Logo

জনগণের ভোগান্তি নিরসনে লং মার্চে অংশ নিচ্ছে এনসিপি: আখতার

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১৮:২২
জনগণের ভোগান্তি নিরসনে লং মার্চে অংশ নিচ্ছে এনসিপি: আখতার
ছবি: সংগৃহীত

জনগণের ভোগান্তি কমানো এবং গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবিতে ১১ দলীয় ঐক্যের ব্যানারে ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম পর্যন্ত লং মার্চে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) অংশ নিচ্ছে বলে জানিয়েছেন দলটির সদস্য সচিব আখতার হোসেন।

বিজ্ঞাপন

বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা জানান।

আখতার হোসেন বলেন, ১১ দলীয় ঐক্যের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আগামী ৫ সেপ্টেম্বর ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম পর্যন্ত লং মার্চ অনুষ্ঠিত হবে। কর্মসূচিটি কীভাবে বাস্তবায়ন করা হবে এবং এতে এনসিপির অংশগ্রহণ কীভাবে থাকবে, তা নিয়ে দলের পক্ষ থেকে বৈঠক করা হয়েছে।

তিনি জানান, এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের সভাপতিত্বে দলের অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাদের নিয়ে বৈঠকে লং মার্চে অংশগ্রহণের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। দেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে জনগণের ভোগান্তি দূর করা এবং গণভোটের রায় কার্যকর করার লক্ষ্যেই এই কর্মসূচিতে অংশ নিচ্ছে এনসিপি।

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

আখতার হোসেন বলেন, সরকার গঠনের ছয় মাস পার হলেও এই সময়ে গণভোটের রায় বাস্তবায়নে কার্যকর অগ্রগতি দেখা যায়নি। একই সঙ্গে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণ, বিদ্যুৎ, তেল, গ্যাস ও সারের সরবরাহ নিশ্চিত এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার ক্ষেত্রেও সরকার প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেনি।

তিনি বলেন, জনগণের বিভিন্ন দাবি সংসদে তুলে ধরা হচ্ছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত এসব দাবি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করার মতো মানসিকতা সরকারের মধ্যে দেখা যাচ্ছে না।

বিজ্ঞাপন

বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট নিয়ে অভিযোগ

জ্বালানি সংকটের প্রসঙ্গে এনসিপির সদস্য সচিব বলেন, সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর জ্বালানির দাম বাড়ানো হয়েছে। কয়েক দফায় বিদ্যুতের দামও বাড়ানো হয়েছে। এরপরও দেশের বিভিন্ন এলাকায় নিয়মিত লোডশেডিং হচ্ছে।

তার দাবি, গ্রামাঞ্চলের কোথাও কোথাও দিনে ১২ থেকে ১৪ ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ থাকছে না। কোনো কোনো এলাকায় এর চেয়েও বেশি সময় বিদ্যুৎহীন থাকতে হচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

তিনি বলেন, গ্রামে গিয়ে মানুষের সঙ্গে কথা বলেই এসব তথ্য জানা গেছে। কৃষকেরা সার সংকটে পড়েছেন। এমন সময়ে সার না পেলে কৃষি উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এর ফলে ভবিষ্যতে খাদ্যসংকটের মতো পরিস্থিতিও তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।

গ্যাস সংকটের কারণে শিল্প-কারখানার কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন আখতার হোসেন। পাশাপাশি বাসাবাড়িতে রান্নার কাজে গ্যাসের ওপর নির্ভরশীল মানুষও সমস্যায় পড়েছেন বলে তিনি উল্লেখ করেন।

বিজ্ঞাপন

তার ভাষ্য, সামগ্রিকভাবে জ্বালানি খাতে সরকার ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে এবং সেই ব্যর্থতা আড়াল করার চেষ্টা করা হচ্ছে।

সরকারের বিদ্যুৎ পরিস্থিতি নিয়ে দেওয়া বক্তব্যের সমালোচনা করে তিনি বলেন, বিদ্যুৎ সংকট বা লোডশেডিং নেই—এ ধরনের বক্তব্য বাস্তব পরিস্থিতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। বিদ্যুৎ সরবরাহে মানুষের যে দুর্ভোগ হচ্ছে, সেটিকে ভিন্নভাবে ব্যাখ্যা করে আড়াল করার চেষ্টা চলছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ

বিজ্ঞাপন

দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন আখতার হোসেন। তার দাবি, বিভিন্ন এলাকায় চাঁদাবাজি, ছিনতাই ও রাহাজানির মতো ঘটনা ঘটছে।

তিনি একটি সাম্প্রতিক ঘটনার উদাহরণ দিয়ে বলেন, চিকিৎসার জন্য ঢাকায় আসা এক শিক্ষিকা সংসদ ভবনের সামনে ছিনতাইকারীর হামলার শিকার হয়ে রাস্তায় পড়ে আহত হন এবং পরে তার মৃত্যু হয়।

আখতার হোসেন বলেন, এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে যে রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ এলাকা থেকে শুরু করে প্রত্যন্ত গ্রাম পর্যন্ত কোথাও মানুষ নিজেকে পুরোপুরি নিরাপদ মনে করতে পারছেন না।

বিজ্ঞাপন

চাঁদাবাজির ব্যাপকতার সমালোচনা করে তিনি বলেন, পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে চারণভূমিতে মহিষ চরাতেও চাঁদা দিতে হচ্ছে।

জুলাই গণ-অভ্যুত্থান প্রসঙ্গে সমালোচনা

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের প্রসঙ্গ তুলে এনসিপির এই নেতা বলেন, ২০২৪ সালের অভ্যুত্থানের সময় দেশের মানুষকে ভয়াবহ পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে। তার অভিযোগ, ওই সময়ে মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটিত হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

তিনি দাবি করেন, এসব ঘটনার আসামিদের আদালতে হাজির করার সময় তাদের মধ্যে অনুশোচনার পরিবর্তে হাস্যোজ্জ্বল উপস্থিতি দেখা যাচ্ছে। একই সঙ্গে বিভিন্নভাবে মানবতাবিরোধী অপরাধে অভিযুক্তদের সাজা কমিয়ে দেওয়ার অভিযোগও করেন তিনি।

সরকারের প্রশাসনিক নিয়োগ নিয়েও সমালোচনা করেন আখতার হোসেন। তার অভিযোগ, সিটি করপোরেশন থেকে ইউনিয়ন পরিষদ পর্যন্ত বিভিন্ন পর্যায়ে ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীদের পদায়ন করা হচ্ছে। ইউনিয়ন পরিষদসহ বিভিন্ন স্থানীয় ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে দলীয় নেতাকর্মীদের প্রশাসক হিসেবে বসিয়ে প্রতিষ্ঠানগুলো নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার চেষ্টা চলছে বলেও দাবি করেন তিনি।

মানবাধিকার ও গুম প্রতিরোধ আইন নিয়ে প্রশ্ন

মানবাধিকার কমিশন এবং গুম প্রতিকার ও প্রতিরোধসংক্রান্ত আইন নিয়েও সরকারের সমালোচনা করেন এনসিপির সদস্য সচিব। তিনি বলেন, সরকার যে নতুন প্রত্যাশার কথা বলেছিল, তার দিকে এগিয়ে যাওয়ার পরিবর্তে দেশকে পেছনের দিকে নেওয়ার ব্যবস্থা করা হচ্ছে।

তার দাবি, শক্তিশালী আইন প্রণয়নের কথা বলা হলেও প্রস্তাবিত আইনগুলো এমনভাবে তৈরি করা হচ্ছে, যাতে গুম, খুন, মানবাধিকার লঙ্ঘন ও মানবতাবিরোধী অপরাধের সঙ্গে জড়িতদের যথাযথভাবে বিচারের আওতায় আনার সুযোগ সীমিত হয়ে যায়।

দ্রব্যমূল্য ও সংকট নিয়ে জনগণের কাছে যাওয়ার ঘোষণা

দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, সার, বিদ্যুৎ ও গ্যাসের সংকটসহ নানা সমস্যায় সাধারণ মানুষের জীবন দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে বলে মন্তব্য করেন আখতার হোসেন।

তিনি বলেন, ১১ দলীয় ঐক্য জনগণের কাছে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। দেশের বিভিন্ন প্রান্তে গিয়ে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ ও দাবিগুলো তুলে ধরা হবে এবং সেগুলো গণমাধ্যম ও সরকারের সামনে উপস্থাপন করা হবে।

লং মার্চের কর্মসূচি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ইতোমধ্যে বিভাগীয় সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। এবার বিভিন্ন বিভাগ থেকে লং মার্চের উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু হয়েছে। সরকারকে প্রয়োজনীয় সময় দেওয়ার জন্য তারা এখনও প্রস্তুত। তবে সেই সময় জনগণের কল্যাণে ন্যায্যভাবে কাজে লাগাতে হবে।

জেবি/জেএইচআর

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD