Logo

সরকারের সিদ্ধান্ত গরিবের পেটে লাথি মারে, সাক্ষী ডিমের দাম

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
৬ অক্টোবর, ২০২৬, ২৩:২৮
সরকারের সিদ্ধান্ত গরিবের পেটে লাথি মারে, সাক্ষী ডিমের দাম
নাহিদ ইসলাম । ফাইল ছবি

মানুষের আয় না বাড়লেও জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়েছে—এমন মন্তব্য করে সরকারের বিভিন্ন নীতির সমালোচনা করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেছেল, সরকারের একেকটা সিদ্ধান্ত কীভাবে গরিবের পেটে লাথি মারে, ডিমের দাম তার সাক্ষী।

বিজ্ঞাপন

মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে এসব কথা লেখেন নাহিদ ইসলাম।

তিনি লেখেন, একটা ডিম ১৫ টাকা। এই চার শব্দের বাক্যটা আজ বাংলাদেশের কোটি নিম্নবিত্ত আর নিম্ন-মধ্যবিত্ত পরিবারের কাছে একটা আতঙ্কের নাম। যাদের প্রতিবেলায় মাছ-মাংস কেনার সামর্থ্য নেই, তাদের প্রোটিনের একমাত্র ভরসা এই ডিম। হলে থাকা ছাত্র, মেসে থাকা ব্যাচেলর তরুণের জন্য ডিম মানে লাইফলাইন। সেই ডিমের হালি এখন ৫৫ টাকা।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

নাহিদ ইসলাম আরও লেখেন, ডিমের দাম একা বাড়েনি। চাল, আটা, তেল, চিনি, মুরগি, মাছ, সবজি—প্রায় প্রতিটি মৌলিক খাদ্যপণ্যের দাম বেড়েছে। ব্রয়লার মুরগির কেজি ২০০ টাকা। কদিন আগে বেড়েছে দুধের দাম। মানুষের আয় বাড়েনি, কিন্তু বেঁচে থাকার খরচ বেড়েছে। তার মতে, সরকারের বিভিন্ন সিদ্ধান্তের প্রভাবেই এ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।

এনসিপির আহ্বায়ক ডিমের দাম বৃদ্ধির পেছনে তিনটি কারণ তুলে ধরেন। প্রথম কারণ হিসেবে তিনি বাজেটের কথা উল্লেখ করেন। তার দাবি, নির্বাচনের আগে তারেক রহমান মেগা প্রকল্প নিয়ে যে বক্তব্য দিয়েছিলেন, তার পরও বড় বাজেট করা হয়েছে। একই সঙ্গে ধনীদের কর ফাঁকি বন্ধ বা তাদের কর বাড়ানোর বিষয়ে কার্যকর পরিকল্পনা নেই বলেও তিনি অভিযোগ করেন।

বিজ্ঞাপন

তার ভাষ্য, বাড়তি অর্থের সংস্থান করতে ভ্যাট বাড়ানো, ঋণ নেওয়া অথবা টাকা ছাপানোর পথ বেছে নিলে এর প্রভাব শেষ পর্যন্ত সাধারণ মানুষের ওপর পড়ে। ভ্যাট বাড়লে পণ্যের দাম বাড়ে, আর টাকা ছাপালে মূল্যস্ফীতি বাড়তে পারে। ঋণের ক্ষেত্রেও সুদসহ তা পরিশোধের চাপ তৈরি হয় বলে উল্লেখ করেন তিনি।

দ্বিতীয় কারণ হিসেবে জ্বালানি ব্যয়ের কথা তুলে ধরে নাহিদ ইসলাম বলেন, বিদ্যুৎ ও জ্বালানির দাম বাড়লে সেচ, পোলট্রি, মাছ চাষ, হিমাগার, পরিবহন ও ব্যবসার মতো বিভিন্ন খাতে একযোগে উৎপাদন ও পরিচালন ব্যয় বেড়ে যায়। শেষ পর্যন্ত সেই বাড়তি ব্যয়ের চাপ ভোক্তাকেই বহন করতে হয় বলে তিনি মন্তব্য করেন।

তৃতীয় কারণ হিসেবে তিনি সিন্ডিকেট ও রাজনৈতিক চাঁদাবাজির কথা উল্লেখ করেন। তার অভিযোগ, এসব কারণে উৎপাদন খরচের তুলনায় অনেক বেশি দামে পণ্য কিনতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে।

বিজ্ঞাপন

নাহিদ ইসলাম বলেন, জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়ার সবচেয়ে বড় চাপ পড়ে নিম্নবিত্ত ও মধ্যবিত্তের ওপর। কারণ তাদের আয়ের বড় অংশই মৌলিক প্রয়োজন মেটাতে ব্যয় হয়ে যায়। ব্যয় সামান্য বাড়লেও তাদের সামনে প্রয়োজনীয় কোন পণ্যটি বাদ দেওয়া যায়—সে কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হয় বলে তিনি উল্লেখ করেন।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

তবে পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিকল্প নীতির সুযোগ ছিল বলেও দাবি করেন এনসিপির আহ্বায়ক। তার ভাষ্য, ধনীদের কর ফাঁকি বন্ধ করা, অপ্রয়োজনীয় মেগা প্রকল্প এড়িয়ে যাওয়া, মধ্যবিত্তের কর কমানো, নিত্যপণ্যে ভ্যাট প্রত্যাহার এবং পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ পরিস্থিতিতে জ্বালানিতে অতিরিক্ত ভর্তুকির মতো পদক্ষেপ নেওয়া যেত।

সরকার এসব পথে না গিয়ে ভিন্ন নীতি অনুসরণ করছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। তার দাবি, এসব সিদ্ধান্তের সুফল একটি অংশ পেলেও এর বিপরীতে সাধারণ মানুষের ওপর নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাড়তি দামের চাপ তৈরি হচ্ছে।

পোস্টের শেষাংশে তিনি নিম্নবিত্ত পরিবারের খাদ্যসংকটের চিত্র তুলে ধরে বলেন, কোটি মা রাতে ১৫ টাকার একটি ডিম ভেজে কয়েক ভাগ করে সন্তানদের পাতে তুলে দেবেন।

জেবি/এএস

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD