৭ নভেম্বরের কর্মসূচিতে যেসব আয়োজন করবে বিএনপি

জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে আগামী ৭ নভেম্বর সারা দেশে বর্ণাঢ্য র্যালিসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। দিবসটি উপলক্ষে দলীয় কার্যালয়ে পতাকা উত্তোলন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন, আলোচনা সভা, পোস্টার প্রকাশ, চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা ও চিত্র প্রদর্শনীর আয়োজন করা হবে।
বিজ্ঞাপন
সোমবার (২৬ অক্টোবর) রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে দলের যৌথসভা অনুষ্ঠিত হয়। সভা শেষে সাংবাদিকদের এসব কর্মসূচির কথা জানান বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী।
রিজভী বলেন, ৭ নভেম্বর বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ দিন। এ দিবসের মূল চেতনা হলো স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও গণতন্ত্র রক্ষা করা।
তিনি বলেন, ১৯৭৫ সালের আগে দেশে রাজনৈতিক সংঘাত ও নানা অনিশ্চয়তার মধ্য দিয়ে জনগণের মধ্যে পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষা তৈরি হয়েছিল। সেই প্রেক্ষাপটেই ৭ নভেম্বরের বিপ্লব সংঘটিত হয়। দিবসটির পর শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান জাতীয় রাজনীতি ও রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার কেন্দ্রে উঠে আসেন বলে মন্তব্য করেন তিনি।
বিজ্ঞাপন
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
১৯৭১ সালে কালুরঘাট থেকে স্বাধীনতার ঘোষণা দেওয়ার প্রসঙ্গ তুলে বিএনপির এই নেতা বলেন, দেশের সংকটময় সময়ে জিয়াউর রহমান জাতিকে দিকনির্দেশনা দিয়েছিলেন।
রিজভীর দাবি, ৭ নভেম্বরের পর দেশে বহুদলীয় গণতন্ত্র, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও সংবাদপত্রের স্বাধীনতা ফিরে আসে। তিনি বলেন, ১৯৭৫ সালের ২৫ জানুয়ারি বাকশাল প্রতিষ্ঠার পর চারটি সংবাদপত্র রেখে বাকি পত্রিকাগুলো বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। এর ফলে বহু সাংবাদিক কর্মহীন হয়ে পড়েন। পরবর্তী সময়ে সংবাদপত্র ও রাজনৈতিক দলগুলো আবার কার্যক্রম পরিচালনার সুযোগ পায় বলে তিনি উল্লেখ করেন।
দেশে গণতন্ত্রের অগ্রযাত্রা বিভিন্ন সময় বাধাগ্রস্ত হয়েছে উল্লেখ করে শেখ হাসিনার শাসনামলের সমালোচনা করেন রিজভী। তাঁর অভিযোগ, ওই সময় রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা ব্যবহার করে বিরোধী মত দমনের চেষ্টা করা হয়েছিল। তবে জনগণের গণতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষা দমন করা সম্ভব হয়নি বলে মন্তব্য করেন তিনি।
বিজ্ঞাপন
জুলাই আন্দোলনের প্রসঙ্গ টেনে রিজভী বলেন, ৭ নভেম্বরের বৈপ্লবিক চেতনা জুলাই আন্দোলনকে প্রভাবিত করেছে। ছাত্র, শ্রমিক ও সাধারণ মানুষ ঐক্যবদ্ধভাবে আন্দোলনে অংশ নিয়েছিলেন। এর মধ্য দিয়ে ৫ আগস্ট ফ্যাসিবাদের পতন ঘটে এবং গণতন্ত্রের পথ আবারও উন্মুক্ত হয় বলে তিনি দাবি করেন।
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
বিএনপির এই নেতা আরও বলেন, ভবিষ্যতে কোনো অগণতান্ত্রিক শক্তি জনগণের ওপর কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করলে ৭ নভেম্বরের চেতনা মানুষকে ঐক্যবদ্ধ হতে অনুপ্রাণিত করবে। স্বাধীনতা, গণতন্ত্র ও ভিন্নমতের অধিকার রক্ষায় দিবসটির তাৎপর্য রয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
যেসব কর্মসূচি পালন করবে বিএনপি
বিজ্ঞাপন
রুহুল কবির রিজভী জানান, বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনগুলোর নেতাদের মতামতের ভিত্তিতে ৭ নভেম্বরের কর্মসূচির খসড়া তৈরি করা হয়েছে। কর্মসূচি অনুযায়ী, সকাল ৬টায় ঢাকাসহ সারা দেশের দলীয় কার্যালয়ে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন করা হবে। এরপর রাজধানীতে কেন্দ্রীয়ভাবে বর্ণাঢ্য র্যালি বের করা হবে। একই সঙ্গে জেলা ও উপজেলা পর্যায়েও র্যালি আয়োজনের নির্দেশনা দেওয়া হবে।
এদিন বেলা ১১টায় শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন, পুষ্পস্তবক অর্পণ ও ফাতেহা পাঠ করবেন দলের নেতারা।
এ ছাড়া বিএনপি ও এর বিভিন্ন অঙ্গসংগঠন পোস্টার প্রকাশ এবং আলোচনা সভার আয়োজন করবে। ছাত্রদলের উদ্যোগে চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা ও চিত্র প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হবে।
বিজ্ঞাপন
আলোচনা সভার সম্ভাব্য তারিখ ৬ নভেম্বর নির্ধারণ করা হয়েছে বলেও জানান রিজভী। তিনি বলেন, বিএনপির চেয়ারম্যান সম্মতি দিলে ওই দিন সভা অনুষ্ঠিত হবে। অন্যথায় চেয়ারম্যান যে তারিখ নির্ধারণ করবেন, সেদিনই আলোচনা সভার আয়োজন করা হবে।








