Logo

বেসরকারি জ্বালানি আমদানিতে শ্রমিকদের আপত্তি নেই: এয়াকুব

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
১৬ আগস্ট, ২০২৬, ২১:০৭
বেসরকারি জ্বালানি আমদানিতে শ্রমিকদের আপত্তি নেই: এয়াকুব
ছবি প্রতিনিধি।

বাংলাদেশ অয়েল অ্যান্ড ওয়ার্কার্স ফেডারেশনের মহাসচিব ও জেওসিএল লেবার ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মদ এয়াকুব বলেছেন, বেসরকারি পর্যায়ে পরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানির বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর সিদ্ধান্তের ওপর তাদের পূর্ণ আস্থা রয়েছে। এ বিষয়ে তাদের কোনো আপত্তি নেই বলেও জানান তিনি।

বিজ্ঞাপন

তিনি বলেন, সম্প্রতি বেসরকারি খাতে পরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানি নিয়ে আলোচনা হচ্ছে। জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকারের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, ‘সবার আগে বাংলাদেশ’। শ্রমিকরাও এই নীতির সঙ্গে একমত। আগে থেকেই দেশে বেসরকারি পর্যায়ে অপরিশোধিত তেল আমদানি করা হচ্ছে। এবার পরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানির ক্ষেত্রেও যেন ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ গুরুত্ব পায়, সেটিই তাদের প্রত্যাশা।

মুহাম্মদ এয়াকুব বলেন, এ বিষয়ে যেকোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় শ্রমিকদের অধিকার রক্ষার পাশাপাশি দেশ ও জনগণের কল্যাণ এবং স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে। এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়েই প্রধানমন্ত্রী বেসরকারি পর্যায়ে জ্বালানি তেল আমদানির বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন বলে তারা আশা করছেন।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

জ্বালানি খাতের শ্রমিক-কর্মচারীদের হয়রানি বন্ধ ও দাবি আদায়ের লক্ষ্যে আয়োজিত বিক্ষোভ মিছিল শেষে সমাবেশে এসব কথা বলেন শ্রমিক নেতা মুহাম্মদ এয়াকুব।

রোববার দুপুর ১২টায় চট্টগ্রাম নগরীর আগ্রাবাদে যমুনা অয়েল কোম্পানি লিমিটেডের কার্যালয় ‘যমুনা ভবনে’ এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। এতে যমুনা অয়েল কোম্পানি লিমিটেডসহ জ্বালানি খাতের বিভিন্ন পর্যায়ের শ্রমিক-কর্মচারীরা অংশ নেন।

সমাবেশে মুহাম্মদ এয়াকুব অভিযোগ করেন, শ্রমিকদের অধিকার খর্ব করে জ্বালানি খাতকে অস্থিতিশীল করতে সরকারের মধ্যে ঘাপটি মেরে থাকা একটি কুচক্রী মহল তৎপর রয়েছে।

বিজ্ঞাপন

তিনি বলেন, অযাচিত হস্তক্ষেপের মাধ্যমে শ্রমিকদের বিদ্যমান ২২টি সুনির্দিষ্ট সুবিধা কর্তনের চেষ্টা চলছে। পাশাপাশি দ্বিপাক্ষিক চুক্তির মাধ্যমে সুযোগ-সুবিধাগুলো যুগোপযোগী করার ক্ষেত্রেও গড়িমসি করা হচ্ছে। একই সঙ্গে জ্বালানি খাতে শ্রম আইনকে শ্রমিকবান্ধব করার পরিবর্তে শ্রমিকবিরোধী আইনে পরিণত করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

শ্রমিক নেতা বলেন, সরকার শ্রমিকদের ন্যায্য সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার কথা বলছে এবং এ জন্য বিভিন্ন উদ্যোগও নেওয়া হচ্ছে। কিন্তু জ্বালানি খাতে এর বিপরীত চিত্র দেখা যাচ্ছে। বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের আওতাধীন পদ্মা, মেঘনা, যমুনা, এসএওসিএল, এলপিজিসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে শ্রমিকদের বিদ্যমান সুযোগ-সুবিধা বাড়ানোর পরিবর্তে কমানোর চেষ্টা চলছে।

তিনি আরও বলেন, শ্রমিক নেতাদের বিভিন্নভাবে নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে জ্বালানি খাতের শ্রমিক-কর্মচারীদের ন্যায্য অধিকার আদায়ের পথ বন্ধ করার অপচেষ্টা চলছে। শ্রমিক-কর্মচারীরা জ্বালানি খাতে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ চান। কিন্তু একটি কুচক্রী মহল শ্রমিকদের অধিকার কেড়ে নিয়ে এ খাতে অস্থিরতা সৃষ্টি করতে চাইছে।

বিজ্ঞাপন

মুহাম্মদ এয়াকুব বলেন, ‘জ্বালানি খাতে কাউকে অস্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টি করার সুযোগ দেওয়া হবে না। শ্রমিক-কর্মচারীরা শুধু তাদের ন্যায্য অধিকার চান। তারা হয়রানি বন্ধ এবং অযাচিত হস্তক্ষেপমুক্ত পরিবেশ চান।’

যেসব কারণে দাবি আদায়ের কর্মসূচি

শ্রমিক নেতারা জানান, দুই বছর পরপর দ্বিপাক্ষিক চুক্তির ভিত্তিতে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের তেল বিপণন কোম্পানিগুলোর শ্রমিক-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা ও সুযোগ-সুবিধা যুগোপযোগী করা হয়। কিন্তু সর্বশেষ চুক্তির মেয়াদ প্রায় ১৯ মাস পার হতে চললেও সংশ্লিষ্ট কোম্পানিগুলোর অবহেলা ও গড়িমসির কারণে নতুন চুক্তি করা সম্ভব হচ্ছে না।

বিজ্ঞাপন

এ ছাড়া জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ গত ১৭ জুন বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের আওতাধীন কোম্পানিগুলোর প্রান্তিক সুবিধা নীতিমালা-২০২৬-এর খসড়া প্রণয়নের নামে শ্রমিক-কর্মচারীদের বিদ্যমান ২২টি সুবিধা কাটছাঁট করতে চাইছে বলে অভিযোগ করেন তারা।

একইভাবে বাংলাদেশ শ্রম আইন-২০০৬-এর ২(৬২) ধারায় সংজ্ঞায়িত ‘শিল্প বিরোধ এবং শিল্প বিরোধ নিষ্পত্তি’ সংক্রান্ত ২০৯, ২১০ ও ২১১ ধারা রহিত করার মাধ্যমে শ্রমিক-কর্মচারীদের অধিকার আদায়ে প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করা সিবিএ নেতাদের ক্ষমতা খর্ব করার চেষ্টা করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করা হয়।

এ ছাড়া খনিজ সম্পদ বিভাগ থেকে গত ২৬ জুলাই জারি করা এক অফিস আদেশে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের পরিচালককে (অপারেশন) আহ্বায়ক করে আট সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। তেল বিপণন কোম্পানিগুলোতে বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠনের কার্যক্রম মনিটরিং এবং জবাবদিহির বিষয়ে সুপারিশ চাওয়ায় স্পর্শকাতর এই খাতের শ্রমিকদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে বলে জানান নেতারা।

বিজ্ঞাপন

অন্যদিকে বিভিন্ন কোম্পানিতে বেশ কিছু শ্রমিক কোম্পানি-সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারের অধীনে ‘নো ওয়ার্ক, নো পে’ ভিত্তিতে অল্প বেতনে কাজ করে আসছেন। তবে নতুন করে লোকবল নিয়োগের ক্ষেত্রে তাদের অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে না বলেও অভিযোগ করা হয়।

জেওসিএল লেবার ইউনিয়নের সভাপতি আবুল হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে সংগঠনের নেতারা ছাড়াও জ্বালানি খাতের বিভিন্ন শ্রমিক-কর্মচারী বক্তব্য দেন।

প্রসঙ্গত, বাংলাদেশ অয়েল অ্যান্ড ওয়ার্কার্স ফেডারেশন জ্বালানি তেল ও গ্যাস খাতের শ্রমিক-কর্মচারীদের শীর্ষ সংগঠন। বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন, পদ্মা অয়েল কোম্পানি লিমিটেড, মেঘনা পেট্রোলিয়াম করপোরেশন লিমিটেড, যমুনা অয়েল কোম্পানি লিমিটেড, ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেড, স্ট্যান্ডার্ড এশিয়াটিক অয়েল কোম্পানি লিমিটেড এবং এলপি গ্যাস লিমিটেডের সিবিএ সংগঠনগুলোকে নিয়ে এই সম্মিলিত সংগঠন গঠিত।

জেবি/এসডি

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD