জামায়াত-এনসিপির আশকারায় সক্রিয় হচ্ছে আওয়ামী লীগ: রাশেদ খাঁন

নানামুখী ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে বিএনপিকে চাপে ফেলার চেষ্টা চলছে বলে অভিযোগ করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খাঁন। তিনি বলেছেন, ১৬ বছরে তৈরি হওয়া পতিত স্বৈরাচারের দোসরদের আশকারা দিয়ে মাঠে সক্রিয় করছে জামায়াত-এনসিপি। ক্ষমতা দখলের স্বার্থে এরা গণহত্যাকারী আওয়ামী লীগকেও নরমালাইজ করছে।
বিজ্ঞাপন
মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক দীর্ঘ পোস্টে এসব অভিযোগ করেন রাশেদ খাঁন। তিনি দাবি করেন, ২০২৪ ও ২০২৫ সালে আওয়ামী লীগের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অনেকে নীরব থাকলেও সাম্প্রতিক সময়ে তাদের কয়েকজন আবার প্রকাশ্যে সক্রিয় হচ্ছেন।
এ প্রসঙ্গে সাবেক সংসদ সদস্য ও ক্রিকেটার মাশরাফি বিন মর্তুজার একটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্টের কথা উল্লেখ করেন তিনি। একই সঙ্গে সাবেক এক পুলিশ কর্মকর্তার প্রসঙ্গ টেনে প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে আওয়ামী লীগ সরকারের সময় তৈরি হওয়া প্রভাবশালী ব্যক্তিদের নিয়েও অভিযোগ তোলেন।
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
রাশেদ খাঁনের দাবি, আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের ফের সক্রিয় হওয়ার পেছনে বর্তমান বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর কর্মকাণ্ড ভূমিকা রাখছে।
তিনি অভিযোগ করেন, রাজনৈতিক কর্মসূচি ও সরকারবিরোধী আন্দোলনের সুযোগ নিয়ে আওয়ামী লীগের সংশ্লিষ্টরা বাস-ট্রেনে আগুন, ককটেল বিস্ফোরণ ও ঝটিকা মিছিলের মতো কর্মকাণ্ডে যুক্ত হচ্ছে। এসব অভিযোগের পক্ষে তার পোস্টে পৃথক কোনো তদন্ত প্রতিবেদন উপস্থাপন করা হয়নি।
বিজ্ঞাপন
রাজধানীর রাড্ডা ক্লিনিক ও নিউ গিনি প্রোপার্টিজে হামলার ঘটনাও নিজের বক্তব্যে তুলে ধরেছেন রাশেদ খাঁন। তিনি এসব ঘটনাকে সরকারের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক ষড়যন্ত্রের অংশ বলে দাবি করেন। তবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রাথমিক বক্তব্যে নিউ গিনি প্রোপার্টিজের ঘটনায় জমি নিয়ে বিরোধের বিষয়টি সামনে এসেছে।
বিএনপির বিরুদ্ধে অতীতে ষড়যন্ত্রের অভিযোগ তুলে রাশেদ খাঁন বলেন, বিভিন্ন সময়ে দলটির ভেতরে বিভ্রান্তি তৈরি এবং দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে প্রার্থী দাঁড় করানোর মাধ্যমে বিএনপিকে দুর্বল করার চেষ্টা করা হয়েছিল। তিনি দাবি করেন, এসব কর্মকাণ্ডের উদ্দেশ্য ছিল নির্বাচনে বিএনপির সম্ভাবনাকে ক্ষতিগ্রস্ত করা।
নিউ গিনি প্রোপার্টিজে হামলার ঘটনায় জামায়াতের এক এমপির জামাতার গ্রেপ্তারের প্রসঙ্গও উল্লেখ করেন তিনি। একই সঙ্গে সালমান মুক্তাদিরের মামলা করা নিয়ে দেওয়া বক্তব্যের সঙ্গে পরবর্তী তথ্যের পার্থক্য রয়েছে বলে দাবি করেন রাশেদ খাঁন। এ বিষয়ে তার বক্তব্যকে ব্যক্তিগত রাজনৈতিক দাবি হিসেবেই উল্লেখ করা হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
আরও পড়ুন
রাশেদ খাঁন আরও বলেন, বিএনপি বড় রাজনৈতিক দল হওয়ায় ক্ষমতায় থাকা বা রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারের সময়ে বিভিন্ন ধরনের সুবিধাবাদী ব্যক্তি দলে যুক্ত হতে পারেন। রাড্ডা ক্লিনিকের ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিএনপির সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার যে আলোচনা তৈরি হয়েছে, তার পেছনেও তিনি ষড়যন্ত্রের অভিযোগ তুলেছেন।
বিজ্ঞাপন
পোস্টের শেষাংশে রাশেদ খাঁন আবারও দাবি করেন, জামায়াত ও এনসিপির কর্মকাণ্ডের সুযোগ নিয়ে আওয়ামী লীগের সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা রাজনৈতিকভাবে সক্রিয় হওয়ার চেষ্টা করছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দলগুলোর বক্তব্য তার পোস্টে উল্লেখ করা হয়নি।








