Logo

যে কারণে দুই সপ্তাহ সংসদে যাচ্ছেন না মনিরুল হক চৌধুরী

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
২৯ জুন, ২০২৬, ২০:৩২
যে কারণে দুই সপ্তাহ সংসদে যাচ্ছেন না মনিরুল হক চৌধুরী
ছবি: সংগৃহীত

সংসদে বক্তব্য দেওয়ার সময় নিজের সঙ্গে অন্যায় আচরণ করা হয়েছে—এমন অভিযোগ তুলে টানা দুই সপ্তাহ ধরে জাতীয় সংসদের অধিবেশনে অনুপস্থিত রয়েছেন কুমিল্লা-৬ আসনের বিএনপির সংসদ সদস্য মো. মনিরুল হক চৌধুরী। তিনি দাবি করেছেন, সংসদে তাকে অপমান করা হয়েছে এবং সেই ঘটনার সুরাহা না হওয়া পর্যন্ত অধিবেশনে ফেরার বিষয়ে তিনি মানসিকভাবে প্রস্তুত নন।

বিজ্ঞাপন

জানা গেছে, গত ১৪ জুন ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামালের দেওয়া একটি রুলিং এবং পরবর্তী সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে ১৫ জুন থেকে ২৫ জুন পর্যন্ত সংসদ কার্যক্রমে অংশ নেননি মনিরুল হক চৌধুরী। এ বিষয়ে স্পিকারের হস্তক্ষেপ কামনা করে তিনি সংসদ সচিবের কাছেও লিখিতভাবে নোটিশ পাঠিয়েছেন।

একটি গণমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে মনিরুল হক চৌধুরী বলেন, সংসদে তিনি অপমানিত হয়েছেন। স্পিকার ব্যক্তিগতভাবে ফোন করে তাকে সংসদে ফিরে আসার অনুরোধ করলেও তিনি এখনও সেই ঘটনার কষ্ট কাটিয়ে উঠতে পারেননি। তার ভাষায়, যেদিন এই অপমান মেনে নিতে পারবেন, সেদিনই সংসদে ফিরবেন।

বিজ্ঞাপন

ঘটনার সূত্রপাত হয় গত ১৪ জুন বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনার সময়। বক্তব্যের একপর্যায়ে তিনি বিরোধীদলীয় উপনেতা সৈয়দ আবদুল্লাহ মো. তাহেরের বোরকা পরিহিত স্ত্রীকে নিয়ে অতীতের একটি প্রসঙ্গ উল্লেখ করেন। একই সঙ্গে সংসদে উপস্থিত জামায়াতে ইসলামীর নারী সংসদ সদস্যদের পোশাক নিয়েও মন্তব্য করেন।

তার ওই বক্তব্যে সরকারি দলের কিছু সদস্য হাস্যরস প্রকাশ করলেও বিরোধী দলের সদস্যরা তীব্র আপত্তি জানান। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল ব্যক্তিগত স্বাধীনতা ও পোশাক-সংক্রান্ত বিষয়ে মন্তব্য না করার নির্দেশ দেন এবং মনিরুল হক চৌধুরীর বক্তব্যের বিতর্কিত অংশ সংসদের কার্যবিবরণী থেকে বাদ দেওয়ার (এক্সপাঞ্জ) ঘোষণা দেন।

এরপর মনিরুল হক চৌধুরী নিজের বক্তব্যের জন্য দুঃখ প্রকাশ করে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ চাইলেও ডেপুটি স্পিকার তাকে পুনরায় কথা বলার অনুমতি দেননি।

বিজ্ঞাপন

পরে পানিসম্পদমন্ত্রী মো. শহীদউদ্দিন চৌধুরী এ্যানি এবং সরকারি দলের চিফ হুইপ মো. নূরুল ইসলাম বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করে মনিরুল হক চৌধুরীকে সংক্ষিপ্তভাবে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ দেওয়ার অনুরোধ জানান। তবে ডেপুটি স্পিকার আগের সিদ্ধান্তেই অনড় থাকেন।

এরপর থেকেই প্রতিবাদস্বরূপ সংসদে যাওয়া বন্ধ করে দেন কুমিল্লা-৬ আসনের এই সংসদ সদস্য।

বিজ্ঞাপন

মনিরুল হক চৌধুরীর দাবি, তিনি যে বক্তব্য দিয়েছিলেন, তা এখনো তার কাছে অসংসদীয় বলে মনে হয় না। বিষয়টি নিশ্চিত হতে তিনি সংসদের কার্যবিবরণী সংগ্রহ করেছেন এবং বক্তব্যের অডিও-ভিডিওও আনুষ্ঠানিকভাবে সংগ্রহ করে পেনড্রাইভে সংরক্ষণ করেছেন। সেগুলো স্পিকারের কাছেও জমা দিয়েছেন বলে জানান তিনি।

তিনি আরও বলেন, ঘটনার দিন রাতেই টেলিভিশন ও অনলাইন মাধ্যমে নিজের পুরো বক্তব্য পুনরায় দেখেছেন। সবকিছু পর্যালোচনা করার পরও তার বিশ্বাস, তিনি এমন কোনো বক্তব্য দেননি যা অসংসদীয়, সংবিধানবিরোধী, শিষ্টাচারবহির্ভূত বা বৈষম্যমূলক আচরণের মধ্যে পড়ে।

এমপি মনিরুল হক চৌধুরী জানান, সংসদের কার্যপ্রণালী বিধির ৩০২ ধারার আলোকে তিনি জানতে চেয়েছেন—তার বক্তব্যের কোন অংশকে অসংসদীয় হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে এবং কোন ভিত্তিতে তা কার্যবিবরণী থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে তিনি আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যারও অপেক্ষায় রয়েছেন।

জেবি/এএস

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD