মারামারি নয়, আওয়ামী লীগকে রাজনীতিতেই মোকাবিলা করবে বিএনপি

কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগকে বিএনপি রাজনৈতিকভাবেই মোকাবিলা করবে বলে জানিয়েছেন দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়। তবে এই মোকাবিলা কোনো ধরনের মারামারি বা সংঘাতের মাধ্যমে হবে না বলে স্পষ্ট করেছেন তিনি।
বিজ্ঞাপন
মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন গয়েশ্বর চন্দ্র রায়।
তিনি বলেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের ঘটনার মধ্য দিয়ে দেশ থেকে স্বৈরাচারকে সরানো সম্ভব হয়েছে। কেউ স্বেচ্ছায় ক্ষমতা ছেড়েছে—এমনটি বলা হলেও আন্দোলন ও জনগণের চাপের মুখেই তৎকালীন সরকারকে সরে যেতে হয়েছে।
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, আওয়ামী লীগের অনেক নেতা-কর্মী দেশের বাইরে বা আত্মগোপনে গেলেও তাদের রাজনৈতিক চরিত্র ধারণকারী কিছু ব্যক্তি এখনো সক্রিয় রয়েছে বলে তারা মনে করেন। বিভিন্ন সময়ে তাদের কর্মকাণ্ডের আলামতও দেখা যাচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি।
তার অভিযোগ, কোথাও কোথাও জনজীবনে অস্থিরতা সৃষ্টি এবং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা হচ্ছে। ভোরবেলায় ককটেল বিস্ফোরণ ও বোমা ফাটানোর মতো ঘটনাও ঘটছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
বিজ্ঞাপন
বিএনপির এই নেতা বলেন, দেশের মানুষকে আশ্বস্ত করতে চান যে জাতীয়তাবাদী দলের সব স্তরের নেতাকর্মী জনগণের পাশে রয়েছে। কোনো পরিস্থিতিতেই গণতন্ত্রের অগ্রযাত্রা বাধাগ্রস্ত হতে দেওয়া হবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব প্রশাসনের উল্লেখ করে গয়েশ্বর বলেন, যারা গোপনে নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত, তাদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে হবে। একই সঙ্গে জননিরাপত্তার স্বার্থে সাধারণ মানুষকেও সচেতন থাকার আহ্বান জানান তিনি।
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের রাজনৈতিক আদর্শের প্রসঙ্গ তুলে গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, বহুদলীয় গণতন্ত্র, স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের যে লক্ষ্য ছিল, তা পুনঃপ্রতিষ্ঠার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে বলে তিনি মনে করেন।
শ্রদ্ধা নিবেদন কর্মসূচিতে বিএনপির নির্বাহী কমিটির স্বেচ্ছাসেবকবিষয়ক সম্পাদক মীর সরফত আলী সপু, ধর্মবিষয়ক সম্পাদক ও সংসদ সদস্য রফিকুল ইসলাম জামাল, জিয়া মঞ্চের কেন্দ্রীয় নেতারা এবং ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ বিএনপির নেতারা উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া ঢাকা বিভাগের বিভিন্ন জেলা ও মহানগরের নেতাকর্মীরাও কর্মসূচিতে অংশ নেন।
বিজ্ঞাপন
গয়েশ্বরের বক্তব্যের মূল বিষয় ছিল রাজনৈতিক বিরোধকে সংঘাতের বদলে রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় মোকাবিলার কথা। সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও গণতান্ত্রিক পরিবেশ বজায় রাখার ওপরও তিনি গুরুত্ব দেন।








