Logo

আওয়ামী লীগের বিচার নিয়ে সরকারের অবস্থান কী?

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
৭ জুলাই, ২০২৬, ১৩:৫৪
আওয়ামী লীগের বিচার নিয়ে সরকারের অবস্থান কী?
ছবি: সংগৃহীত

মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে রাজনৈতিক দল হিসেবে আওয়ামী লীগের বিচার করার বিষয়ে সরকারের সাম্প্রতিক বক্তব্য নতুন করে রাজনৈতিক ও আইনি অঙ্গনে আলোচনা সৃষ্টি করেছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের বক্তব্যের পর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রধান প্রসিকিউটরও জানিয়েছেন, বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে এবং তদন্তে প্রাথমিক অভিযোগের ভিত্তি পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বিজ্ঞাপন

সম্প্রতি ‘জুলাই ২৪ শহীদ পরিবার সোসাইটি’ ও ‘আমরা জুলাই যোদ্ধা’ আয়োজিত ‘জুলাই জাতীয় সম্মেলন-২০২৬’-এ বক্তব্য দিতে গিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সন্ত্রাসবিরোধী আইন এবং আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-সংক্রান্ত আইনে রাজনৈতিক দলের বিচার করার সুযোগ রয়েছে। তিনি এ বিষয়ে অপেক্ষা করার আহ্বান জানান এবং তদন্তের অগ্রগতির কথা উল্লেখ করেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এ বক্তব্যের পর রোববার ঢাকায় সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রধান প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে দায়ের করা একটি লিখিত অভিযোগ তদন্ত সংস্থার কাছে পাঠানো হয়েছে। তদন্ত শেষে যদি দলটির বিরুদ্ধে প্রাথমিকভাবে অভিযোগের ভিত্তি পাওয়া যায়, তাহলে তদন্ত প্রতিবেদনের আলোকে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব হবে।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইন, ১৯৭৩ এবং সন্ত্রাসবিরোধী আইন, ২০০৯–এ সংগঠন এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে নির্দিষ্ট অপরাধের বিচার করার বিধান রয়েছে। তবে সংগঠন হিসেবে আওয়ামী লীগের বিচার হবে কি না, সে বিষয়ে তদন্ত সংস্থাই চূড়ান্ত অনুসন্ধান চালাচ্ছে।

বিচার প্রক্রিয়া কীভাবে এগোতে পারে

আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, তদন্ত সংস্থা তাদের অনুসন্ধান শেষ করে প্রতিবেদন প্রধান প্রসিকিউটরের কাছে জমা দেবে। প্রতিবেদনে অভিযোগের প্রাথমিক ভিত্তি পাওয়া গেলে প্রধান প্রসিকিউটর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ (ফরমাল চার্জ) দাখিল করতে পারবেন।

বিজ্ঞাপন

এরপর ট্রাইব্যুনাল অভিযোগ পর্যালোচনা করে পর্যাপ্ত উপাদান থাকলে তা আমলে নেবে। পরে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর কাছে অভিযোগপত্র সরবরাহ করা হবে এবং অভিযোগ গঠনের বিষয়ে শুনানি অনুষ্ঠিত হবে। আদালত অভিযোগ গঠন করলে আনুষ্ঠানিকভাবে বিচার কার্যক্রম শুরু হবে।

আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে আগের পদক্ষেপ

আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে দলটির বিচার এবং রাজনৈতিক কার্যক্রম সীমিত করার বিষয়টি আলোচনায় আসে। ২০২৫ সালের ১২ মে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে আওয়ামী লীগ এবং এর অঙ্গ, সহযোগী ও ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনগুলোর কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষণা করে। পরবর্তীতে নির্বাচন কমিশন দলটির নিবন্ধন স্থগিত করায় তারা ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে পারেনি।

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

পরে বিএনপি সরকার ক্ষমতায় এসে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে সংশোধনী এনে জাতীয় সংসদে ‘সন্ত্রাসবিরোধী (সংশোধন) বিল, ২০২৬’ পাস করে। সরকার জানিয়েছে, সংশোধিত আইন রাজনৈতিক সংগঠনের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের সুযোগ আরও স্পষ্ট করেছে।

যা বলেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

বিজ্ঞাপন

সম্মেলনে দেওয়া বক্তব্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, জুলাইয়ের ঘটনাকে কেন্দ্র করে সংঘটিত হত্যাকাণ্ড ও সহিংসতার জন্য দায়ীদের বিচারের আওতায় আনার প্রক্রিয়া চলছে। তার দাবি, আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কার্যক্রমের সমাপ্তি ঘটেছে এবং দলটিকে রাজনৈতিক সংগঠন হিসেবেও বিচারের মুখোমুখি করার উদ্যোগ এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মানবতাবিরোধী অপরাধসংক্রান্ত একাধিক মামলার বিচার চলছে এবং আরও বহু মামলার তদন্ত শেষ পর্যায়ে রয়েছে। সরকারের ভাষ্য অনুযায়ী, তদন্তের ফলাফলের ভিত্তিতেই আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য আইনি পদক্ষেপ নির্ধারিত হবে।

এদিকে আওয়ামী লীগকে সংগঠন হিসেবে বিচারের উদ্যোগ, এর আইনি ভিত্তি এবং ভবিষ্যৎ প্রক্রিয়া নিয়ে রাজনৈতিক মহল ও আইনজ্ঞদের মধ্যে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। তদন্ত সংস্থার চূড়ান্ত প্রতিবেদনের ওপরই পরবর্তী পদক্ষেপ অনেকাংশে নির্ভর করবে।

বিজ্ঞাপন

তথ্য সূত্র: বিবিসি বাংলা

জেবি/এএস

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD