Logo

ঠাকুরগাঁও উপনির্বাচনে অনিয়ম, বলপ্রয়োগ ও ব্যালটে আগাম সিল মারার অভিযোগ জামায়াতের

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
২৯ অক্টোবর, ২০২৬, ২০:৩৯
ঠাকুরগাঁও উপনির্বাচনে অনিয়ম, বলপ্রয়োগ ও ব্যালটে আগাম সিল মারার অভিযোগ জামায়াতের
ছবি: সংগৃহীত

ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে ব্যাপক অনিয়ম, অব্যবস্থাপনা, বলপ্রয়োগ, দলীয়করণ এবং ব্যালটে আগাম সিল মারার অভিযোগ তুলেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার।

বিজ্ঞাপন

বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) বিকেলে মগবাজারে জামায়াতের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব অভিযোগ করেন। এ সময় দলের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও প্রচার-মিডিয়া বিভাগের সেক্রেটারি এহসানুল মাহবুব জুবায়ের এবং কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য আতাউর রহমান সরকার উপস্থিত ছিলেন।

মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে ভোটারদের কেন্দ্রে যেতে বাধা দেওয়া এবং কেন্দ্রে পৌঁছানোর আগেই তাদের ভোট দেওয়া হয়ে গেছে—এমন তথ্য তারা পেয়েছেন। এ ছাড়া ভোটারদের ভয়ভীতি দেখানো, নির্বাচনী এজেন্টদের দায়িত্ব পালনে বাধা দেওয়া এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের পরিচয়পত্র না থাকার ঘটনাও ঘটেছে। এসব বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের কার্যকর পদক্ষেপ না থাকায় তারা উদ্বিগ্ন।

জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, সরকারদলীয় শীর্ষ পর্যায় থেকে নির্বাচনকে সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণ বলা হলেও গণমাধ্যম এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ছবি ও ভিডিওতে ভিন্ন চিত্র দেখা যাচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে নির্বাচন সুষ্ঠু হয়েছে দাবি করা বাস্তবতার সঙ্গে সংগতিপূর্ণ নয় এবং তা জনগণকে বিভ্রান্ত করতে পারে।

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফাইরুজ ইসলামের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন গোলাম পরওয়ার। তিনি বলেন, নির্দিষ্ট দলের প্রার্থীর পক্ষে অবস্থান নেওয়ার অভিযোগ ওঠার পরও তাকে দায়িত্ব থেকে সরানো হয়নি। নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করতে তাকে প্রত্যাহারের দাবি জানানো হয়েছিল।

তিনি অভিযোগ করেন, বিভিন্ন কেন্দ্রে ভোটারদের ভয়ভীতি দেখানো হয়েছে। এমনকি এক নারী ভোট দিতে গিয়ে জানতে পারেন, তার ভোট আগেই দেওয়া হয়ে গেছে। এ ঘটনার একটি ভিডিও প্রকাশিত হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

হিন্দু সম্প্রদায়ের ভোটারদের মধ্যে বিশেষভাবে ভীতি সৃষ্টি করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল। তার দাবি, সরকারি চাকরিজীবী ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কর্মরত ব্যক্তিদের ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে, দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের পক্ষে কাজ করলে তাদের চাকরি ঝুঁকিতে পড়বে। এতে স্বাধীনভাবে ভোট দেওয়ার অধিকার ক্ষুণ্ন হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

গোলাম পরওয়ার আরও বলেন, নির্ধারিত সময়ের আগে প্রচারণা চালানো এবং ধানের শীষ প্রতীক রঙিনভাবে ব্যবহারের ছবি নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া হয়েছিল। এ ছাড়া জামায়াতের নেতাকর্মীদের মারধর, নারী ভোটারদের বাধা দেওয়া এবং এজেন্টদের কেন্দ্র থেকে বের করে দেওয়ার ঘটনাও ঘটেছে।

নির্বাচনী কর্মকর্তাদের বিষয়ে তিনি অভিযোগ করেন, কয়েকটি কেন্দ্রে প্রিসাইডিং ও পোলিং কর্মকর্তাদের পরিচয়পত্র বা ব্যাজ ছিল না। পরিচয় জানতে চাওয়া হলে তারা যথাযথ পরিচয়পত্র দেখাতে পারেননি। কয়েকটি ব্যালট বইয়ের মুড়িতে আগাম সিল ও স্বাক্ষর করে রাখার প্রমাণও পাওয়া গেছে বলে দাবি করেন তিনি। তার মতে, এ ধরনের অনিয়ম জাল ভোট দেওয়ার সুযোগ তৈরি করেছে। একই সঙ্গে নির্বাচনী এলাকায় অর্থ বিতরণের খবরও পাওয়া গেছে।

এসব অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান গোলাম পরওয়ার।

বিজ্ঞাপন

ভোটকেন্দ্রে সেনাবাহিনী মোতায়েনের দাবি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যসংখ্যা বেশি থাকলেই নির্বাচন নিরপেক্ষ হয় না। তবে ভোটারদের নিরাপত্তা, জাল ভোট প্রতিরোধ ও শৃঙ্খলা রক্ষায় সেনাবাহিনী কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারত।

সবশেষে তিনি বলেন, একটি উপনির্বাচনেই যদি অনিয়মের অভিযোগ কার্যকরভাবে মোকাবিলা করা না যায়, তাহলে ভবিষ্যতে ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা, সিটি করপোরেশন ও উপজেলা পরিষদ নির্বাচন কতটা নিরপেক্ষ হবে, তা নিয়ে বড় প্রশ্ন থেকে যায়।

জেবি/জেএইচআর

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD