Logo

শেখ হাসিনা পালিয়ে গিয়েও দেশকে অস্থির করার চেষ্টা করছে

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ২০:৫৪
শেখ হাসিনা পালিয়ে গিয়েও দেশকে অস্থির করার চেষ্টা করছে
ছবি: সংগৃহীত

শেখ হাসিনা দেশ ছেড়ে চলে গেলেও দেশের পরিস্থিতি অস্থির করার চেষ্টা করছেন বলে মন্তব্য করেছেন বিরোধী দলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, দেশ ছাড়ার পরও শেখ হাসিনা বিভিন্ন বক্তব্যের মাধ্যমে মানুষকে উসকানি দিচ্ছেন এবং রাজনৈতিক অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা করছেন।

বিজ্ঞাপন

বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) রাতে জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনের সমাপনী বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

শেখ হাসিনার প্রসঙ্গ তুলে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘শেখ হাসিনা দেশ ছেড়ে চলে গেলেও শান্তি দেননি। পালিয়ে গিয়েও এই জাতিকে বারবার বিরক্ত করে, উসকানি দিচ্ছে, সমাজ এবং দেশকে অস্থির করার চেষ্টা করছে। এই আসি, ওই আসি, আসি আসি বলেন তো গেলেন কেন? থাকতেন, রাজনীতি করতেন।’

অপরাধের বিচার মোকাবিলা না করে দেশ ছেড়ে পালিয়ে যাওয়ার সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘অপরাধ করলে অপরাধের শাস্তি নেওয়া উচিত, কিন্তু অপরাধীরা তো দেশ ছেড়ে পালিয়ে যায়। পালায় কে? পালায় যে দোষী, পালায় যে অপরাধী, পালায় যে চোর, পালায় যে লুটেরা। তারা শুধু পালায়। কোনো সৎ মানুষ পালায় না। সৎ মানুষরা দেশে থাকে। ফাঁসি হলে ফাঁসি নেবে, খুন হলে খুন হবে, জেলে নিলে জেলে যাবে, কিন্তু দেশ ছেড়ে পালাবে না।’

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

২০২৪ সালের আন্দোলনের প্রসঙ্গ তুলে বিরোধী দলীয় নেতা বলেন, ওই আন্দোলনের মুখে শেখ হাসিনা ও তার সরকারকে দেশ ছাড়তে হয়েছিল। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘২০২৪ সালের আন্দোলনের মুখে ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা এবং তার সরকারকে দেশ ছেড়ে পালাতে হয়। আল্লাহ তায়ালার শুকরিয়া আদায় করি, আলহামদুলিল্লাহ।’

শেখ হাসিনার প্রতি ইঙ্গিত করে তিনি আরও বলেন, ‘যদি বিশ্বাস করেন এই দেশকে জাতিকে ভালোবাসেন, তাহলে মাটি কামড়ে থাকতেন। অপরাধ করলে অপরাধের শাস্তি নিতেন, না করলে নিজেকে পরিষ্কার করতেন।’

বিজ্ঞাপন

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ২০২৪ সালের আন্দোলনের সফলতার পেছনে তরুণদের নেতৃত্বের পাশাপাশি দেশের মানুষের ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টা ছিল। আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়া তরুণদের অভিনন্দন জানান তিনি। একই সঙ্গে রাজনৈতিক বিভিন্ন পক্ষ আন্দোলনে যুক্ত হওয়ায় তাদেরও শুভেচ্ছা জানান।

তিনি বলেন, ‘এইভাবে সারা দেশবাসীর ঐক্যবদ্ধ একটি প্রয়াসের সামনে ফ্যাসিবাদ পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়।’

ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্কের প্রসঙ্গও তার বক্তব্যে উঠে আসে। প্রতিবেশী দেশ হিসেবে বাংলাদেশের প্রতি ভারতের অবদান অস্বীকার করা হয় না উল্লেখ করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, বাংলাদেশের জনগণের স্বার্থের পরিপন্থি কোনো কর্মকাণ্ড মেনে নেওয়া হবে না।

বিজ্ঞাপন

তিনি বলেন, ‘তাদেরকে রাজনৈতিক অপতৎপরতা চালানোর সুযোগ দেবে। এটা আমাদেরকে ব্যতীত করে। তারা আমাদের সঙ্গে সৎসম্পর্ক চান। আমরাও চাই। প্রতিবেশীর সুসম্পর্ক করতে চান আমরাও চাই। যদি আমরা সৎ প্রতিবেশী হতে চাই তাহলে উভয় পক্ষকেই আমাদের সদিচ্ছা ব্যক্ত করতে হবে।’

সীমান্ত পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন বিরোধী দলীয় নেতা। তিনি বলেন, ‘আমরা আর সীমান্তে কাঁটাতারে ফেলানের লাশ দেখতে চাই না। নির্বিচারে আমাদের দেশের নাগরিকদের একটা ঘরে নিয়ে হত্যা করবে এটা আমরা দেখতে চাই না। উত্তরবঙ্গের কান্না তিস্তার কোনো সমাধান হবে না। এটা আর আমরা সহ্য করতে রাজি নই।’

দীর্ঘ বক্তব্যে ডা. শফিকুর রহমান বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের বিভিন্ন অধ্যায় নিয়েও কথা বলেন। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ, ১৯৯০ সালের গণআন্দোলন, ২০০৮ সালের নির্বাচন-পরবর্তী রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং আওয়ামী লীগ সরকারের দীর্ঘ শাসনামলের বিভিন্ন বিষয় তিনি তুলে ধরেন।

বিজ্ঞাপন

২০২৪ সালের আন্দোলনের প্রসঙ্গে তিনি দাবি করেন, জাতিসংঘের তথ্যানুযায়ী ওই আন্দোলনে কমপক্ষে ১ হাজার ৪০০ মানুষ নিহত এবং প্রায় ২০ হাজার মানুষ পঙ্গুত্ববরণ করেছেন।

বিরোধী দলীয় নেতা বলেন, তরুণদের নেতৃত্বে গড়ে ওঠা ওই আন্দোলন শেষ পর্যন্ত তৎকালীন সরকারকে ক্ষমতা ছাড়তে এবং শেখ হাসিনাকে দেশ ছাড়তে বাধ্য করে।

জেবি/জেএইচআর

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD