছে আপনারা জানেন। আপনারা কী সীমান্ত হত্যার বিচার চান না? পুরো বাংলাদেশ আমরা ঐক্যবদ্ধভাবে সীমান্ত হত্যার বিরুদ্ধে দাঁড়াব। ভারতকে আর্ন্তজাতিক যে বিচারালয় আছে সেখানে নিয়ে এই খুনি ভারত এবং তার খুনি বাহিনী বিএসএফ’র বিচার করতে হবে বিশ্ব মঞ্চে।
বিজ্ঞাপন
`কে বিএনপি করে, কে এনসিপি করে এটা কোন বিষয় না, আমরা সীমান্ত হত্যা বন্ধে সবাই ঐক্যবদ্ধ হবো। সীমান্ত হত্যা বন্ধে আপনারা কুলাউড়াবাসী যদি দাঁড়িয়ে যান, তাহলে পুরো বাংলাদেশ দাঁড়িয়ে যাবে আপনাদের সাথে। আমরা নিরাপদ সীমান্ত চাই। আমরা ঐক্যবদ্ধভাবে সীমান্ত রক্ষা করব এবং দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা করব ইনশাঅল্লাহ।'
এদিকে সমাবেশে সংগঠনটির উত্তরাঞ্চলের মূখ্য সমন্বয়ক সারজিস আলম তাঁর বক্তব্যে বলেন, বাংলাদেশে প্রতি সাপ্তাহে একটা করে সীমান্ত হত্যা হচ্ছে। গত সাপ্তাহে কুলাউড়ায় মুজিবুর রহমানকে হত্যা করা হয়েছে। নতুন করে পুশইন করার নামে বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বকে চোখ দেখানো শুরু হয়েছে। পশ্চিমভঙ্গের মূখ্যমন্ত্রী তাঁর দেশের পার্লামেন্টে দাঁড়িয়ে বলে বাংলাদেশের ১০ হাজার মানুষকে নাকি পুশইন করে দিয়েছে।
`একদিকে আপনারা বলবেন প্রতিবেশী বন্ধুপ্রতিম রাষ্ট্র আর আরেকদিকে যদি এমন হয়, যে আপনারা পুশইন করছেন, সীমান্ত হত্যা করছেন, তাহলে আপনাদের কথার কোন মূল্য থাকে না। আমরা স্পষ্ট করে বলতে চাই, আমরা বিএনপি সরকারকে বলতে চাই, আমরা সরকারকে সহযোগীতা করতে চাই। তবে আপনার পররাষ্ট্র নীতিটাকে আরও শক্তিশালী করতে হবে। ভারতের কাছে নতজানুর পররাষ্ট্র নীতি করে আগামীর বাংলাদেশে কেউ জনগণের সরকার হতে পারবে না। ভারতের কাছে সিজদা দিয়ে আগামীর বাংলাদেশে কেউ জনগণের সরকার হতে পারবে না।'
বিজ্ঞাপন
সারজিস আলম ভারতের প্রতি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, ভারতের সাথে আমাদের সম্পর্ক হবে, কিন্তু সেই সম্পর্ক হবে সমতার ভিত্তিতে, সম্মানের ভিত্তিতে, মর্যাদার ভিত্তিতে। ভারত যদি মনে করে, আওয়ামীলীগকে যেভাবে গৃহপালিত দল হিসেবে এই বাংলাদেশে রেখে ক্ষমতায় বসিয়ে শোষন করেছে, তাহলে আগামীর বাংলাদেশে এই নীতিতে কোন বন্ধুত্ব চলবে না ইনশাল্লাহ। এসময় উপস্থিত জনতার উদ্দেশ্যে সারজিস আলম বলেন আপনাদেরকে বিজিবির সাথে ঐক্যবদ্ধভাবে সীমান্ত লড়াই করতে হবে। সীমান্তে যদি একটা পুশইন হয়, ১০ জন বিজিবির সাথে আপনারা ১ হাজার জনতা দাঁড়িয়ে যাবেন।
সম্প্রতি সিলেটে সুরঞ্জিত সেন গুপ্ত হত্যা চেষ্টার মামলায় বিএনপির তিন হেভিওয়েট নেতাদের খালাস পাওয়ার বিপরিতে একই মামলায় একজন হাফেজ ও আলেম এর মৃত্যুদণ্ডের প্রসঙ্গ টেনে সারজিস বলেন, একটা রায় দেখেছি, যে রায়ে আগের একটি হত্যা মামলায় যারা বিএনপি সংশ্লিষ্টতা ছিল তাদের সবাইকে মুক্তি দেয়া হয়েছে আর একজন আলেমকে মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয়েছে। যে আলেম কিছুদিন আগেও জামিনে ছিল।
বিজ্ঞাপন
তাহলে এই যে খেলা হচ্ছে যে নিজের দলের মানুষেরা যদি অপরাধিও হয় তাহলে তাদেরকে মুক্ত করে নিরপরাধ হাফেজ আলেমকে ফাঁসিতে ঝুলায়ে মৃত্যুদণ্ড দেয়ার খেলা। এই নতুন খেলা চলতে দেয়া হবে না। আমরা বিএনপি, জামায়াত, এনসিপি ভেদাভেদ করতে চাই না। কিন্তু কেউ যদি অপরাধ করে চাদাবাজি করে, দুর্নীতি করে, সন্ত্রাসী করে, মানুষের জমি দখল করে, কেউ যদি থানাগুলোকে নিজেদের মতো করে চালাতে চায়, প্রশাসনকে নিজের মতো করে উঠবস করাতে চায় তাহলে তাদের বিরুদ্ধে আমরা কথা বলতে আমরা একবিন্দুও ছাড় দেবো না।
এসময় প্রশাসনের প্রতি জনগণের জন্য করার আহবান জানিয়ে তিনি বলেন, আপনারা জনগণের জন্য কাজ করেন, দয়া করে কোন দলের হবেন না। বক্তব্য শেষে সারজিস আলম এর ঝাঁঝালো কন্ঠের মুর্হুমুহু শ্লোগান, ইনকিলাব ইনকিলাব,ক্ষমতা না জনতা, আপোষ না সংগ্রাম, গোলামী না রাজপথ, দিয়েছি তো রক্ত, আরও দেবো রক্ত, রক্তের বন্যায়,ভেসে যাবে অন্যায়, দিল্লি না ঢাকাা, গোলামী না আজাদী, আমরা সবাই হাদি হবো, যুগে যুগে লড়ে যাব।
এদিকে সমাবেশে যোগ দেয়ার আগে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) মূখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ও উত্তরাঞ্চলের মূখ্য সমন্বয়ক সারজিস আলম কুলাউড়া উপজেলার দত্তগ্রাম সীমান্তে ভারতীয় সীমান্ত বাহিনী (বিএসএফ) এর গুলিতে নিহত বাংলাদেশী তরুণ মুজিবুর রহমান এর পরিবারের খোঁজখবর নিতে তাঁর বাড়িতে যান এবং পরিবারের সদস্যদের সাথে কথা বলে সমবেদনা জানান।
বিজ্ঞাপন
পরে তারা নেতাকর্মীদের সাথে নিয়ে মুজিবুর রহমান এর কবর জিয়ারত করেন। এর আগে কুলাউড়া উপজেলার রবিরবাজার জামে মসজিদে জুমার নামাজ আদায় করেন নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ও সারজিস আলম সহ কেন্দ্রীয় এবং স্থানীয় নেতৃবৃন্দ। নামাজ শেষে রবির বাজারে অপেক্ষমান জনতার উদ্দেশ্যে বক্তব্য রাখেন নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। এসময় এনসিপির কর্মসূচি ঘিরে স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীদের মধ্যে উত্তেজনাকর পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়। সমাবেশস্থলের পাশেই এনসিপির বিরুদ্ধে বিক্ষোভ শ্লোগানে ফেটে পড়েন বিএনপি নেতাকর্মীরা।








