রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে আজ মনোনয়ন জমা দেবেন মির্জা ফখরুল ও অলি

দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে প্রার্থী হতে আজ বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) মনোনয়নপত্র জমা দেবেন ক্ষমতাসীন বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় জোটের মনোনীত প্রার্থী লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বীরবিক্রম।
বিজ্ঞাপন
নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার সুযোগ রয়েছে। বিএনপি এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেনি। তবে দলীয় সূত্রে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকেই রাষ্ট্রপতি পদে দলটির প্রার্থী হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
বিএনপির প্রার্থী চূড়ান্ত হবে বৈঠকে
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে দলীয় প্রার্থী চূড়ান্ত করতে বৃহস্পতিবার দুপুরে বিএনপির স্থায়ী কমিটির বৈঠক ডেকেছেন দলটির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বৈঠকে রাষ্ট্রপতি পদে দলের প্রার্থীর বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
বিজ্ঞাপন
বৈঠক শেষে বিএনপির পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রার্থীর নাম ঘোষণা করার কথা রয়েছে। এরপর দলীয় প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বেলা ২টার দিকে নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়ার প্রস্তুতি রয়েছে।
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
দলীয় সূত্র অনুযায়ী, বিএনপির মহাসচিব এবং স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরই রাষ্ট্রপতি পদে দলটির সম্ভাব্য প্রার্থী।
বিজ্ঞাপন
অলি আহমদের মনোনয়ন জমা দেওয়ার প্রস্তুতি
অন্যদিকে, জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় ঐক্য রাষ্ট্রপতি পদে এলডিপি চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বীরবিক্রমকে প্রার্থী করার উদ্যোগ নিয়েছে। ইতোমধ্যে তার জন্য মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করা হয়েছে।
জোটের পক্ষ থেকে বৃহস্পতিবার বেলা ১১টার দিকে অলি আহমদের মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার কথা রয়েছে।
বিজ্ঞাপন
ফলে দীর্ঘ প্রায় ৩৫ বছর পর আবারও রাষ্ট্রপতি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক নির্বাচনের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। সংসদে বিএনপির সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায় দলটির প্রার্থীর জয় অনেকটাই নিশ্চিত বলে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা থাকলেও বিরোধী পক্ষের প্রার্থী দেওয়ায় এবারের নির্বাচন প্রক্রিয়া আগের তুলনায় বেশি আলোচনায় এসেছে।
২০ আগস্ট ভোটগ্রহণ
নির্বাচন কমিশনের তফসিল অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের মনোনয়নপত্র ১৬ আগস্ট সকাল ১০টা থেকে যাচাই-বাছাই করা হবে। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ সময় ১৮ আগস্ট বিকেল ৪টা।
বিজ্ঞাপন
এরপর ২০ আগস্ট জাতীয় সংসদে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। ওই দিন দুপুর ২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত সংসদ ভবনের অধিবেশন কক্ষে ভোট দেওয়ার সুযোগ পাবেন সংসদ সদস্যরা।
ইসি জানিয়েছে, এবারের রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে সংসদের মোট ৩৪৯ জন সদস্য ভোট দিতে পারবেন। ৩০০ সাধারণ আসনের মধ্যে একটি আসনে প্রার্থিতা বাতিল থাকায় বর্তমানে সাধারণ আসনে কার্যকর সদস্যসংখ্যা ২৯৯। এর সঙ্গে ৫০টি সংরক্ষিত নারী আসনের সদস্য মিলিয়ে মোট ভোটার ৩৪৯ জন।
সংসদে বিএনপির সংখ্যাগরিষ্ঠতা
বিজ্ঞাপন
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে সংসদ সদস্যদের ভোটের হিসাবেও বিএনপি এগিয়ে রয়েছে। সাধারণ ও সংরক্ষিত আসন মিলিয়ে বিএনপির সদস্য সংখ্যা ২৪৭ জন। জামায়াতে ইসলামীর সদস্য রয়েছেন ৭৭ জন।
এ ছাড়া স্বতন্ত্র সদস্য আটজন, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আটজন, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের তিনজন এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি, গণসংহতি আন্দোলন, গণপরিষদ, খেলাফত মজলিস ও জাগপা থেকে একজন করে সংসদ সদস্য রয়েছেন।
এই সংখ্যাগত অবস্থানের কারণে বিএনপি মনোনীত প্রার্থীর বিজয়ের সম্ভাবনাই বেশি বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষণে মনে করা হচ্ছে। তবে ভোটের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত ফলাফল ঘোষণা করা হবে না।
বিজ্ঞাপন
১৯৯১ সালের পর আবার রাষ্ট্রপতি নির্বাচন
বাংলাদেশে ১৯৯০ সালে এরশাদ সরকারের পতনের পর ১৯৯১ সালে সংসদীয় সরকারব্যবস্থা চালু হয়। ওই বছরের ৮ অক্টোবর রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল। সেটিই ছিল সংসদীয় ব্যবস্থায় প্রথম রাষ্ট্রপতি নির্বাচন।
১৯৯১ সালের নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী আবদুর রহমান বিশ্বাস এবং আওয়ামী লীগের প্রার্থী সাবেক প্রধান বিচারপতি বদরুল হায়দার চৌধুরী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন।
বিজ্ঞাপন
সে নির্বাচনে আবদুর রহমান বিশ্বাস ১৭২ ভোট পেয়ে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন। আওয়ামী লীগের প্রার্থী বদরুল হায়দার চৌধুরী পেয়েছিলেন ৯২ ভোট।
তৎকালীন সংসদে বিএনপির ১৪০, আওয়ামী লীগের ৮৮, জাতীয় পার্টির ৩৫ এবং জামায়াতে ইসলামীর ১৮টি আসন ছিল। অন্যান্য দল ও স্বতন্ত্র সদস্যদেরও প্রতিনিধিত্ব ছিল সংসদে।
সেবার জাতীয় পার্টি ও জামায়াতসহ কয়েকটি দলের সংসদ সদস্যরা ভোটদানে বিরত ছিলেন। ফলে দুই দলের প্রার্থী থাকলেও ভোটের ফলাফলে বিএনপি প্রার্থী জয়ী হন।
বিজ্ঞাপন
প্রকাশ্য ভোট হয়েছিল ১৯৯১ সালে
১৯৯১ সালের রাষ্ট্রপতি নির্বাচন ছিল প্রকাশ্য ভোটের একটি উল্লেখযোগ্য দৃষ্টান্ত। ভোটার সংসদ সদস্যরা প্রকাশ্যে ভোট দিয়েছিলেন এবং ভোট পরিচালনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও প্রার্থীদের পোলিং এজেন্টরা ভোট দেওয়ার বিষয়টি প্রত্যক্ষ করতে পেরেছিলেন।
আরও পড়ুন
সেদিন সংসদ ভবনের কক্ষগুলোতে একযোগে দুপুর ২টায় ভোটগ্রহণ শুরু হয়। বিকেল ৫টা পর্যন্ত ভোট চলে। ভোট শেষে গণনা শুরু হয় এবং ওই দিনই ফলাফল ঘোষণা করা হয়।
তৎকালীন প্রধান নির্বাচন কমিশনার বিচারপতি আবদুর রউফ সংসদে উপস্থিত থেকে পুরো নির্বাচন পরিচালনা করেছিলেন।
এবার সরাসরি সম্প্রচারের প্রস্তুতি
দীর্ঘ বিরতির পর রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোট হওয়ায় নির্বাচন কমিশনও ব্যাপক প্রস্তুতি নিচ্ছে। ভোটগ্রহণের পাশাপাশি সাংবাদিকদের জন্য সংসদে বসার ব্যবস্থা এবং ভোটপ্রক্রিয়া সরাসরি সম্প্রচারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
ইসির সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ জানিয়েছেন, ১৯৯১ সালের পর দীর্ঘ বিরতিতে এবার রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোট অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ভোটগ্রহণের শুরু থেকে সরাসরি সম্প্রচারের ব্যবস্থা রাখার পাশাপাশি গণমাধ্যমকর্মীদের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সব মিলিয়ে আজকের মনোনয়নপত্র দাখিলের মধ্য দিয়ে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আনুষ্ঠানিকভাবে আরও গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে প্রবেশ করবে। বিএনপির প্রার্থী হিসেবে মির্জা ফখরুলের মনোনয়ন চূড়ান্ত হয় কি না এবং অলি আহমদের প্রার্থিতা কতটা প্রতিদ্বন্দ্বিতা তৈরি করে—সেদিকেই এখন রাজনৈতিক অঙ্গনের নজর।








