Logo

ফরম পূরণ করে জামায়াতে যোগ দিলেন আওয়ামী লীগ নেতা

profile picture
জেলা প্রতিনিধি
লক্ষ্মীপুর
৯ জুলাই, ২০২৬, ২০:৩৬
ফরম পূরণ করে জামায়াতে যোগ দিলেন আওয়ামী লীগ নেতা
ছবি: সংগৃহীত

লক্ষ্মীপুরের কমলনগরে সাবেক আওয়ামী লীগ নেতা আক্তার হোসেন মিলন আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীতে যোগ দিয়েছেন। সদস্যপদের ফরম পূরণের মাধ্যমে তার এ যোগদান সম্পন্ন হয়। তবে ঘটনাটি একটি মাদরাসার অফিসকক্ষে অনুষ্ঠিত হওয়ায় তা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

জানা গেছে, বুধবার (৮ জুলাই) বিকেলে উপজেলার হাজিরহাট হামিদিয়া কামিল মাদরাসার অফিসকক্ষে জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি এ আর হাফিজ উল্লাহর উপস্থিতিতে মিলন সদস্যপদের ফরম পূরণ করেন। পরে তিনি ফরমটি দলীয় নেতাদের কাছে জমা দেন। এ সময় তাকে ফুল দিয়ে দলে স্বাগত জানানো হয়।

বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) বিকেলে কমলনগর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা তৌহিদুল ইসলাম বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অফিসকক্ষ রাজনৈতিক কার্যক্রম পরিচালনার স্থান নয়। মাদরাসার অফিসে এ ধরনের অনুষ্ঠান অনুচিত হয়েছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মাদরাসার দুই শিক্ষকও জানান, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে রাজনৈতিক কর্মসূচি আয়োজনের সুযোগ নেই। তাদের দাবি, দল পরিবর্তনের এ অনুষ্ঠানও রাজনৈতিক কার্যক্রমের মধ্যে পড়ে। ঘটনাস্থলে মাদরাসার বর্তমান অধ্যক্ষও উপস্থিত ছিলেন বলে তারা জানান।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আক্তার হোসেন মিলন হাজিরহাট ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি। তিনি ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান পদে তিনবার নির্বাচন করলেও জয়ী হতে পারেননি।

যোগদান অনুষ্ঠানে হাজিরহাট হামিদিয়া কামিল মাদরাসার সাবেক অধ্যক্ষ জায়েদ হোসাইন ফারুকী, বর্তমান অধ্যক্ষ দেলোয়ার হোসেন, জামায়াতের সাবেক উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান হুমায়ুন কবির এবং মাতাব্বরনগর ফাজিল মাদরাসার অধ্যক্ষ আলী হোসাইন উপস্থিত ছিলেন।

বিজ্ঞাপন

এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে মাদরাসার অধ্যক্ষ দেলোয়ার হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।

জামায়াতের সাবেক উপজেলা আমির মাওলানা হুমায়ুন কবির বলেন, দলের নীতি-আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে আক্তার হোসেন মিলন স্বেচ্ছায় জামায়াতে ইসলামীতে যোগ দিয়েছেন এবং দল তাকে স্বাগত জানিয়েছে।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

অন্যদিকে আক্তার হোসেন মিলন বলেন, বয়সের এই পর্যায়ে তিনি বাকি জীবন জামায়াতের সঙ্গে কাটাতে চান। তার ভাষ্য, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যক্তিগত বা রাজনৈতিক কোনো স্বার্থ নেই। তিনি আরও দাবি করেন, অতীতে তাকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে আওয়ামী লীগের ইউনিয়ন সভাপতি করা হয়েছিল এবং সেই পদ থেকে তিনি কোনো সুবিধা নেননি। পরে কাউন্সিলের মাধ্যমে অন্য একজনকে সভাপতি করা হয়।

জেবি/জেএইচআর

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD