Logo

আমরা ভারতবিরোধী নই: আসিফ মাহমুদ

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
৮ অক্টোবর, ২০২৬, ২১:৪৪
আমরা ভারতবিরোধী নই: আসিফ মাহমুদ
ছবি: সংগৃহীত

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া বলেন, আমরা ভারতবিরোধী নই; বরং আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে। বাংলাদেশের স্বার্থকে প্রাধান্য দিয়ে যেকোনো দেশের সঙ্গে সম্পর্ক ও চুক্তি করার পক্ষে অবস্থান বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

বিজ্ঞাপন

বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) বিকেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) আর সি মজুমদার অডিটোরিয়ামে শহীদ আবরার ফাহাদের সপ্তম শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত ‘আবরার ফাহাদ : দিল্লির আধিপত্যবাদ’ শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

আসিফ মাহমুদ বলেন, ফ্যাসিবাদী শাসনামলে বাংলাদেশের বিভিন্ন নীতিতে দেশের স্বার্থের চেয়ে ভারতের স্বার্থকে গুরুত্ব দেওয়ার অভিযোগ উঠেছিল। এ কারণে তাদের অবস্থানকে ভারতবিরোধিতা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। তাদের মূল অবস্থান আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে।

ভারতের সঙ্গে বর্তমান সরকারের নীতিগত অবস্থানও এখনো পুরোপুরি স্পষ্ট নয় বলে মন্তব্য করেন তিনি। আধিপত্যবিরোধী রাজনীতির ভবিষ্যৎ বুঝতে আবরার ফাহাদের চিন্তা ও তার ‘আট স্তম্ভের’ ধারণাগুলো বোঝা প্রয়োজন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

অন্তর্বর্তী সরকারের সময় নিজের নানা অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে আসিফ মাহমুদ বলেন, প্রায় ৮ হাজার তরুণকে প্রশিক্ষণ দেওয়ার উদ্যোগ বাস্তবায়ন করতে গিয়ে তিনি বড় ধরনের বাধার মুখে পড়েছিলেন। কাঠের অস্ত্রের পাশাপাশি তাইকোয়ান্দো, কারাতে ও অন্যান্য আত্মরক্ষামূলক প্রশিক্ষণের পরিকল্পনা নিয়েও নানা সমালোচনা ও প্রতিবন্ধকতা তৈরি হয়েছিল বলে দাবি করেন তিনি।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের বিপুলসংখ্যক তরুণের তুলনায় তিন বছরে ৮ হাজার তরুণকে প্রশিক্ষণ দেওয়ার পরিকল্পনা খুব বড় কোনো উদ্যোগ নয়। দেশ বর্তমানে ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ডের সময় পার করছে উল্লেখ করে তিনি তরুণদের সম্ভাবনাকে কাজে লাগানোর ওপর গুরুত্ব দেন।

রাজনীতিতে ব্যক্তিগত স্বার্থের কারণে অনেকে নৈতিক অবস্থান থেকে সরে যেতে পারেন বলেও মন্তব্য করেন এনসিপির এই নেতা। তার ভাষ্য, কেউ যদি মনে করেন ভারতের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা তার রাজনৈতিক পদ, মনোনয়ন বা মন্ত্রিত্ব পাওয়ার ক্ষেত্রে সুবিধা দেবে, তাহলে ব্যক্তিগত স্বার্থের কারণে তিনি ধীরে ধীরে একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক বলয়ের মধ্যে ঢুকে যেতে পারেন।

বিজ্ঞাপন

সিকিমের উদাহরণ টেনে আসিফ মাহমুদ বলেন, কোনো ব্যক্তি, গোষ্ঠী বা রাজনৈতিক দলের নৈতিক অবস্থানের দুর্বলতা শেষ পর্যন্ত একটি রাষ্ট্রের ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে। আধিপত্যবাদের কাছে রাজনৈতিকভাবে পরাজয় মেনে নিলে এর পরিণতি রাষ্ট্রীয় পর্যায়েও ভয়াবহ হতে পারে বলে তিনি সতর্ক করেন।

চট্টগ্রাম বন্দরের এনসিটি পরিচালনায় ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে সরকারের চুক্তির প্রসঙ্গও তুলে ধরেন তিনি। আসিফ মাহমুদের মতে, কোনো দেশের সঙ্গে চুক্তি করার ক্ষেত্রে মূল প্রশ্ন হওয়া উচিত—বাংলাদেশ কী পাচ্ছে এবং অপর পক্ষ কী পাচ্ছে। দেশের স্বার্থে চুক্তিটি লাভজনক হলে এবং বড় কোনো ঝুঁকি না থাকলে সেটিকে নেতিবাচকভাবে দেখার কারণ নেই।

ভারতের সঙ্গেও একই নীতিতে চুক্তি হতে পারে উল্লেখ করে তিনি বলেন, পদ্মা, ব্রহ্মপুত্র ও তিস্তার পানিবণ্টন নিয়ে দীর্ঘদিনের সংকট আলোচনার মাধ্যমে যদি বাংলাদেশের জন্য একটি ‘উইন-উইন’ চুক্তিতে পরিণত করা যায়, তাহলে তাতে আপত্তির কারণ নেই।

বিজ্ঞাপন

তিনি বলেন, সমস্যা তখনই, যখন বাংলাদেশের স্বার্থ বিসর্জন দিয়ে অন্য পক্ষকে বড় সুবিধা দেওয়া হয়। শুধু ভারত নয়, বিশ্বের যেকোনো দেশের সঙ্গে এমন কোনো চুক্তির পক্ষে তারা নন, যেখানে দেশের জনগণের স্বার্থকে পিছনে ফেলে অন্য পক্ষকে সুবিধাজনক অবস্থানে নেওয়া হয়।

আসিফ মাহমুদ বলেন, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ও চুক্তির ক্ষেত্রে বাংলাদেশের স্বার্থই সবার আগে থাকতে হবে। ‘সবার আগে বাংলাদেশ’—এটি শুধু বক্তব্যে নয়, বাস্তব কাজেও প্রতিফলিত হওয়া প্রয়োজন।

জেবি/জেএইচআর

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD